ব্যস্ত কর্পোরেট লাইফে আপনিও কি হারিয়ে ফেলেছেন নিজের জীবন?

রোজকার জীবনে ‘ব্যস্ততা’ যেন একটা অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই অভ্যাসের মাঝেই কখন যে হারিয়ে যায় ছোটবেলার অভ্যাসগুলো, কখন যে আমরা বড় হয়ে উঠি তার টেরই পাওয়া যায় না। এক সময়ে এমন একটা জীবন পাওয়ার জন্যই চলে লড়াই, আর এখন সেই জীবনের সাথেই লড়াই। তখন আবার মনে হয় সমস্ত ব্যস্ততা পেড়িয়ে ফিরে যাই পুরনো সেই সব দিনে, ফিরে যাই শৈশবে। আজ যদি হটাৎ সমস্ত ধুলো ঝেড়ে সামনে এসে দাঁড়ায় শৈশব? ঠিক এমনই গল্প নিয়ে আসছে পরিচালক সব্যসাচী ভৌমিক পরিচালিত শর্ট ফিল্ম ‘মিরর অফ রেয়স’। মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করছেন অমৃতা চট্টোপাধ্যায় ও যশোধরা। ছবির গল্প নিয়ে ফোনের ওপারে কথা বললেন পরিচালক সব্যসাচী ভৌমিক –

পর পর বেশ কিছু শর্ট ফিল্ম করলেন, কিছুটা হলেও কি কমফোর্ট জোন এটা? পুরোপুরি একমত না হলেও পরিচালক বলছেন, ‘একটা বাধ্যবাধকতা থাকে বড় ছবিতে, সে জায়গায় অনেকটা স্বাধীনতা থাকে শর্ট ফিল্মে’। কিন্তু ইউটিউব খুললেই এখন শর্ট ফিল্মের ছড়াছড়ি, সে জায়গায় দর্শকের ‘মিরর অফ রেয়স’ কতটা অন্য রকম লাগবে? সব্যসাচী বলছেন, ‘একটা কর্পোরেট কোম্পানির মেয়ের, যখন আয়নায় হটাৎ তার ছেলেবেলার সঙ্গে দেখা হয়, শৈশবের ফেলে আসা আবোল-তাবোল, হযবরল এসবের সাথে তার যে কথপোকথনটা হয় সেইখানে দাঁড়িয়ে নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার একটা গল্প। আলোর ঝলকের মতো যে জীবনটাকে সে প্রতি মূহুর্তে মিস করে, এই কর্পোরেট জীবনের মাঝে সেই জীবনটাকেই ফিরে পাওয়ার গল্প। এই ছবিতে কোনও না কোনও ভাবে সত্যজিত রায় ও সুকুমার রায় এর প্রতি ট্রিবিউট আছে। স্ক্রিপ্টটা পুরোটাই ছন্দে লেখা হয়েছে’।

তাহলে কি আজকের ব্যস্ততায় জর্জরিত মানুষ কোথাও গিয়ে রিলেট করতে পারবে এই ছবির সাথে? ‘সুকুমার রায় কি সত্যজিত রায় এরা বাঙালির বেঁচে থাকার শিকড়, সেই শিকড়কে বাঙালি আজ মিস করছে। যারা তাদের শৈশবকে খুব মিস করেন তারা রিলেট করতে পারবেন’।

অমৃতা চট্টোপাধ্যায় আবারও আপনার শর্ট ফিল্মে, কাজের অভিজ্ঞতা কেমন? সব্যসাচী বলছেন, ‘খুবই ভালো। খুব ইন্টালিজেন্ট মেয়ে। ভীষণ তাড়াতাড়ি সব ব্যপারটা নিয়ে নেয়’। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হতে চলেছে ‘মিরর অফ রেয়স’ এর শ্যুটিং।