আপনি কি অন্ধকারকে ভালোবাসেন ? তাহলে এটা আপনার জন্য আদর্শ !

মরা নিজেদেরকে যতই আধুনিক বলে দাবি করি না কেন আদপে কিন্তু সেটা অনেকটাই মিথ্যে। একজন স্বাধীনচেতা – মর্ডান মেয়ের পক্ষে শহুরে অঞ্চলে এসে থাকাটা বেস দুঃসাধ্য। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় কেউ তার নিজের বাড়িতে একটি মেয়েকে একা আশ্রয় দিতে চায় না। এই বিষয়টার ব্যপারে আমরা কম বেশি সকলেই বেস ওয়াকিবহাল। আর এই বিষয়টার ওপরেই পরিচালক পূর্ণেন্দু দে তৈরি করেছেন একটি শর্টফ্লিম পিপহোল

যদিও পূর্ণেন্দুর এই গল্পের নায়িকা অনেক চেষ্টা করে তার প্রেমিকের সহযোগিতায় শহরে থাকার জন্য মনের মত একটি ঘর জোগার করল। একলা থাকার পরিবেশ হিসেবে এই ঘরটি তার কাছে যথেষ্ট নিরাপদ বলেই মনে হয়েছে। তার এই ঘরের নির্বাচন কি সঠিক ছিল? বাইরের দুরন্ত গতিতে চলা শহুরে জীবন, নাকি ইট-কাঠ-পাথরের তৈরি চার দেয়ালের অন্তরালে লুকিয়ে থাকা অন্য এক কাহিনী! যেখান থেকে বাঁক নিতে থাকে এই গল্পের মোর। একলা নারী হিসেবে তার পক্ষে সেখানে বসবাস করাটা কতটা ঝুকিপুর্ন হয়ে উঠেছিল? ঠিক কি ঘটনা ঘটেছিল তার সাথে? এই ব্যপারে জানতে হলে আপনাকে আর কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে পরিচালক পূর্ণেন্দু দে-র আপকামিং শর্টফ্লিম “পিপহোল” এর রিলিজের জন্য।

এটিই শুধু নয়, পরিচালক এর আগে বেস কিছু কাজ করেছেন যা দর্শকদের অনেক প্রশংসা কুড়িয়েছে। যদিও পরিচালক একটু ডার্ক শেডের ওপড়েই ছবি করতে বেশি পছ ন্দ করেন – কারন তিনি মনে করেন বীজের অন্ধকারেই লুকিয়ে থাকে প্রানের স্পন্দন, যা কিনা অঙ্কুরোদগম হয়ে একদিন শাখা প্রশাখা বিস্তার করে বৃক্ষে পরিনত হয়। আবার মাতৃ জঠরের কুঞ্চিত অন্ধকারে নিরাপদ-নিশ্চিন্তে থাকা শিশুটি অপেক্ষা করে আলোর পথগামী হতে। সুতরাং আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই এই অন্ধকারের গুরুত্ব অনেক!

বিশ্বসংসারে রয়েছে ব্লাকহোল তত্ত্ব, আবার পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলও গভীর অন্ধকার। আর প্রতিনিয়ত আমরা অন্ধকার থেকে আলোর অভীমুখে ধাবিত হয়ে চলেছি। এটাই ফুটে উঠেছে পরিচালকের শিল্প নিদর্শনে। মনের গভীর যে ক্রীয়া চলে আমরা সেখান থেকেই শক্তি সঞ্চয় করি বাইরের জগতের জন্য। তাই পিপহোলের পশ্চাৎ ও সম্মুখে টিকে থাকার নামই হল জীবন।

পিপহোলের মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করছেন রুচীকা চক্রবর্তী ও যোধজিৎ সরকার। এছাড়াও আছেন অনিকেত হালদার, শুভারতী পাল ও অন্যান্যরা। এমন সুন্দর একটা বিষয়ের ওপর স্বল্প দৈর্ঘের ছবির জন্য টিম Gulgal.com এর পক্ষ থেকে পিপহোলের পুরো টিম কে জানাই অনেক শুভেচ্ছা।