‘সেক্রেড গেমস’র বাইরে খোদ কলকাতায় শুরু হল বিতর্কের অন্য গেম !

অনুরাগ
সইফ আলি খান ও নাওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকি অভিনীত‘সেক্রেড গেমসে’র ট্রেলার আসার পর থেকেই সিনেপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয়েছিল উন্মাদনা। ভারতের প্রথম পলিটিক্যাল ড্রামা আখ্যা দিয়ে চলতি মাসের ৬ই জুলাই মার্কিন ওয়েব চ্যানেল নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায় ওয়েব সিরিজটি। শুরু হওয়ার প্রথমদিন থেকেই চর্চার তালিকায়সেক্রেড গেমস। সইফ আলি খান ও নাওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিক ছাড়াও রাধিকা আপ্তে, সুরভীন চাওলা, নিরাজ কবি প্রমুখ সকলেই অভিনয়ের জন্য প্রশংসা পেয়েছেন। কিন্তু, সাফল্যের মাঝেই দানা বেঁধেছে নানা বিতর্ক। ২০০৬ সালে প্রকাশিত বিক্রম চন্দ্রের ক্রাইম-থ্রিলার উপন্যাসের আদলে ওয়েব সিরিজটিপরিচালনা করেছেন অনুরাগ কাশ্যপ ও বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানে। সেখানে তুলে ধরা হয়েছে কংগ্রেস সরকারের শাসনকালের একাধিক বিতর্কিত বিষয়কে। তুলে ধরা হয়েছে মুম্বইয়ের অপরাধ জগতকে।পাশাপাশি, উল্লেখ রয়েছে ইন্দিরা গান্ধীর শাসনে জারি করা জরুরি অবস্থার। ছাপ রয়েছে, বোফর্স কেলেঙ্কারি ও ১৯৮৫-এর শাহ বানো কাণ্ডের। সেখানেই দেখানো হয়েছে এই ঘটনায় কীভাবে নাম জড়িয়েছে রাজীব গান্ধীর। এই ওয়েব সিরিজই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে কটূক্তি করার অভিযোগে এবার দিল্লী হাইকোর্টের কাঠগড়ায়। অভিযোগকারী শশাঙ্ক গর্গের অভিযোগ, ১৯০টি দেশে চারটি ভাষায় চলা সেক্রেড গেমস নামে ওই ওয়েব সিরিজ়েবোর্ফস, শাহ বানো, বাবরি মসজিদ সংক্রান্ত মামলা এবং সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনাগুলিকে বিকৃতভাবে দেখানো হয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধি ও তাঁর পরিবারের প্রতি অপমানসূচক শব্দও ব্যবহার করা হয়েছে।
যদিও আগেই এবিষয়ে কলকাতার গিরিশ পার্ক থানায় অভিনেতা নওয়াজ়উদ্দিন সিদ্দিকির বিরুদ্ধে FIR করেছিলেন কংগ্রেস কর্মী রাজীব সিনহা। তবে শুধু নওয়াজ়ই নন, তাঁর দায়ের করা অভিযোগে নাম ছিল ওয়েব সিরিজ়ের প্রযোজক এবং পরিচালকেরও। অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে, ওই ওয়েব সিরিজে ভুল ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর শাসনকালকে। বলা হয়েছে, সেই সময় হিন্দুদের রোষের মুখ থেকে বাঁচার জন্য, প্রতি রবিবার করে টিভিতে রামায়ণ দেখানো শুরু করেছিল তৎকালীন কংগ্রেস সরকার।উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এইসব বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয় দেখানো হয়েছ যার ফলেনতুন প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে। তাঁর আরও অভিযোগ, এই ধারাবাহিককে কোনও কট্টরবাদী সংগঠন ফান্ডিং করছে। পাশাপাশি রাজীব গান্ধিকে সংলাপে “ফাট্টু” অর্থাৎ ভীতু বলা হয়। আর এই সংলাপেই ঘোর আপত্তি তুলেছেন রাজীব সিনহা। বিতর্ক ঝেড়ে কিভাবে শুদ্ধ হয় সেক্রেড গেমস সেটাই এখন দেখার বিষয়।