হট বিয়ে , হট বউ আর তারপর ???

হট

এসে গেল ‘হলি ফাঁকসিজন ২

টিভিওয়ালা মিডিয়া‘ র নিবেদনে এই ‘হলি ফাঁকওয়েব সিরিজ সিজন দুই।
হলি ফাঁকপ্রথম সিজনের গল্পের শেষ দৃশ্য এইরকম ছিল, বিয়ের মণ্ডপ এ শুভদৃষ্টি হচ্ছে বরের মুখ নীচু, কনের মুখ পান পাতা দিয়ে ঢাকা। যখন শুভদৃষ্টির সময় হল তখন বরের মুখ থেকে বেরিয়ে এলো একটি শব্দ “হলি ফাঁক“।

সিরিজের লাস্ট এপিসোডের লাস্ট ওয়ার্ড ছিল ‘হলি ফাঁক‘। দ্বিতীয় কিস্তির গপ্প সেখান থেকেই শুরু।
দুই কপোত-কপোতী ইন্দ্র-দিয়া আদায় কাঁচকলায় অথচ যারা একমিনিটও দুজনকে ছেড়ে থাকতে পারেনা তাদের কি ছাদনাতলায় বিয়ে হল? সংসার হল?
সেই গল্প নিয়েই কি সিজন দুই?

দাদু ঠাম্মা পরান বন্দ্যোপাধ্যায় ও রত্না ঘোষাল।ওরা দুই নব্য জুটি সৌম্য মুখার্জ্জী আর অনামিকা চক্রবর্তী তো আছেই। কিন্তু সিজন দুইয়ে বিয়ে করে হাজির দাদু ঠাম্মা পরান বন্দ্যোপাধ্যায়রত্না ঘোষাল। ‘শেষের কবিতা’ র অমিত-লাবন্য যারা। যাদের আলাপ হয়েছিল ফেসবুক থেকে লেকের ধারে। অমিত-লাবন্য বর কনে এবার।
বর বেশে পরান দাদু ও কনে বেশে রত্না ঠাম্মা

‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবিতে যেমন উত্তম-সুচিত্রা হিরো হিরোইন হলেও তুলসী চক্রবর্তী – মলিনা দেবী ছবির আসল নায়ক নায়িকা হয়ে উঠেছিলেন এখানেও তাই। নতুন ছেলে মেয়ে দুটি অভিনয়ে খুব সপ্রতিভ। আর সঙ্গে যদি থাকেন দুই দাপুটে অভিনেতা অভিনেত্রী, বর বেশে পরান বন্দ্যোপাধ্যায় ও কনে রূপে রত্না ঘোষাল তাহলে তো সোনায় সোহাগা। নাতি-নাতনির বিয়ে ফলপ্রসূ করতে কি কি ভাবে নতুন খেলা থেকে খেলাঘর তৈরী করেন দাদু – ঠাম্মা সেই হাসির বোমা এ ছবি। পরান তাঁর বাড়ির দোরগড়ায় বিয়ে করে আনেন লাল বেনারসী পরা কনে রত্না কে। বিধবা থেকে সধবা হওয়া ঠাম্মা রত্না ঘোষাল বলবেন “বউমা দুধে-আলতার থালাটা আনতে ভুলোনা… বাবাহ সেই কবে দুধে আলতার থালায় পা ডুবিয়ে হেঁটেছিলাম”। নাতি নাতনির ফাঁক ফাঁক গালাগাল দেবার ফাঁকতালে দাদু ঠাম্মার জমজমাট রোম্যান্স।

হলি ফাঁকযারা টক ঝাল মিষ্টি মাস্তি ছবি পছন্দ করেন তাদের ভালো লাগবে এ ছবি। পারিবারিক গল্পের ছবি হলেও যারা তথাকথিত ফ্যামিলি মুভি ভালোবাসেন তাদের জন্য এ ছবি নয়।
ওয়েবসিরিজের চিত্রনাট্য অনেক আপডেট যৌনতায়, যৌনভাষায় … যেগুলো ‘হইচই‘ তে দেখার জন্য। কোনো টিভি চ্যানেলে প্রাইমটাইমে চলছেনা। সেহেতু অনেক খোলামেলা এ ছবি। এই ওয়েবসিরিজ ছবি সবাই প্রায় একাই দেখেন সমগ্র পরিবার নিয়ে দেখেননা। তাই ছবির ভাষা সাহসী। অনেক শব্দ প্রয়োগ যা প্রাইম টাইমে টেলিভিশনে অনুমতি পায়না কিন্তু ওয়েবসিরিজে পায়।
কিন্তু ওয়েব সিরিজ মানেই শুধু খোলামেলা দৃশ্য তা নয় অনেক ভালো মেসেজও আছে খোলা হাওয়ার মতো। যেখানে বিধবা ঠাকুমা কিংবা বিপত্নীক দাদুর জীবন শুধু চলে যাওয়া পার্টনারদের নিয়ে বিলাপ করে নয় বরং নিজেদের সেকেন্ড ইনিংস শুরু করার এক সাহসী পদক্ষেপ দেখায় এ ছবি। যদিও তারা ভুলে যায়না তাদের প্রথম ভালোবাসা। ছবির চমক সেখানেও।
স্বামী অথবা স্ত্রী চলে গেলে যে পড়ে থাকবে সে একাকী পড়ে থাকবে কেন? নতুন উৎসবে নতুন জয়গানেও তো মাতা যায়! যেভাবে শোক ভুলতে আনন্দের গান লিখতেন রবীন্দ্রনাথ। সেলিব্রেট করার জন্যই তো লাইফ। জীবন মানে সেলিব্রেশন।

হলি ফাঁক' সিজন টুছবির নায়ক ইন্দ্র ওরফে সৌম্য খুব স্মার্ট অভিনয় করেছেন আগের এপিসোডের মতো। তবে হিরো কি শুধু পূর্বপুরুষের সম্পত্তি আছে ভেবেই মাস্তি থেকে মদের নেশায় দেবদাস হয়ে থাকবে? নায়িকা দিয়া ওরফে অনামিকা অভিনয়ে লুকে খুবই সাহসী ও মিষ্টি। কিন্তু নায়িকা কিঞ্চিত পৃথুলা হয়ে গেছেন সেকেন্ড সিজনে। আগের সিজনে দেখতে বেশী সুন্দর লেগেছিল অনামিকাকে।

যৌথ পরিবারের বাকি চরিত্র গুলিও যেমন রোহিত মুখার্জ্জী, সোমাশ্রী চাকী ,পিঙ্কি মল্লিক, কৃষ্ণেন্দু চ্যাটার্জ্জী প্রমুখ যথাযথ খুব সুন্দর। সিজন ওয়ান যাদের ভালো লেগেছে তাদের সিজন টু আরো বেশী ভালো লাগবে। কারন নতুন নায়ক নায়িকার সাথে ‘হলি ফাঁক টু‘ তে উপরি পাওনা দাদু ঠাম্মার কেমিষ্ট্রি ও রোম্যান্স।

হট বিয়ে হট বউ আর তারপর হট ফুলসজ্জা
আর তারপর ??? ….

বাকিটা জানতে ‘হইচই‘ আ্যপ ডাউনলোড করে ওয়েব সিরিজ ‘হলি ফাঁক’ সিজন টু -এর টুইস্ট গল্প দেখুন।