আপনার প্রেম কি এভাবেই শুরু হয়েছে ?

গল্প

একজন সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষকেও হকচকিয়ে উঠতে হয় যখন চোখের সামনের দুর্লভ বস্তুটি অনায়াসে প্রত্যাশার প্রাচীর টপকে আরও চমকপ্রদ হয়ে ওঠে। কিংবা একটি শর্টফিল্ম দেখতে বসে তার নির্জাস থেকে সম্পূর্ণ ছবির স্বাদ পাওয়া গেলে। চোখের সামনে এমনটা যদি না ঘটে তাহলে বিশ্বাস করবেন না। আমিও হয়তো করতাম না যদি না হোয়াটসঅ্যাপের টিংটিং শব্দে আস্ত একটি শর্টফিল্মের আগমন ঘটতো। সৌজন্যে আমার খুব কাছের একজন বন্ধু। তার অনুরোধই চাপ দিলাম ইউটিউবের বোতামে। শিরোনামে লেখা ছিলো “এভাবেই গল্প হোক”। জানতে পারলাম পরিচালকের নামও, অর্থাৎ বিশ্বদীপ বিশ্বাস। অভিজ্ঞতা বলছিলো এটাও হয়তো আর পাঁচটা ছবির মতোই গতের গল্প নিয়ে জন্মেছে। তবে ছবিটি শুরু হওয়ার সেকেন্ড কয়েক পর সেই অভিজ্ঞতায় চিট ধরলো। কালো ব্যাকগ্রাউন্ডে ফুটে ওঠা সাদা হরফের লেখা গুলি যেন পুরো গল্পটাই বলে দিলো। লেখাটা খুব স্পষ্ট মনে না থাকলেও যা কিছু লেখা ছিলো সেটা অনেকটা এরকম, “This is a silent short film, because film has its own language.” বুঝলাম এখানে চরিত্রের বদলে অভিনয় কথা বলবে। এবং সেইমতো শুরু হলো বিশ্বদীপ বিশ্বাস’র “এভাবেই গল্প হোক“।

কোনো ভাষা ছিলো না, ছিলো না চরিত্রের নামও। কেবল একটি সুন্দর আবহ সঙ্গীত সেই অভাব পূরন করেছিলো। পরে জানতে পারলাম এই আবহের কৃতিত্বে ছিলেন কুন্তল মিত্র। যাইহোক, প্রথম থেকেই আবহ আর অভিনয় মিলেমিশে গেছিলো। একটি সাধারণ ছেলের গল্প এই শর্টফিল্মের প্রেক্ষাপট। যার সকাল শুরু হয় মুঠোফোন দিয়ে। এরপর সময় বিশেষে ব্রেকফাস্ট করা এবং কম্পিউটারী কেরামতি শেষ করে কলেজে যাওয়া। প্রথমে যদিও চাকুরীজীবী ভেবে ভুল করেছিলাম। খানিক পরে যখন চোখটা ছেলেটির টাইয়ের ওপরে পড়লো তখন আর কোনো সন্দেহ থাকলো না। বোঝা গেলো বিশ্বদীপ বাবু এখানেও তাঁর নিপুনতার পরিচয় দিয়েছেন। এতোক্ষনে প্রায় মিনিট এগারোর শর্টফিল্মটি তার গতি ধরে ফেলেছে। কলেজ পড়ুয়াটি আর কটা ছেলের মতো স্বাভাবিক হলেও একাকিত্ব তার পেছন ছাড়তে চায়না। একটু আদর-আবদারের মাঝে দ্বিতীয় কারোর সঙ্গ তার অন্যতম চাহিদা। আরও মিনিট খানেক চলার পর ছবিটি পৌঁছে গেলো তার অন্তিম ট্রাজেডিতে। পার্কে বসে ছেলেটির চোখাচোখি হলো একটি মেয়ের সাথে। আর প্রথম দেখাতেই প্রেম। এরপর ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠানো এবং দিনভর অবিরাম চ্যাট। যার পরিনতি হলো প্রেমে। কিছুক্ষণ পর একটি আচমকা আবহের সাথে ছেলেটির ঘোর কাটলো। এতোক্ষনের প্রেম-ভালোবাসা সবই তার কল্পনা ছিলো। আর মিনিট কয়েকের মধ্যে আমিও বিশ্বদীপ বাবুর সাজানো দুনিয়া থেকে বেরিয়ে এলাম। একটি বাস্তব গল্পের কিছুটা অন্যরকম আস্বাদন নিতে পেরে বেশ খুশি হলাম।

শর্টফিল্মটি সাইলেন্ট হলেও তাতে অভিনয়ের নিপুনতা ছিলো প্রশংসনীয়। যার ক্রেডিট সম্পূর্ণ ভাবেই মেহোলী চক্রবর্তী, রাজশ্রী ঘোষ, অনির্বান চক্রবর্তী এবং ফিরোজা শাহ’দের। এছাড়াও যে এক্সট্রা ক্রেডিটটুকু বেঁচে থাকে তার একমাত্র দাবিদার পরিচালক বিশ্বদীপ বিশ্বাস। কারণ এরকম গল্প ভাবতেও যে সাহস লাগে সেটা তিনি প্রমাণ করে দিলেন। এবং আমরাও চাই প্রতিটি শর্টফিল্মের গল্প এভাবেই হোক।