Home ফিরে দেখা বিয়ের জন্য রাজ কাপুরের নায়িকা হওয়া হলনা। - সবিতা বসু চ্যাটার্জ্জী
কণিকা

” আমার মৃত্যুর খবর যেন মিডিয়াকে না জানানো হয়।” – কণিকা মজুমদার !

তিনি 'রক্তকরবী' র নন্দিনী। কখনও তিনি মণিমালিকা, কখনও তিনি দময়ন্তী, কখনও তিনি প্রতিমা৷ ‘মণিহারা’, ‘চিড়িয়াখানা’, ‘হার মানা হার’ ছবিতে এরা তাঁরই অভিনীত চরিত্র৷ কণিকা...
সবিতা

বিয়ের জন্য রাজ কাপুরের নায়িকা হওয়া হলনা। – সবিতা বসু চ্যাটার্জ্জী

প্রয়াত স্বর্ণযুগের অভিনেত্রী সবিতা বসু চ্যাটার্জ্জী। 'সাঁঝের প্রদীপ', 'ভ্রান্তি বিলাস', 'একটি রাত' র মতো ছবিতে উত্তম সুচিত্রার বিপরীতে অভিনয় করেন। এ যুগের দর্শক তাঁকে...
কমললতা

মাধবী কাননে নির্মল বসন্ত !

ও মন তারই হাতের একতারা যে আমি সে বাজালে বাজি আবার- সে থামালে থামি কমললতাকে গহর গোঁসাই সরাসরি কোনোদিন প্রেম প্রস্তাব দিতে পারেননি। তবু...

বিয়ের জন্য রাজ কাপুরের নায়িকা হওয়া হলনা। – সবিতা বসু চ্যাটার্জ্জী

প্রয়াত স্বর্ণযুগের অভিনেত্রী সবিতা বসু চ্যাটার্জ্জী। ‘সাঁঝের প্রদীপ’, ‘ভ্রান্তি বিলাস’, ‘একটি রাত’ র মতো ছবিতে উত্তম সুচিত্রার বিপরীতে অভিনয় করেন। এ যুগের দর্শক তাঁকে চিনবেননা,কারন প্রচারবিমুখ অভিনেত্রী ছিলেন লোকচক্ষুর আড়ালে, কোন সংবাদপত্র তাঁর প্রয়াণে সেভাবে খবর করলনা,কেউ কেউ করলেও সাবিত্রী চ্যাটার্জ্জী ও বোম্বের সবিতা চ্যাটার্জ্জীর সঙ্গে আলোচ্য সবিতাকে গুলিয়ে প্রয়াত অভিনেত্রী সম্বন্ধে ভুল তথ্য দিলেন। সবিতা চ্যাটার্জ্জী। কে ছিলেন?জেনে নিন তাঁর জীবন যৌবন বিগত যৌবনের গল্প।

লিখছেন শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

সবিতা চ্যাটার্জ্জী ছিলেন মিষ্টি হাসি মুখের নায়িকা। এই তো দশ বছর আগেও ছিলেন কি সুন্দরী। নিজেকে সুন্দর রাখা নিয়ে বলতেন “সুন্দর থাকার উৎস হল মন প্রফুল্ল রাখা।মনের দিক থেকে আমি ভীষনই খুশী। ছেলে মেয়ে নাতি নাতনিকে নিয়ে ভীষন খুশী আমি।” বিগত কয়েক বছর মাঝে মাঝে অসুস্থ হতেন চলে গেলেন ৪ জুলাই ২০১৯। কলকাতায় তাঁর জীবনাবসান হল। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।১৫/৭/১৯৩৭ সবিতার জন্ম। প্রবাসী বাঙালী। ডালটনগঞ্জে বেড়ে ওঠা। নাচ গানের চর্চা সেখান থেকেই শুরু। পিতা ক্ষিতীশ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মচারী ও মাতা শান্তিলতা। পিতার ছিল বদলির চাকরী। তিনি তখন দিল্লিতে।সবিতা তাঁর মা ভাই বোনরা ডালটনগঞ্জে। দিল্লী আসার তুফান মেল ধরলেন সবিতারা , মুগালসরাইয়ের নিকটবর্তীতে তুফান মেল লাইনচ্যুত হল, ভেঙে পড়ল দুর্গাবর্তী ব্রিজ ট্রেন সহ নীচে নদীতে। সালটা ১৯৫০। সবিতার এক দাদা,এক বোন নিহতের তালিকায়। সবিতা প্রাণে বেঁচে গেলেন। সবিতাকে দেড় বছর বেনারস হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল।পা ডিফেক্টিভ হয়ে যায়। ডাক্তারের পরামর্শ মতো অল্প হাঁটাচলা করছিলেন। কিছুটা সুস্থ হয়ে একটা ক্লাবে গান করতে যান। সেখানে সবিতার গানে মুগ্ধ হয়ে পরিচালক সুধীর মুখোপাধ্যায় তাঁকে ছবিতে গান গাইবার ও নায়িকা হবার অফার দেন। সবিতার বাবা রাজি হননি। তাই সে ছবি হলনা। বাঁশের কেল্লা য় সবিতার জায়গায় অভিনয় করলেন অনিতা গুহ।

এরপরের ছবিতেও সবিতাকে আবার অফার দিলেন সুধীর বাবু। বাবা তখন রাজী হলেন কারন এতে ফিজিওথেরাপির কাজটাও হবে আর মেয়ের মনটাও ভালো হবে। সেটিই হল সবিতা চ্যাটার্জ্জীর প্রথম ছবি ‘আজ সন্ধ্যায়’। নায়ক রাজা মুখোপাধ্যায় ও ভিলেনের চরিত্রে জ্ঞানেশ মুখোপাধ্যায়। ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৫৪ সালে। পনেরো বছরে ছবিতে ঢুকলেন সবিতা। ‘দেবত্র’ তে অভিনয় করেছেন উত্তম কুমারের বিপরীতে।যদিও এই চরিত্রে কানন দেবী-হরিদাস ভট্টাচার্য প্রযোজকরা চেয়েছিলেন কাবেরী বসুকে। টাকায় মতভেদ হওয়ায় সবিতা এলেন উত্তমের বিপরীতে। উত্তম তাঁকে বোনের মতো ভালোবাসতেন। করতেন খুনসুটি। সুচিত্রা আর সবিতা দুই বোন লাগতেন রূপে সাজে। সুচিত্রার ছাঁচেই যেন সবিতা ছিলেন।যদিও সুচিত্রার চেয়ে একটু ছোটো তাই রমাদি বলে ডাকতেন।তাঁর কথায় রমাদি তাঁর সঙ্গে অহংকারসুলভ ব্যবহার কোনকালেই করেননি।দুজনে একসঙ্গে যেমন ছবি করেছেন তেমন করেছেন নানা সিনে পত্রিকায় ফটোশ্যুট। ‘ঝুড়ি কোদালের কথা’ সুচিত্রা সবিতার বিখ্যাত।

উত্তমের স্ত্রী কি নায়িকা সহনায়িকা হয়ে তাঁকে দেখা গেছে দেবত্র, একটি রাত,পূর্ণমিলন,পুত্রবধূ র মতো ছবিতে। বসন্ত চৌধুরীর নায়িকা হন ‘দুজনায়’ ছবিতে। বলিউডে সবিতা নজির রাখেন। বিমল রায়ের পরিবার ছবিতে বলিউডে কাজ করেন। যে ছবিটি বিকাশ রায়ের অর্ধাঙ্গিনীর হিন্দি ভার্সন।মাঝে ছবি করা কমিয়ে দেন। আশির দশকে একটি দুটি বাংলা ছবিতে মায়ের রোল করেন। যেমন বীরেশ চ্যাটার্জ্জীর ‘সুরের আকাশে’। এরপরেও কিছু রঙীন বাংলা ছবিতে ও দূরদর্শনে মায়ের ভূমিকায় করেন। মিষ্টি হাসিটা অমলিন ছিল। সামাজিক নারী সেবামূলক কাজে যুক্ত ছিলেন। লেডিস ক্লাব বিখ্যাত ছিল তাঁর দক্ষিন কলকাতায়। সুচিত্রা সেনের প্রয়াণের দিন জানুয়ারীর ২০১৪ তে বব কাট চুলে মিষ্টি হাসি নিয়ে চুড়িদার কামিজে হাজির হন বহু যুগের ওপার হতে টিভিতে। বলতে তাঁর রমাদির গল্প।রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে দেখে বলেছিলেন এই দুষ্টু মিষ্টি নায়িকাটি ছিল সুচিত্রার বোন সুলভ কপি ক্যাট মিষ্টি হাসিতে মন জয় করেন আজও।বিগত কয়েকদিন ধরেই কলকাতার একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি তাঁর একটি অপারেশনও হয়েছিল। সম্ভবত অপারেশন-পরবর্তী ধাক্কা সামলাতে পারেনি শরীর।বহুদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। ৪ জুলাই কলকাতায় তাঁর জীবনাবসান হয়।

অন্তরালেই ছিলেন সবিতা দেবী। স্বামী প্রযোজক গৌরাঙ্গ প্রসাদ বসু। যদিও প্রযোজক স্বামী হওয়ায় কোনো সুবিধে পাননি ছবির জগতে।স্বর্ণযুগের কোনো গল্প বলতে বললে মিষ্টি কথায় বলতেন ফোনে, কখনও বাড়িতে ডাকতেন। দুই নাতি নাতনিকে নিয়ে কেটে যেত তাঁর সময়। পাড়ার মহিলা মহলে সোশ্যাল ওয়ার্কও করতেন। সেচ্ছানির্বাসন রমাদির মতো নেননি। আসলে রমাদির আলোকে সবিতা কিছুটা ম্লান হয়েও যান সেকালে। কিন্তু খ্যাতনামা ছবির নায়িকা। সবিতার আরেকটি উল্লেখযোগ্য সেরা অভিনয়ধন্য ছবি ছিল ‘তাসের ঘর’।সবিতা চ্যাটার্জ্জী আরেকজন এলেন বোম্বেতে কিছু পরে। তিনি কিছু বাংলা ছবিও করেছেন। ততদিনে আমাদের আলোচ্য সবিতা বিয়ে করে সবিতা বসু হয়ে গেছেন। তাই দুই সবিতাকে অনেকেই গুলিয়ে ফেলেন।

সবিতা বসু হিসেবেও তাই এনাকে অনেকে চিনত , সবিতার অভিনয় জীবনে আক্ষেপ ছিল দুটো।

 

প্রথমটি হল, বিয়ের জন্য রাজ কাপুরের সঙ্গে ‘ফির সুবাহ হোগি’ ছবিতে কাজের অফার এসেও কাজ করতে পারেননি। সবিতা চ্যাটার্জ্জী বসুর জায়গায় কাজ করলেন মালা সিনহা। এই ছবি করলে সবিতা আরো খ্যাতি পেতেন। কারন বোম্বের ফিল্মফেয়ার পত্রিকাতেও সবিতা কভার গার্ল হন সুন্দর মুখ মিষ্টি হাসির জোরে। রাজ কাপুরের ছবি হাতছাড়া হয়ে গেল।

আরেকটি আক্ষেপ, সত্যজিৎ রায়ের ছবিতে কাজ করার ইচ্ছে ছিল সবিতার। যে ইচ্ছে অপূর্ণ থেকে গেল। আসলে বোম্বেতে ‘পরিবার’ ছবিটি করে যে সাফল্য পান, বিয়ে করার পর সবিতার সাফল্য অনেকটাই অস্তমিত হয়ে যায় স্বামী সংসারে। অন্যদিকে সবিতা অনেক খ্যাতনামা ছবি করলেও তাঁর অভিনয় মামুলি ধরেই লিখত সমালোচকরা ব্যতিক্রম ‘তাসের ঘর’,’পরিবার’ র মতো কিছু ছবি। যদিও সংসারের গিন্নী মা ঠাকুমা দিদিমা রূপেই সবিতা দেবী চিরকাল খুশী ছিলেন। চিত্রজগত কে বিদায় জানিয়ে সোশ্যাল ওয়ার্কে নিজেকে যুক্ত করেন। যেসব কাজের জন্য মানুষ আজও তাঁকে মনে রেখেছে।

প্রণাম সবিতা চ্যাটার্জ্জী বসু।
দেহ বিলীন সবিতার হাসি অমলিন।

এনা

MUST READ

মনে আছে “বা” কে?

সুধা শিবপুরি (14 July 1937 – 20 May 2015) । স্নেহময়ী মাতৃমূর্তি। দিদা ঠাকুমা প্রপিতামহী প্রমাতামহী সবার কাছেই যিনি ছিলেন আপন। বাড়ির বট গাছ।...

পরিচালক রাজীবের সাথে প্রতিঘাতের লড়াইয়ে সোহম – প্রিয়াঙ্কা !

রাজীব বিশ্বাসের 'আমার আপনজন' ছবিতে জুটি বেঁধেছিল তাঁরা। সোহম-প্রিয়াঙ্কা। ছবিটার গল্পটা বেশ সুন্দর ছিল। এবার আবারও একসঙ্গে প্রিয়াঙ্কা সরকার ও সোহম চক্রবর্তী। পরিচালক রাজীবই।...

বিয়ের জন্য রাজ কাপুরের নায়িকা হওয়া হলনা। – সবিতা বসু চ্যাটার্জ্জী

প্রয়াত স্বর্ণযুগের অভিনেত্রী সবিতা বসু চ্যাটার্জ্জী। 'সাঁঝের প্রদীপ', 'ভ্রান্তি বিলাস', 'একটি রাত' র মতো ছবিতে উত্তম সুচিত্রার বিপরীতে অভিনয় করেন। এ যুগের দর্শক তাঁকে...

‘সাঁঝবাতি’ র আলকে নতুন রূপকথা !

পুজোর আগেই পুজোর আমেজ। দুর্গাপুজোয় অভিনেতা দেব। মা দুর্গার সামনে দাঁড়িয়ে দেব, পুজোর ছবি নিজের ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করলেন দেব নিজেই। তবে এটা কোনো পুজো...