নব্বইয়ের দশকে রোমাঞ্চ সৃষ্টিকারী ‘আলিফ লায়লা’ !

আলিফ

ব্বইয়ের দশকে ছোটবেলা যারা কাটিয়েছে তারা ‘আলিফ লায়লা‘ দেখেনি এমন সম্ভবনা খুবই কম। রাতে পড়াশোনার শেষে সপ্তাহে একদিন ওই আধঘন্টা চোখ সরাতে পারতাম না আমরা। সেই সময় টিভিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন রামানন্দ সাগরের প্রোডাকশন হাউস ‘রামায়ন‘, ‘শ্রীকৃষ্ণে‘র বিখ্যাত কিছু সিরিয়ালের পর হাত দেন এই সিরিয়ালে। মূলত আরব্যরজনীর উপর ভিত্তি করে কাহিনীগুলো নির্মিত। আজ চলুন একটু ঝালিয়ে নেওয়া যাক স্মৃতি গুলো।

আলিফ লায়লা হলো আরব্য রজনীর গল্প। আরব্য রজনীর সকল গল্পই সম্রাট শাহরিয়ারকে তাঁর স্ত্রী শেহেরেযাদ কাহিনীগুলো শোনায়। রয়েছে ইতিহাস দ্বারা অণুপ্রাণিত গল্প, প্রেম কাহিনী, বিয়োগাত্মক কাহিনী, রম্যরচনা, কবিতা এবং প্রহসন। গল্পগুলোকে বিভিন্ন কাল্পনিক ও ঐতিহাসিক চরিত্র দিয়ে সাজানো হয়েছে। হাজার বছর কেটে গেলেও এর কাহিনিগুলো পুরনো হয় নি। শিশুরা যখন পক্ষীরাজ ঘোড়া, বোতলে ভরা জীন, আর মন মাতানো সুন্দরী পরীদের অলীক কল্পনায় ডুবে যায় তখন তাদের মনে বীরত্ব, সততা ও অ্যাডভেঞ্চারের নেশা পেয়ে বসে।

আলিফ লায়লা সম্পর্কিত কিছু তথ্য

১) নির্মাতাঃ সাগর এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড

২) প্রস্তুতকারক দেশঃ ভারত

৩) অনুবাদিত ভাষাঃ হিন্দী, উর্দু, বাংলা

৪) মোট পর্বের সংখ্যাঃ ২৬০

৫) প্রতিটি পর্বের দৈর্ঘ্যঃ প্রায় ২৩ মিনিট

৬) গল্পসমূহঃ ১.১ বণিক এবং দৈত্য, ১.২ বৃদ্ধ ব্যক্তি এবং কালো কুকুর, ১.৩ বৃদ্ধ ব্যক্তি এবং ছাগল, ১.৪ জেলে এবং দৈত্য – হাকিম ডুবান, ১.৫ আলাদিন এবং বিস্ময়কর চেরাগ, ১.৬ আলী বাবা এবং চল্লিশ চোর, ১.৭ নাবিক সিনবাদের সাতটি সমুদ্রযাত্রা, ১.৮ রাজকুমার জালাল তালিব এবং তিন মুক্তো, ১.৯ বাগদাদের খলিফা হারুন আল রশিদের রাত্রিকালীন রোমাঞ্চ সফর, ১.১০ তিন কালান্দার, বাদশাহের পুত্রগণ ও বাগদাদের মহিলাদের গল্প, ১.১১ অন্ধ বাবা আবদাল্লাহ জামান ও সাহারাই দরবেশের গল্প, ১.১২ জিশান ও সোফান ইজবার গল্প, ১.১৩ দুই ভাইয়ের গল্পঃ জালাল বেলাল, ১.১৪ তিন কালান্দার, ১.১৫ রাজকুমার আফাত ও ফিরোজা বনাম ফিরোজ বক্স ও ১.১৬ সিনবাদ (৪ খুলি অভিযান)

স্বল্প বাজেট আর গ্রাফিক্সে ‘আলিফ লায়লা‘র তুলনা ছিল না। এখনো কি ফিরে আনা সম্ভব ‘আলিফ লায়লা’কে? আরো উন্নত গ্রাফিক্স আর টেকনোলজিকে সাথে নিয়ে? আপনারা কি বলেন?

Written By – শোভন নস্কর