পেশায় আইনজীবী নেশায় অভিনেতা ! আজ চোখ থাকুক অবলাকান্তর গল্পে

চুটকি
রাজ্যের সবাই যুদ্ধ ভুলে হাঁড়ি হাঁড়ি মিষ্টি নিয়ে দৌড়চ্ছে… আর তারই মধ্যে একজন সীমাহীন আনন্দে দু’হাত তুলে মুক্তির আনন্দ উদযাপন করছে…ছুটি , ছুটি !!!

কিছু মানুষকে কোনোদিন ‘ছুটি’ দেওয়া যায়না মন থেকে…সন্তোষ দত্ত জন্ম:২ ডিসেম্বর, ১৯২৫ – মৃত্যু – ৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৮ …যিনি পেশায় আইনজীবী নেশায় অভিনেতা ! সন্তোষ দত্ত তো ভানু জহরের উত্তরসূরী এঁদের কমেডি করতে কোনদিন যৌন চুটকি ডায়লগ ব্যবহার করতে হয়নি। সন্তোষ দত্তর ডায়লগ আজও এই জেনারেশান কাছেও সমান জনপ্রিয়।” রাজকন্যা কি কম পড়িয়াছে ? ” Highly Suspicious !!””গবেষক গবচন্দ্র জ্ঞানোতীর্থ জ্ঞানোরত্ন জ্ঞান বুদ্ধি জ্ঞান চূড়ামণি ” এক মিনিট “

কিন্তু ভেবে দেখুন প্রতিটি চরিত্র লেজেন্ডারি। সত্যজিৎ রায়ের “পরশ পাথর”,”তিন কন্যা”,”সোনার কেল্লা “,জয় বাবা ফেলুনাথ “,”গু -গা -বা -বা “,”হীরক রাজার দেশে”। এগুলো নিয়েই সবাই আলোচনা করেন কিন্তু তিনি সত্যজিৎ রায় বাদেও তাঁর অভিনয়ের লেজেন্ডারী সাক্ষর রেখেছেন অন্য পরিচালক দের ছবিতে। পূর্ণেন্দু পত্রীর “মালঞ্চ “,অমল শূরের “গোপাল ভাঁড় “, পীযূষ বসুর “সিস্টার “,”ব্রজবুলী”,তরুণ মজুমদারের “গণদেবতা ” ,দীনেন গুপ্তর “মর্জিনা আবদাল্লা”, সলিল দত্তের “ওগো বধূ সুন্দরী “, পার্থপ্রতিম চৌধুরীর “যদুবংশ”,”পূজারিনী “,উমানাথ ভট্টাচার্যের “চারমূর্তি”প্রভৃতি বহু ছবিতে সন্তোষ দত্ত তাঁর অভিনয়ের রত্নসম্ভার দেখিয়ে গেছেন !বাংলা সিনেমার একজন স্বতন্ত্র ঘরানার এই চরিত্রাভিনেতা অকালেই রাজরোগে চিরবিদায় নিয়েছিলেন ! সত্যজিৎ রায় মেনে নিতে পারেন নি এ শোক ! সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন , সন্তোষ ছাড়া জটায়ু নয় ,আর জটায়ু ছাড়া ফেলুদা নয় !

তাকে বলা যায় লাফিং বোমা। কিন্তু নির্মল হাস্যরস। সত্যজিতের ছবির ডেট ক্যান্সেল অত সোজা ছিলনা আবার সোনার কেল্লার রাজস্থানে আউটডোর থেকে হীরক রাজার দেশে … অনেক ছবির শ্যুটিং ডেট পড়ত সন্তোষ দত্তর কোর্টে মামলার দিনে। আদালতের ডেট মুলতুবি করা অতো সোজা ছিলনা তখন। কিন্তু তাঁকে সবাই এতো ভালোবাসতেন বাদী বিবাদী পক্ষের উকিলরাও এডজাস্ট করে নিতেন ডেট।সন্তোষ দত্ত মানেই লালমোহন বাবু থেকে অবলাকান্ত।” শুধু তুমি নয় অবলাকান্ত অনেকেরই বলার সময় খেয়াল থাকেনা ” কিশোর কুমারের অমর গান, ভাষাবিদ গগন সেন উত্তম কুমার ও সন্তোষ দত্ত র অমর বন্ধুত্ব র জুটি। এই গানেই সুমিত্রা মুখার্জ্জীকে দেখে সন্তোষ দত্ত র ” ম্যা ম্যা ম্যাডাম ! ” বলা কিংবা সাবিত্রী মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বাঁদর নিয়ে খেলা আর আশাজীর “তুই যত ফুল দিস না কেনে”।

সন্তোষ ছিলেন ফুটবলের ভক্ত। মোহনবাগানের ভক্ত। ফুটবল আর নাটক দেখা এই ছিল তাঁর নেশা। খুব ছোটো বয়সেই কলেজে পড়তে পড়তেই বিয়ে হয়ে যায় তাঁর। স্ত্রী নাবালিকা। বালিকা বধূ। মাত্র এগারো। ভাবা যায়! সন্তোষ দত্ত ঊনিশ। বউয়ের বাবা টাকা দিতেন মেয়েকে হাতখরচা সেই টাকা নিয়েই সন্তোষ নাটক দেখতে চলে যেত।নাটক তাঁর সিনেমার চেয়েও বেশী ছিল। তাই সবিতাব্রত দত্ত, নির্মল কুমার দের নিয়ে নাট্যসংস্থা করেন আনন্দম। পরে এই নাট্যদলের নাম হয় রূপকার। রূপকারে তাঁর অভিনয় দেখেই সত্যজিৎ রায় তাকে ‘পরশ পাথর’ ছবির জন্য সিলেক্ট করেন। সেখান থেকেই ইতিহাস জটায়ু ও সন্তোষ দত্ত। যার বিকল্প হয়না। রবি ঘোষ,অনুপ কুমার ,বিভু ভট্টাচার্য রা করলেও জটায়ু তাঁরা কেউ সন্তোষ দত্ত হয়ে উঠতে পারেননি। আসলে এক একটা চরিত্র এক এক অভিনেতার সিগনেচার মার্ক। যেমন রবি ঘোষের ধনঞ্জয়। নাটক ই তাঁর জীবনের শেষ কাজ হল। সে সময় রবি ঘোষের ‘শ্রীমতী ভয়ংঙ্করী’ নাটক করতেন মঞ্চে বিজন থিয়েটারে। বেশ কিছুদিন শো করতে পারতেন অসুস্থতার কারনে। প্রচন্ড কাশিতে ডায়লগ বলতে পারতেন না মঞ্চে জোরে।ধরা পড়েছিল লাংস ক্যান্সার। ঠাকুরপুকুর ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে রে নিয়ে কাজ থামাননি পেশা ও নেশা। কিন্তু যা হবার হল চলে যেতে হল লালমোহন জটায়ুকে ১৯৮৮ তে।

প্রণাম।

আজো লালমোহন বাবু জটায়ু অবলাকান্তদের সারল্য খুঁজে পেতেই তাঁর লুকে তৈরী হয় ওয়েব সিরিজ। লালমোহন বাবু রা আজকের একেন বাবু।