মাধবী কাননে নির্মল বসন্ত !

কমললতা

মন তারই হাতের একতারা যে আমি সে বাজালে বাজি আবার- সে থামালে থামি কমললতাকে গহর গোঁসাই সরাসরি কোনোদিন প্রেম প্রস্তাব দিতে পারেননি। তবু বোষ্টমীদের আখরায় এক মুসলমান কবির যাতায়াতে কম কুকথা বলেনি লোকে। তবু গহর-কমলের ভালোবাসায় এতটুকু গ্লানি কালিমা লাগেনি। গহর কোনোদিনই কমলের শ্রীকান্ত হতে পারেনি তবু কমলের মনে ছিল গহরের একটুকু স্থান। যা অতি শ্রদ্ধার ভালোবাসার। হরিসাধন দাশগুপ্ত র ছবি “কমললতা‘ য় নির্মল কুমার গহর চরিত্রে তাঁর সেরাটা দেন। নির্মল কুমার সবচেয়ে সুপুরুষ দেখতে লাগেন তাঁর সারা জীবনের ক্যারিয়ারে গহর চরিত্রে “কমললতা” ছবিতে। এত রোম্যান্টিক নির্মল কুমার কে আর কোনো ছবিতে লাগেনি। বি এফ জে এ পুরস্কারও পান গহর চরিত্র করে কমললতায়। কমললতায় সুচিত্রাকমললতা যে বোষ্টমী যার কোন যৌনজীবন নেই থাকতে নেই তবু ছবিতে অসম্ভব শরীরি আবেদন আনেন সুচিত্রা। ধর্মচাপা যৌনতাকে কি করে নিজের শরীরে মুখে চোখে আনা যায় তা কমললতায় করে দেখান সুচিত্রা। প্রতিটি দৃশ্যে একইরকম টোনে একইরকম একটা দীর্ঘস্বাসকে নি:শব্দে ধরে রাখা‚ চাহনি তে তীব্র প্রেম অথচ কি ভক্তিপ্রানা এ জিনিস সবাই পারতো না। আর এই মানসিক ট্রমা বেদনাকে পুরো ছবি জুড়ে খুব খুব বেশী ভিভিড করে গিয়েছেন নির্মলকুমার‚ হতাশার‚ ব্যর্থতার রঙে,না পাবার রঙে। নির্মল সুচিত্রা কমললতাযা কমললতার প্রতি প্রেম পূর্বরাগ,তাঁর গীতিকাব্যে গীত হয়। “ও মন কখন শুরু কখন যে শেষ কে জানে ? এ যে বাজিকরের খেলা রে মন , বাজিকরের খেলা রে মন – যার খেলা হয় সে জানে !” বাস্তব জীবনেও নির্মল কুমার চক্রবর্তী ছিলেন খুব লাজুক। যখন চারুলতা সত্যজিৎ প্রেমের চাপা গুঞ্জন টক অফ দ্য টাউন তখন সেসব গুঞ্জনের থেকে রেহাই পেতে চারুলতা মাধবী মুখার্জ্জী এক ফিল্মি পার্টিতে নির্মল কুমার কে তাঁকে বিয়ে করতে প্রস্তাব দেন। নির্মল কুমার মাধবী নির্মল কুমার মুখ ফুটে যা বলতে পারেননি ঠিক সেই গহরের মতো মাধবী তা পরিপূর্ণ করেন। শুরু হয় দুজনের সংসার একসঙ্গে ছবি করাও। কোথাও গিয়ে মান অভিমান পৃথক হতে বাধ্য করে দুজনকে তবু আজও বিবাহ বার্ষিকীর দিনটাই দুজনে এক হন কেক কাটেন। শরীর খারাপেও দুজন দুজনের পাশে থাকেন। কদিন আগেই পেরিয়ে গেল তাঁদের বিয়ের তারিখ… আর আজ ১৪ ডিসেম্বর নির্মল কুমার চক্রবর্তীর জন্মদিন। শেষের কবিতার নায়ক তিনি। যে ছবি আজ হারিয়ে গেছে। ছায়াসূর্য ছোটকা,ক্ষনিকের অতিথি,দহনের দুদে উকিল কিংবা দোলনা, উপহার , চলাচল,লৌহ কপাট, মধ্যরাতের তারা। বাংলা ছবির নিপাট সৎ ভদ্রলোকের প্রতিমূর্তি যিনি।