রবীন্দ্রসঙ্গীতে বাঙালী অবাঙালী অবতারণা কেন ?

কটি রবি গান ও তার গায়কী নিয়ে বিতর্ক, শিল্পীর জাত নিয়ে বিতর্ক। করছেন কে/কারা? প্রথিতযশা শিল্পীরাই। সম্প্রতি আকাশ আট চ্যানেলে সম্প্রচারিত একটি রবীন্দ্রসঙ্গীতের লাইভ তর্ক তর্জমার অনুষ্ঠান ‘রবি মাস’ কে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই অনুষ্ঠানেই শুভমিতা ব্যানার্জ্জী স্পষ্টাপষ্টি বলেছেন সাহানা বাজপেয়ীর গায়কী, সাহানার কন্ঠে রবি গান শুভমিতার ভালো লাগেনা। যদিও সঞ্চালক পন্ডিত তন্ময় বোস আর ধুনো দিয়ে বিষয়টি তুলে ধরেছেন আসরে।

“মহারাজ, একি সাজে এলে হৃদয়পুরমাঝে!
চরণতলে কোটি শশী সূর্য মরে লাজে ॥
গর্ব সব টুটিয়া মূর্ছি পড়ে লুটিয়া,
সকল মম দেহ মন বীণাসম বাজে ॥ “

এই রবীন্দ্রসঙ্গীত টি সাহানা বাজপেয়ীর কন্ঠে বিশাল ভাবেই জনপ্রিয়। সৃজিত মুখার্জ্জীর ‘এক যে আছে রাজা’ ছবিতে। বলা যায় গানটির সুন্দর দৃশ্যায়ন করেছেন সৃজিত, সাহানার গায়কী তে। ভাওয়ালের মেজরাজা সন্ন্যাসী বেশে ফিরছেন তাঁর রাজ্যে আর আবহে এই গান। যীশু সেনগুপ্তর ক্যারিয়ারে মাইলস্টোন চরিত্র। নগ্নতা,রহস্য, যৌনতা, রাবেন্দ্রিকতা, ভালোবাসা, আবেগ সব মিলিয়ে গানটি ছবি মুক্তির আগেই জনপ্রিয়। রবি মাস অনুষ্ঠানটি কবিপক্ষকে মনে রেখে আকাশ আট বৈশাখ মাস জুড়ে শুরু করেছে। সেখানে রবীন্দ্রসঙ্গীতের দুই পক্ষ করা হয়েছে। একপক্ষ অতীতচারী, নিয়ম মানা অন্যপক্ষ আধুনিক ফর্মে আনছে রবি গানকে। এবং দুজনের মধ্যে রবি গানের এই অতীত আধুনিক প্রয়োগ নিয়ে তর্ক চলছে। যার সবটাই হয়তো চিত্রনাট্যনির্ভর। কিন্তু সেই তর্কের রেশ আছড়ে পড়ল ফণী ঝড়সম হয়ে ফেসবুক থেকে দুই শিল্পীর মধ্যে এবং শ্রোতাদের মধ্যে। ‘রবি মাস’ অনুষ্ঠানে দুই সঞ্চালক পন্ডিত তন্ময় বোস ও ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায়। তন্ময় রবি গান আধুনিকীকরণের দলে, ব্রততী সনাতনীর দলে। শিল্পীরাও দুই দল ধরে দুজন আসছেন। শুভমিতা আধুনিকের দলে থেকে গাইলেন

“মহারাজ, একি সাজে এলে হৃদয়পুরমাঝে!
চরণতলে কোটি শশী সূর্য মরে লাজে ॥
গর্ব সব টুটিয়া মূর্ছি পড়ে লুটিয়া,
সকল মম দেহ মন বীণাসম বাজে ॥”

গানের আগে আলাপ করে শুরু করলেন রবিগান। এই গান নিয়েই সঞ্চালক পন্ডিত তন্ময় বোস প্রসঙ্গ তুললেন এই গানটি সাহানা বাজপেয়ী গেয়েছেন সৃজিত মুখার্জ্জীর ‘এক যে ছিল রাজা’ ছবিতে। কেমন লেগেছে শুভমিতার। শুভমিতা স্পষ্ট জানালেন সাহানার গায়কী তার ভালো লাগেনি বরং বাজে লেগেছে। একবারই শুনেছেন অত জনপ্রিয় গান। তাও মনে নেই বলতে পারবেন নাহ। শেষমেষ সঞ্চালক বললেন ভালো লাগেনি তার মানে? শুভমিতা বললেন “খুব ভালো লাগেনি।” সাগর সেন পুত্র প্রমিত সেন তাতে তোল্লাই দিলেন। জানিনা প্রমিত সেনের রবি গানের কত জনপ্রিয়তা। সাগর সেনের মতো আধুনিক ভাবে রবি গান সে যুগে গাইবার সাহস আর কজনের ছিল। যা এখনও প্রাসঙ্গিক। কিন্তু শুভমিতাও রবি গান খারাপ গান নাহ। বরং ভালোই গান। শুভমিতার নতুন যে রবি গানটি ইউটিউবে প্রকাশিত “দাঁড়িয়ে আছো তুমি আমার গানের ওপারে।” সেটি তো সুখশ্রাব্য ও দৃষ্টিনন্দন। তাই শুভমিতার থেকে মতামত নেওয়াই যায়। বরং সাহানা বাজপেয়ীর গায়কী কোথাও গিয়ে লিমিটেড সেখানে শুভমিতাকে আমরা খেয়াল, ঠুঙরী, হিন্দি প্লেব্যাক সবতে পেয়েছি রবি গানের সঙ্গে। কিন্তু সাহানা র গানে খুঁজে পাওয়া যায় শান্তিনিকেতনের লাল মাটি, মুক্ত অক্সিজেন, এক বাঁধন ছাড়া প্রকাশ। যা নতুন প্রজন্মদের কাছেও জনপ্রিয়।

এই তর্ক শুধু গায়কীতে সীমাবদ্ধ থাকলে মানা যেত। কিন্তু অহেতুক টেনে নিয়ে গেলেন মহোদয় মহোদয়া শিল্পীরা জাত পাতে। বাঙালী অবাঙালীয়ানায় এবং সেটা একটা লাইভ টেলিকাস্ট অনুষ্ঠানে। শুভমিতা বললেন সাহানাকে তুলে “বাঙালী না হলে তো বাংলা সাহিত্য না বুঝে গাইলে গানের ভাবটাই আসেনা।” রবীন্দ্রসঙ্গীতের ক্ষেত্রে কি এ কথা প্রযোজ্য। একটা অনুষ্ঠানে যেটি টিভিতে সম্প্রচারিত হচ্ছে সেখানে বাঙালী অবাঙালী প্রসঙ্গ এসে যাচ্ছে এবং তার রেশ ফেসবুক থেকে শিল্পীদের মধ্যে বিবাদ তৈরী করছে। শুভমিতার কথা ধরেই যদি বাঙালী অবাঙালী প্রসঙ্গ দেখি, শুভমিতা নিজেই অবাঙালী স্টাইলে রবি গানের আগে আলাপ করে গাইলেন। এই আলাপ টি যুক্ত করে গানের মাধুর্য কিছু বাড়ল বলে তো মনে হল। রবি ঠাকুর নিজের গান তৈরীতে কোনো ফাঁক রেখে যাননি যে সেটা কিছু নব্য সেমি ক্লাসিকাল শিল্পীকে আলাপ সংযোগ করে ভরাট করতে হবে। এছাড়াও বিভিন্ন উচ্চারণ ও অন্য সুর বসিয়ে রবীন্দ্র সঙ্গীতটি গেয়েছেন। যে নিজেই এমন গায় তাঁর অন্যের সম্পর্কে এ ধরনের উক্তি মানায়না। রবীন্দ্র সঙ্গীত গাইতে যদি শুধু বাঙালী হওয়া লাগে তাহলে কুন্দনলাল সায়গলের গাওয়া “আমি তোমায় যত শুনিয়েছিলাম গান, তার বদলে আমি চাই নে কোনো দান।”

গান আজও অনাবিল অমলিন সমান জনপ্রিয় কেন? কই গানের বোধের তো অভাব লাগেনা?

সাহানা তো অনেক পরের কথা। বহু অবাঙালী শিল্পী রবি গান গেয়েছেন অতীতে যার বড় উদাহরণ কে এল সায়গল। এরপরেও রবীন্দ্র সঙ্গীত থেকে নজরুল সঙ্গীত লতাজী, আশাজী, তালাত মাহমুদ জি গেয়েছেন। কবিতা কৃষ্ণমূর্তি রবি গানে তাঁর সুকন্ঠের গায়কীর ছাপ রেখেছেন ‘শ্বেত পাথরের থালা’ ছবি থেকে নানা রবীন্দ্র সঙ্গীত এলবামে। শুধু তাই কেন শ্রীমতী এম এস শুভলক্ষ্মী যখন রবীন্দ্রসঙ্গীত গান ভাবের ছোঁওয়া সত্যিকারের পাওয়া যায়। তিনিও তো অবাঙালী। আর অবাঙালী টা কি শব্দ? নন বেঙ্গলি শব্দটা একমাত্র বাঙালীরাই ব্যবহার করে। যা খুব হাস্যকর। পাবলিক ফোরামে কূট কাঁচালী? সমর্থনযোগ্য নয়। বিধান দেবারও কেউনা এনারা। এই অনুষ্ঠানে শুধু শুভমিতা দোষী নয়। সঞ্চালক পন্ডিত তন্ময় বোস এর দায়ভার অনেক। সাহানার গানের কথা তুলেছেন। প্রমিত সেটা তোল্লাই দিয়েছেন। শেষে শুভমিতা বাঙালী অবাঙালী গান বোঝার কথা বলেছেন। এই সব কটি বিষয়ই আপত্তিজনক। একটা পাবলিক ডোমেনে লাইভ অনুষ্ঠানে টি আর পি বাড়াতে এভাবে মেগা সিরিয়ালের মতো কূটকাঁচালী করা উচিৎ? নৈতিক? এই তর্কের অনেকটাই স্ক্রিপ্টেড। ঝগড়াও চিত্রনাট্য বানানো। কিন্তু বিচক্ষণ শিল্পীরা সেই ফাঁদে পা দেবেন? নিজেদের মধ্যে তর্ক হোক সেখানে যে শিল্পী উপস্থিত নেই তাঁর অবর্তমানে তাঁর নামে পাবলিক অনুষ্ঠানে বিশ্রী মন্তব্য করা জাত শিক্ষা তুলে মন্তব্য যারা করলেন তাঁদের জন্য কি সম্মানজনক? শুভমিতা লোপামুদ্রা সাহানা জয়তী এদের সবার গান শুনেই যুব সমাজ এতটা পথ এগিয়েছে, পরের প্রজন্ম কি শিখবে এ হেন শিল্পীদের থেকে? সাহানা রবি গান বাংলা সাহিত্য বোঝেননা এটাও ভেবে বলা উচিৎ।

সাহানা বাজপেয়ীর মেয়েবেলা কাটে শান্তিনিকেতনে। তাঁর বাবা-মা দুজনই উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ছিলেন। সাহানা ১৯৮২ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত শান্তিনিকেতনে ছিলেন। সেখানেই তাঁর সংগীত শিক্ষার হাতেখড়ি বাবা বিমল বাজপেয়ীর কাছ থেকে। তিনি মাত্র তিন বছর বয়সেই প্রথম গান শেখেন। পরবর্তীতে তিনি বিজয় সিনহা, চিত্রা রায়, শ্যামলী বন্দোপাধ্যায়, চন্দন মন্ড এবং মিতা হকের অধীনে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ও রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রশিক্ষণ লাভ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে বাজপেয়ী বাংলাদেশের সঙ্গীত শিল্পী সায়ান চৌধুরী অর্ণবকে বিয়ে করেন। তাঁরা একসাথে পড়াশোনা করেছিলেন শান্তিনিকেতনের পাঠভবনে। পরে বাংলাদেশে ছিলেনও সাহানা। বিয়ের সাত বছর পর ২০০৮ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে ব্রিটিশ নাগরিক রিচার্ড হেররেটের সাথে তাঁর দ্বিতীয় বিয়ে হয় এবং বর্তমানে তিনি লন্ডনে বসবাস করছেন। সাহানাদের এক বিট্রিশ শিশু কন্যা রোহিণী। এছাড়াও সাহানা বাজপেয়ীকে দেওয়া হয়েছে ‌দ্য বেঙ্গল’স প্রাইড পুরস্কার। বাংলার প্রাইড পুরস্কারটি প্রথমবারের মতো দেওয়া হল। এ পুরস্কারটি প্রদান করেছে এশিয়ান ভয়েজ ও গুজরাজ সমাচার নামের পত্রিকা। এগুলো ব্রিটিশ-এশিয়ান কমিউনিটির সবচেয়ে পুরোনো সংবাদপত্র ও সাপ্তাহিক পত্রিকা। সাহানা ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষকতা করেছেন। সাহানা বাজপেয়ী এখন স্থায়ীভাবে আছেন লন্ডনে। সেখানে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে বাংলা পড়াচ্ছেন। যে সাহানা ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে বাংলা পড়ান তাঁকে বাংলা বোঝেনা বলে কটু মন্তব্য করা উচিৎ হয়নি।

যদি সবটাই চিত্রনাট্য মাফিক হয় তাহলেও একজন শিল্পীর এভাবে বলা উচিৎ নয়। চিত্রনাট্য মাফিক কি সব ঝগড়া? আমরা যদি একটু পেছনে হাঁটি দেখব শুভমিতা আগেও একবার তাঁর ইন্টারভিউতে বলেন “স্বর্ণযুগের অনেক গানের কথাই অশ্লীল যেমন মান্না দে র গাওয়া ‘ওগো এবার ম’লে সুতো হব তাঁতির ঘরে জন্ম লব পাছাপেড়ে শাড়ি হয়ে দুলবো তোমার কোমরে ‘ কিংবা সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের কন্ঠে ‘চন্দন পালঙ্কে শুয়ে একা একা কি হবে জীবনে তোমায় যদি পেলাম না”। এই গান দুটোর অর্ন্তনিহিত মানে কিন্তু অশ্লীল নয়। সবাই এনারা প্রথিতযশা শিল্পী লাইভ অনুষ্ঠানে কতটুকু বলব সেটা ওঁনাদের জানা উচিৎ এবং টি আর পি যদি সব হয় তাহলে তো বাঙালীর রূচি শিক্ষাই জলাঞ্জলি দিতে হয়। এই অহেতুক অন্যের গানের উদাহরণ টেনে আনা কেন?

চলচ্চিত্রে রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রয়োগ হলেই কি সেটা নিয়ে সমালোচনা করতে হবে? সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়কেও ‘নবরাগ’ ছবিতে সুচিত্রা সেনের লিপে ‘আমি জেনেশুনে বিষ করেছি পান’ গানে সমলোচিত হতে হয় বিশ্বভারতীর থেকে। প্রমিত সেনও কতটা উন্নত! সাগর সেনের সেই গায়কী কি? সাহানা বাজপেয়ীর গানটা খুবই ভালো লেগেছে গানটা শুনে একবারও তো মনে হয়নি বাঙালী না অবাঙালী। কিছু কিছু রবীন্দ্রগান যেন কিছু কিছু শিল্পীর জন্যই তৈরি হয়ে রয়েছে আবার প্রথম যে শিল্পীর কন্ঠে আপনি সেই গান শুনবেন তাৎক্ষনিক ভাবে সেটাও ভালো লেগে যেতে পারে। রবি ঠাকুরের গান তো শুধু কথা সুরের মার প্যাঁচ নয় তাই তাতে কালোয়াতি সুরের ব্যাকরণ খাটে না। ভাবেরও এক বিরাট স্হান আছে সেখানে। আশাজী, কিশোর কুমার রা তো কেউ প্রথাগত রবীন্দ্রশিল্পী নন কিন্ত মেঘের কোলে রোদ হেসেছে তো আশাজীর কন্ঠেই ভালো ধরা দেয় বা এসো শ্যামলও সুন্দর। আবার ওগো বিদেশিনী বা বিধির বিধান এ কিশোর আবার ‘আনন্দধারা বহিছে ভুবনে’ কণিকা বা ‘নয়ন ছেড়ে গেলে চলে’ তে জর্জ বিশ্বাস।

সবশেষে একটাই গল্প বলব, শুভমিতা যে আলাপ করেছেন রবি গানের আগে সেই নিয়ে। তিরিশের দশকে পাহাড়ী সান্যাল একটি ছবির প্লে ব্যাকে রবি গানের গানে আলাপ করেছিলেন। সেই গান শুনে রবীন্দ্রনাথ এত রেগে যান যে পাহাড়ী সান্যালের গানটাই বন্ধ করে দেন। এছাড়াও রবীন্দ্রনাথ তাঁর গানের ওপর কায়দা করা নিয়ে বলেছিলেন অনেক খোদার উপর খোদকারীকে “আমার গানের উপর দিয়ে স্টিম রোলার চালিওনা।” এই আকাশ আটের শো তে বাঙালী হয়ে দুর্নিবার লগ্নজিতারা স্বরচিত সুরে রবি গান গাইলেন এবং বললেন যেভাবে খুশী গাওয়া যায় রবি ঠাকুর খুশী হতেন। কিন্তু তোমরা স্রষ্টার সৃষ্টিকে তো খুন করতে পারোনা? আকাশবাণী র প্রাজ্ঞ জগন্নাথ বসু এই জন্যই আকাশ আটের রবি মাস অনুষ্ঠান থেকে সরে গেছেন হয়তো। আকাশবাণীর ট্রেনিং র সঙ্গে আজকালকার টি আর পি বাজি তে অভ্যস্ত নন তো।

গান নিয়ে সুস্থ তর্ক হোক কাদা ছোড়াছুড়ি নয়। বাঙালী অবাঙালী সবাই গাইতে পারেন রবি ঠাকুরের গান। প্রাণের ঠাকুর সবার ঠাকুর।

লেখা – শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়