অনুপমের গানে নেশাগ্রস্ত বাঙালি করে বসলো একটা মস্ত ভুল!

Anupam Roy

হ্যামেলিনের সেই বাঁশিওয়ালার গল্পটা নিশ্চয়ই সবাই জানেন, যার বাঁশির সুরে সম্মোহিত হয়ে শহরের সব বাচ্চারা হাঁটা দিয়েছিল বাঁশিওয়ালার পিছু পিছু, এপ্রিল মাসের শুরু থেকে বাংলার অবস্থা খানিকটা হলেও হ্যামেলিনের মত আর এখানে বাঁশিওয়ালার ভূমিকাতে আছেন স্বয়ং অনুপম রায় যিনি প্রত্যেক বছরই বাঙালিকে বেঁধে রাখেন এক অদ্ভুত মুগ্ধতাতে কিন্তু এইবারের গল্পটা একদম আলাদা! প্রসঙ্গ কৌশিক গাঙ্গুলি পরিচালিত প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণা জুটির সিনেমা “দৃষ্টিকোণ”, যেখানে গানের কথা ও সুর দিয়েছেন অনুপম রায়।

গল্পটা শুরু হয় ট্রেলার থেকে সেখানে দুটি গানের ব্যবহার হয়েছিল যার শেষ গানে এক রহস্যময়ী গলাতে ছিল, “আমি কি তোমায় খুব বিরক্ত করছি…” ব্যস ওখানেই কথা, সুরে সম্মোহিত হয়ে যায় বাঙালি, পরবর্তীকালে অবশ্য সেটার কিছুটা মাশুল দিতে হয় সুরিন্দর ফিল্মসকেও! অফিসিয়াল রিলিজের আগেই ইন্টারনেটে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই গান, এমনকি প্রসেনজিৎ’কেও আবেদন জানাতে হয় পাইরেটেড গান না শোনার জন্য। হ্যাঁ একটা গান তৈরি করতে অনেক পরিশ্রম, সময়, ডেডিকেশন লাগে যেটার উপযুক্ত পারিশ্রমিক পায় আপনাদের ভালোবাসা থেকে কিন্তু সেই ভালোবাসা যদি পাইরেটেড হয়ে যায় অবশ্যই কষ্ট পায় আপনাদের প্রিয় শিল্পীরা! বিপত্তিটা শুরু হয় সেইদিন, যেদিন কলকাতার এক নামী মলে অনুপম রায়ের নয়া আবিষ্কার পালোমা মজুমদার এই গানটা লাইভ পারফর্ম করেন এবং সেখান থেকেই উৎসাহী শ্রোতারা রেকর্ড করে দিয়ে দেয় অনলাইনে।

মুহূর্তের মধ্যে গানটির জনপ্রিয়তা আকাশছুঁয়ে যায়, একবার ভেবে দেখুন তো শেষ কোন বাংলা সিনেমার গান রিলিজের আগেই তার লিরিক্যাল ভিডিও, কভার ইত্যাদি আপলোড হয়ে গেছে?…বাংলা গান নিয়ে এই উৎসাহ অবশ্যই অক্সিজেন জোগাবে বাংলার গায়ক, সঙ্গীত পরিচালকদের কিন্তু যেভাবে আপনারা আপনাদের ভালোবাসা জানাচ্ছেন সেই পথটা সম্পর্কে আরও দায়িত্ববান হওয়া উচিৎ! অনুপমের এই নয়া সুরের নেশাতে এই ভুলটা করে ফেলল বাঙালিরা তবে যাই হোক অবশ্যই ভীষণ আশাবাদী হবেন পুরো “দৃষ্টিকোণ” টিম কারণ গানে এইরকম সাফল্য অবশ্যই বক্সঅফিসে প্রভাব ফেলবে! আপনাদের জন্য থাকলো অনুপমের এই বছরের সেরা আবিষ্কার পালোমা’র গলাতে এই গানের অফিসিয়াল ভিডিও…