
নব্বই দশকের শুরু। বিশ্বায়নের দিকে ভারতের এক পা৷ ঠিক সেই মুহুর্তে ভারতে উঠে এল এক দঙ্গল কিছু ছেলে মেয়ে। যারা কিছুটা প্রাশ্চাত্য প্রভাবিত হলেও ভারতীয় গানের ইতিহাসটাই বদলে দিলেন। যেমন আলিশা চিনয়। ‘মেড ইন ইন্ডিয়া‘ দিয়ে পুরো ভারত নাচিয়ে দিলেন। সাথে ছিল হ্যান্ডসাম মিলিন্দ সোমান। এরপর সুচিত্রা কৃষ্ণমূর্তি, বাবা সায়গলের র্যাপ। বাবা সায়গলের ‘দিল ধড়কে‘ তে জেনারেশন তখন কম্পমান।
কেন হিট হয়েছিল সেইসময় ইন্ডিপপ? এর অনেক কারণ আছে। তার মধ্যে মূল কারণ হল বলিউডে তখন গানের উপর পরীক্ষানীরিক্ষা বন্ধ। তাই ইন্ডিপপ বা নন ফিল্মি গানেই বেশি চর্চা হত অন্যধরনের গানের। সাথে ঝা চকচকে ভিডিও গুলিও সুন্দর। এরপর লেসলি লিউইস, বালি ব্রম্ভটরাও এসেছেন রোমান্টিক গানে। ফাল্গুনি পাঠককে সেইসময় চিনতো না খুব কম লোক ছিল। ম্যানে পায়েল হ্যায় ছনকায়ি তখন লোকের মুখে মুখে ছিল। এই শতাব্দীর শুরুর দিকে আদনান সামিও উঠে এসেছিলেন ইন্ডিপপ দিয়েই।
ব্যান্ডেরও রমরমা ছিল। পাকিস্তানি জুনুন, জল, ফিউজন আর স্টিংসও মাতিয়েছে এক দশক। ভারতের ব্যান্ড অফ বয়েস, মোহিত চৌহানের সিল্ক রুট, ইন্ডিয়ান ওসান, নীরজ শ্রীধরের বোম্বে ভাইকিংস, কিংবা বোম্বে ব্রংস নানা ধরনের ব্যান্ড তখন ইন্ডিপপ দুনিয়ায়।
এইসব থেকে দূরে থাকতে পারেনি বলিউডের গায়করাও। সোনু নিগমের অ্যালবাম গুলো ছিল ব্যাপক হিট। লাকি আলির ‘সিফর‘ এ মারাত্মক সব গান গাইলেন। এমনকি অভিজিৎ, শানু, অলকা ইয়াগনিকও ইন্ডিপপের বা নন ফিল্মি দুনিয়ায় পা রেখেছেন।
২০০৫-০৬ সালের দিকে ইন্ডিয়ান আইডল বিজেতা অভিজিৎ আর হিমেশের আপ কা সুরুর অ্যালবাম ব্যাপক হিট ছিল। তারপর থেকেই ক্রমশঃ হারিয়ে গেছে ইন্ডিপপ। তাদের শোনাও যায় না এফ এমে বা টিভিতে। এখন নন ফিল্মি গান বলতে রয়েছে কিছু পাঞ্জাবি পপ বা র্যাপ। তাদের গলাও নেই তেমন। অটোটিউনের যুগ। এখনো ধিকি নন ফিল্মি গান গায় অনেকেই কিন্তু কেউ তা জানতে পারেনা। নয়ত ইউটিউবের জন্য গান গায়।
Written By – শোভন নস্কর





