নিয়ম ভাঙার লড়াইতে রূপম ইসলামের মূল শক্তি ইনিই!

গত পরশু সন্ধ্যের একটা ঘটনা, সোনারপুরে রূপম ইসলামের শো রয়েছে, সময়মাফিক স্টেজের সামনে রূপমোচিত ভিড় বাড়তে থাকলেও স্টেজের মধ্যমনি তখন লড়াই করে চলেছেন নিজের শরীরের সাথে, গায়ে যে ধুম জ্বর! কলেজের ছেলেপুলে থেকে ব্যান্ডের সদস্যরা থেকে স্ত্রী রূপসা দাসগুপ্ত সবার অনুনয়কে উপেক্ষা করে মানুষটির দৃঢ় জবাব,”শরীর খারাপ হয়েছে, গলা খারাপ তো হয় নি, গান কেন গাইবো না?”! হ্যাঁ তিনি স্টেজে উঠলেন তবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন নি, চেয়ারেই বসলেন নিজের গানের দরবার নিয়ে, ঠিক যেন নিয়ম ভাঙার রাজা।.. কথাগুলো বলতে বলতে সেই সন্ধ্যের অবিশ্বাস্য মুহূর্তের সাক্ষী না থাকতে পারার আফসোস ঝরে পড়ছিল সুরেন্দ্রনাথ কলেজের শিবানী’র গলাতে, বিহ্বল হয়ে বলে ওঠে, “রূপসাদি পুরো সময়টা ঠায় দাঁড়িয়ে আছেন পেছনে আর জলপট্টি দিয়ে যাচ্ছেন কারণ গান করলে শরীর খারাপ আরও বাড়তে পারে, একবার ভেবে দেখুন একটা মানুষ কতোটা দায়িত্বশীল হলে এইরকম কাজ করতে পারে! রূপমদা একটা স্ট্রাকচার রূপসাদি সেটাকে পর পর সুন্দরভাবে সাজিয়ে দিচ্ছে।। দিদি না থাকলে রূপমদা এতোটা গোছানো হত না, একদম পরিপূরক”…

হ্যাঁ, “পরিপূরক” বোধহয় এটাই সঠিক শব্দ এইদুজন মানুষের সম্পর্কটা বোঝানোর জন্য, একই কথা বলে কলকাতার বেশ পরিচিত এক ইভেন্ট ফটোগ্রাফার প্রশান্ত আবার জানালেন এক চমকে দেওয়া তথ্য, ” দিদির বায়োডাটা যদি আপনি দেখেন অবাক হয়ে যাবেন! এই মহিলা এখানে থাকেন? মানে সিএনএন, বিবিসি’র মত নিউজ হাবে কাজ করেছেন একজন বড় মাপের সাংবাদিক হিসেবে, অসাধারণ ভিডিওগ্রাফার, দিদি এখন কাজ করেন না তাই এই তথ্যগুলো অনেক মানুষই জানেন না, ওনার যদি মনে হয় ভিডিও বানাবো উনি শেপ দিয়ে দেন যেটার সাম্প্রতিক উদাহারণ “আমি তোমায় ভালবাসি”, রূপমদা দিদিকে বলেছিলেন,”আমার তোমাকে দরকার”, ঐ একডাকে দিদি সব ছেড়ে চলে আসেন যেটা আজকের দিনে কোন মেয়ে করতে সাহস করবে না!” তবে রূপসা দাসগুপ্ত’কে নিয়ে বলতে গিয়ে বর্ধমানের এক রূপমভক্ত সায়নের সরল স্বীকারোক্তি, “ওনাকে প্রচণ্ড শ্রদ্ধা করি কিন্তু এই মহিলাকে বোঝা বড় শক্ত!”

এক ঝলকে খুব স্ট্রিক্ট, রাগী মনে হলেও আদপে তিনি তা নন, মজা করেই শিবানী বলে, “দিদি এই খুব ঝাড়বে , বকা দেবে দু’মিনিট পরেই মাথায় হাত বুলিয়ে বলবেন, বাবা ভালোবাসি তো…এটা ক’জন বলতে পারে?” নাহ এই উত্তর সায়নের কাছেও ছিল না, “উনি বড় দিদির মত, কোন কোন সিধান্ত খারাপ লাগলেও পরে দেখেছি উনি একদম ঠিক ছিলেন!” প্রশান্ত আরও যোগ করে, “দিদি’কে শুধু কাজের কথা নয় নিজের সব কথা, সুবিধা-অসুবিধা সবকিছু মন খুলে শেয়ার করা যায় আর সমাধানও মেলে একদম সঠিকভাবে!”…

কথাগুলো শুনতে শুনতে মনে হচ্ছিল এই নিয়ম ভাঙার রাজা রূপম ইসলাম সত্যি অসম্পূর্ণ থাকতো রূপসা দাসগুপ্তের সচেতন অনুশাসন না থাকলে, সেই দক্ষ হাতেই ভাষা দিবসের আগে রূপম’কে উপহার দিলেন একটি লিরিক্যাল মিউজিক ভিডিও(“আমি তোমায় ভালবাসি”) বানিয়ে, যা শুনে এবং বুঝে এই মুহূর্তে বুঁদ হয়ে আছেন একাধিক বাংলার মানুষ। রূপম ইসলামের আগের মিউজিক ভিডিওগুলোতে গানের সাথে গল্প বলার ছক ভেঙে সম্পূর্ণ লিরিক্যাল ভিডিও বানিয়ে চমক দিলেন রূপসা দাসগুপ্ত। এখনো যদি না শুনে থাকেন তাহলে শুনে ফেলুন এবং পড়ে ফেলুন এই ভিডিওটা কারণ নিয়মভাঙার রাজার এই দরবারে আপনি সর্বদা স্বাগত…

লেন্সের ওপারে- প্রশান্ত কুমার শূর।