রূপম ইসলাম ফাঁস করলেন তাঁর মিউজিক ভিডিও হিট হওয়ার রসায়ন !

কিছুদিন আগে আমরা একটা প্রতিবেদন করেছিলাম, বাংলার সঙ্গীত জগতে এই মুহূর্তে প্রথা ভাঙার লড়াইতে একক রাজা রূপম ইসলাম, আরও একবার সেই সত্য প্রমাণ করে দিলেন তিনি। প্রাসঙ্গিক যুক্তি এবং তীক্ষ্ণ বুদ্ধি দিয়ে যখন একটা গান বানান তখন সেটা এমনিতেই মানুষের কাছে আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে আর সেই জন্যই রিলিজের পরেই “আমি তোমায় ভালবাসি ২” চলে এল ইউটিউবে জাতীয় স্তরে ৪ নং ট্রেন্ডিংএ। গান তো হিট ছিলই, তার সাথে চমকে দিল ভিডিওটির চিন্তাভাবনা এবং উপস্থাপনা। এই গানের প্রথম ভাগটা পেয়েছিলাম আমরা গত বছর ফেব্রুয়ারিতে— তখন পেয়েছিলাম লিরিক্যাল ভিডিও কিন্তু এবার দ্বিতীয়ভাগে চলে এল মিউজিক ভিডিও।

কেমন ছিল এই গান তৈরি হওয়ার গল্প? ফোনের ওপারে রূপম ইসলাম বলতে শুরু করেন, ” গানটা হচ্ছে একটি বিতিকিচ্ছিরি বড় গান, এরকম গান লোকে মোটেই শুনবেন না ধৈর্য ধরে! শুনলে বলবেন- এত বড় গান লিখেছে, এর কি জীবনে কোন কাজ নেই? (হাসি) আমি এই গানটা লিখেছিলাম গত বছর ১৪ই ফেব্রুয়ারি, সেইদিন আমি আর আমার স্ত্রী কোন একটা সিনেমা দেখছিলাম কারণ এটা আমাদের কোয়ালিটি টাইম স্পেন্ড করা, সিনেমাটা শেষ হওয়ার পর আমার মনে হল, ভালবাসার আসল দিকগুলো হচ্ছে সূক্ষ্ম দিক, মানুষ হয়ত এই ছোট ছোট দিকগুলো বুঝতে পারে না, একে অপরের সাহচর্যে থাকা, ছোট ছোট মুহূর্তগুলো উপভোগ করা…এইগুলোই আসল ভালবাসা আমার মনে হয়। তো এই মুহূর্তগুলো গেঁথে গেঁথে একটা বড় গান লিখে ফেলি সেইদিনই, যতক্ষণ না সুর শেষ হল আমি ঘুমোতে যাই নি, ঘণ্টাদুয়েক সময় লেগেছিল পুরো সুরটা করতে। তারপর সকালে যখন আমি স্ত্রী’কে গানটা শোনাই তখন ও বলে, এত বড় গান কে শুনবে?…তখন এই গানটা আমি ভেঙে ফেলি দুটো ভাগে।”

এই মিউজিক ভিডিও বানানোর জন্য আবারও তিনি স্বাগত জানালেন নতুন পরিচালক— সৌভিক এবং  তার সহকারী পরিচালক, লেখক সৌরভ’কে। বারবার এই নতুনদের উপর ভরসা করা, এখানেও যেন লুকিয়ে আছে সেই ছকভাঙা রাজার গল্প, এই প্রসঙ্গে অবশ্য রূপম ইসলামের বিনীত জবাব, “এটা যৌথ প্রচেষ্টা, এই পরিচালকদের উপর আস্থা রাখা, এটা আমি বিশাল করে কিছু দেখছি না! আমি গানটা তৈরি করতে জানি, ওরা ছবিটা তৈরি করতে জানে, আমিও যেমন ওদের উপর আস্থা রাখছি ওরাও তেমন আমার উপর আস্থা রাখছে। দুই হাতেই তালিটা বাজছে, একহাতে কিন্তু নয়! আমি একজন সহকর্মীর মতই মিশি ওদের সাথে..ইডিয়টসবক্সস দুটো স্ক্রিপ্ট আনে প্রথমটা ভালবাসার গল্প ছিল ওটা রিজেক্ট করি কিন্তু দ্বিতীয়টা বেশ ভালো লাগে, আসলে আমি সাধারণত প্রথা মেপে যেটা যায় সেটা পছন্দ করি না, আমি পছন্দ করি এরকম জিনিস যেটা নিয়ে আগে কেউ কোনদিন ভাবে নি, যেমন চাঁদনীতে উন্মাদে ড্রাকুলার চরিত্রটা নিয়ে আসা!”

বেশ বোঝা যাচ্ছে গানের সাথে রূপম ইসলামের এই চিন্তাভাবনাই তাঁকে আলাদা করে দিয়েছে অন্যদের থেকে এবং হিট হওয়ার অন্যতম কারণ। এই ভিডিওর পুরো ক্রেডিট যাদের দিচ্ছেন আমাদের কথা হল সেই ইডিয়টসবক্সসের সৌভিকের সাথে, “এটা একদমই ছকভাঙা মিউজিক ভিডিও, আমরা লিরিক্স মিলিয়ে কিন্তু এটা বানাই নি, আমরা একটা প্রসেস চেষ্টা করেছি মাত্র, শেষে দেখবে ‘কাট’ বলছে রূপমদা’র ছেলে রূপ। মানে ভিডিও বানানোর যে কাজটা ওখানে দুটো ইডিয়ট পেয়েছিল তাদের এত চিন্তাভাবনা কোন কাজেই আসে নি! আসলে মিউজিকটাই সব, ওটা হিট হলে এতোটাই সহজভাবে বানানো যায়। প্রথম হল মিউজিক তারপর তো ভিজুয়াল…”

প্রথম যখন রূপম ইসলামের ফোনটা পেয়েছিলে তখন উত্তেজনাটা কেমন ছিল? উত্তরে হেসে জানান, “ভিডিওটা যদি দেখে থাকো অনেকটাই ট্রু স্টোরি দেখানো হয়েছে, ঠিক যেভাবে ওরা (মিউজিক ভিডিওতে) চমকে যায় তেমন আমরাও চমকে গেছিলাম!” আপনাদের জন্য থাকল এই গান।অবশ্যই শুনুন এবং জানান আমাদের কেমন লাগলো নতুন ধরনের চিন্তাভাবনা, তবে শেষে একটা ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়েছিল রকস্টারকে, যেটা আপনাদেরও চোখে পড়বে— ভিডিওর প্রথমদিকে লাল চা রাখা আছে টেবিলে এবং লিখিতও দেওয়া হয়েছে “এটা চা”, কোথাও কি সোশ্যাল সাইটে যারা এইসব বস্তু থেকে নেশার গন্ধ খুঁজে ট্রোল করার চেষ্টা করেন তাদেরকে জবাব দিলেন তিনি? প্রশ্ন শুনে রূপম ইসলাম বলে ওঠেন, “এটা ওদেরই ভাবনা আমি কিন্তু কিছু বলে দিই নি, আমার কোনধরনের ট্রোলই খারাপ লাগে না। সৌভাগ্যবশত যারা আমাকে নিয়ে ট্রোলিং করেন তাদের মধ্যে আমায় খারাপবাসাটা সেইভাবে পাই নি! আমি তো ভালবাসাই দেখি। এই ধরো ভিডিওতে যেভাবে আমাকে ‘সরকার’এর মত রিপ্রেজেন্ট করা হয়ছে সেটা তো আমি নই (হাসি), এটাও কিন্তু এক ধরনের ট্রোলিং! “