এবার উড়ান হেলিকপ্টারে : কাজলের সঙ্গে !

ঋদ্ধি সেন

তিনি স্বপ্নসন্ধানী। তিনি এখন ইয়ুথ আইকন। এখন রয়েছেন ‘হেলিকপ্টার ইলা’ নামক উড়ানের অপেক্ষায়। নাম – ঋদ্ধি সেন। টেলিফোনে ‘হেলিকপ্টার ইলা’ নিয়ে আড্ডা জমলো আমাদের প্রতিনিধি তৃষ্ণার সঙ্গে।

তুমি তো এখন ঋদ্ধি নও, বৃদ্ধি। গ্রাফ শুধুই ঊর্দ্ধগামী – একই ছবিতে পরিচালক ও দুই মুখ্য চরিত্র জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত।
ঋদ্ধি – (হাসি) … ওঁরা তো অনেক বড় মাপের শিল্পী, আর আমি তো সদ্য পেলাম জাতীয় পুরস্কার। শ্যুট চলাকালীন খবরটা যখন পেলাম, ইউনিটের সবাইকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন ওঁদেরই জয় হয়েছে। সেই প্রতিক্রিয়াটা সারাজীবন মনে রাখার মত। মাঝেমাঝে ফ্লোরে বলা হতো “ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড কো বুলাও”!

সিমরানকে বড়পর্দায় দেখে বড় হওয়া আর কাজলের সঙ্গে প্রথম আলাপ – আইস-ব্রেকিং মোমেণ্টটা কী ?
ঋদ্ধি – প্রাথমিকভাবে দাদার (পরিচালক প্রদীপ সরকার) সঙ্গে ফোনে কথা হলেও মুম্বই গিয়ে জানতে পারি যে, আমি ভিভানের চরিত্রের জন্য নির্বাচিত হয়ে গিয়েছি। সেদিনই বিকেলে কাজল ম্যাম দাদার অফিসে আসেন। একসঙ্গে চিত্রনাট্য শুনি আমরা। পরদিন অডিও বুক রেকর্ডিংয়ের সময় আমি আবিষ্কার করি যে, ম্যাম মানুষ হিসাবে অসাধারণ। একবারও কথা বলে মনে হয়নি যে, তিনি অত বড় মাপের একজন স্টার।

ঋদ্ধি সেন

অডিও বুক রেকর্ডিং সেশন কেমন ছিল ?
ঋদ্ধি – অসাধারণ। ফ্লোরে যাওয়ার আগে পুরো সিনেমাটাই দাদা ভয়েস-ওভার আর্টিস্ট ও মুখ্য চরিত্রদের ডেকে, আবহ সঙ্গীত ও মিউজিকের সঙ্গে রেকর্ড করে নেন। সহজ কথায় – অডিও সিনেমা। যখন আমরা সেটে যাই, তখন কোনও সমস্যা যাতে না হয়।

প্রদীপ সরকার মানেই অভিনেতা ইম্প্রোভাইজেশনের একটা বিস্তৃত জায়গা পাবেন।
ঋদ্ধি – প্রচুর। প্রদীপ সরকার মানে অভিনেতার ড্রিম ডিরেক্টর। উনি বলেন – “চিত্রনাট্যে যা লেখা আছে, সেটা সব ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তোমার যদি মনে হয় যে, চরিত্র এই সংলাপ বলতে পারে না, তাহলে বদলে দিতে পারো”। অনেক সময় পোশাকের ক্ষেত্রেও সেটা হয়েছে। বলেছেন – “তুই যেটা পরে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবি, সেটাই পর”।

কাজলকে নাকি সত্যি সত্যিই চড় মারতে বলেছিলে তুমি?
ঋদ্ধি – হ্যাঁ। কাজল ম্যাম আমাকে বলেছিলেন অভিনয় করে নিতে। তবে, দৃশ্যটি এতটাই গভীর ছিল যে, মনে হল একটা ‘সত্যি’ চড় হ’লে খুব ভাল হবে। এতে দাদার ব্যাপারটা বেশ রিয়্যালিস্টিক লাগলো, তাই কোনও শটেই আর চিট করতে চাননি উনি! ‘মাম্মা কি পরছায়ী’
গানটি শ্যুটের সময় দাদা বললেন যে, সব চড় রিয়েল হতে হবে, নয়তো মজা আসবে না! তারপর থেকে কোনো চড়ের দৃশ্য এলেই ফ্লোরে সবার হেসে লুটিয়ে পড়ার মতো অবস্থা হতো আর কি!

ঋদ্ধি সেন

কাহিনীকার আনন্দ গান্ধীর সঙ্গে গুজরাতি নাটক ‘বেটা কাগড়ো’ নিয়ে কথা হয়েছে ?
ঋদ্ধি – ওঁর সঙ্গে আমার ট্রেলার লঞ্চে দেখা হয়েছে। ওঁর প্রথম ছবি ‘শিপ অফ থিসিয়াস’ আমার অত্যন্ত প্রিয় ছবি। সেটা নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। ‘হেলিকপ্টার ইলা’র গল্পটি ওঁর লেখা গুজরাতি নাটক ‘বেটা কাগড়ো’ থেকে নেওয়া হলেও সেটির সঙ্গে সিনেমার কয়েকটি মৌলিক মিল আছে, তারপর সেটিকে মহারাষ্ট্রের পটভূমি অনুযায়ী সাজানো হয়েছে।

তুমি তো মৌলিক অভিভাবকত্বে বড় হওনি। সেক্ষেত্রে কীভাবে প্রস্তুতি নিলে ছবির জন্য?
ঋদ্ধিভিভানের চরিত্রের জন্য আমার জানার দরকার ছিল – একক অভিভাবকত্বে বড় হওয়ার ভাল ও খারাপ দিকগুলি। কীভাবে একটি বাচ্চা মৌলিক অভিভাবকত্বে বড় হয়, তা নিয়ে রীতিমতো চর্চা করেছি।

ট্রেলারে একটি দৃশ্যে দেখা যায় ফোটো ফ্রেমে মা (ইলা) ও ভিভানের ছবির পাশে বাবার ছবির জায়গাতেও মায়ের ছবি ভেসে উঠছে। তাহলে কি ইলা নামের আগে থাকা ‘হেলিকপ্টার’ একাই একশোর প্রতীক?
ঋদ্ধি – আজকে ভারতীয় সমাজে মহিলাদের পরিচয় মূলত: কারোর মা বা কারোর স্ত্রী। ভালো মা হওয়ার জন্য যে চাকরি ছাড়তে হয় – এই ধারণাটি বদলাতে চাইছে ‘হেলিকপ্টার ইলা’।

‘হেলিকপ্টার ইলা’ থেকে শতাফ ফিগারের প্রায় ১৪টি দৃশ্য (মোটামুটি ২৪ মিনিট) এডিট টেবিলে বাদ পড়েছে। একক অভিভাবকত্বকে প্রাধান্য দিতেই কি…
ঋদ্ধিশতাফদা’র ট্র্যাকটা ছবির প্রথমার্ধে ছিল, মানে, ভিভানের জন্মের আগে। টোটাদা’র সঙ্গেও আমার কোনও দৃশ্য নেই ছবিতে। শতাফদা’র বিষয়টা খবরে দেখে আমি দাদাকে কল করেছিলাম। দাদা বললেন, “তুই ছবিটা দেখলে বুঝবি কেন বাদ দিতে হল”।

বাস্তবের ইলা, অর্থাত্‍, কাজলের সঙ্গে ফিল্ম ছাড়া আর কী কী বিষয় নিয়ে কথা হতো ?
ঋদ্ধি – ফিল্ম নিয়েই সবচেয়ে কম কথা হতো। শি ইজ আ হিউজ মিউজিক ফ্যান – সবরকমের গান শোনেন ম্যাম। উনি দারুণ পিয়ানো বাজাতে পারেন। আমিই গিটার বাজাই। একদিন ছবিতে পিয়ানো আর গিটার বাজানোর দৃশ্য শ্যুট হচ্ছিল। সেদিন আমরা আমাদের পছন্দের গান এড শেরেনের ‘পারফেক্ট’ গেয়েছি। তাছাড়া, ওঁর পরিবারের বিষয়ে কথা বলতেন। কলকাতায় এলে ম্যাম আমার বাবা মায়ের সঙ্গে দেখা করতে চান বলেছেন। কলকাতা থেকে আমার বন্ধুরা ওঁর সঙ্গে দেখা করতে যেতে চায় শুনে উনি একবারেই রাজী হয়ে যান। উনি চট করে মিশে যেতে পারেন নিজের স্টার ইমেজকে সরিয়ে রেখে।

ঋদ্ধি সেন

প্রদীপবাবুর সঙ্গে নতুন আর কোনও কাজ আসছে নাকি ?
ঋদ্ধি – হ্যাঁ। দাদার পরিচালনায় ফুটওয়্যারের একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করলাম। তাতে অজয় স্যারকে প্রযোজক হিসাবে নয়, সহ-অভিনেতা হিসাবে পেলাম। স্যারের সঙ্গে নানান বিষয় নিয়ে কথা বলে সমৃদ্ধ হয়েছি।

ছবিতে ইলা নিজেকে পুনরাবিষ্কার করে। ঋদ্ধি সেন বাস্তবে নিজের কোন সত্তাকে পুনরাবিষ্কার করতে চাইবে ?
ঋদ্ধি – আমি সারাজীবন নিজের অভিনেতা সত্তাকে নতুন ক’রে খুঁজে পেতে চাই – প্রতিদিন। নিজের প্রত্যেকটি সেরা অভিনয়কে ভেঙে দিতে চাই।