“চ্যাম্প’র পর ককপিটে আমার প্রোমোশন হয়েছে!”- প্রিয়াঙ্কা সরকার।

অভিনয়ে পড়তে দেন নি একফোঁটা খামতি তাই তো এখনো বাংলার তাবড় তাবড় পরিচালকরা মুখিয়ে থাকেন তাঁর সাথে কাজ করার জন্য, তিনি প্রিয়াঙ্কা সরকার!

ঠিক ৯ বছর আগে এই জুটির জন্য হল মুখো হয়েছিল বাঙালীরা, জুটি হিট হওয়ার পরই রিল লাইফের সঙ্গী হয়ে ওঠে রিয়েল লাইফের সঙ্গী। তারপর অনেক জল গড়িয়েছে গঙ্গা দিয়ে আজ তিনি এক ছেলের মা এবং হ্যাপিলি ‘সিঙ্গেল’, তবে অভিনয়ে পড়তে দেন নি একফোঁটা খামতি তাই তো এখনো বাংলার তাবড় তাবড় পরিচালকরা মুখিয়ে থাকেন তাঁর সাথে কাজ করার জন্য, তিনি প্রিয়াঙ্কা সরকার, গয়নার দোকানের বিজ্ঞাপন থেকে সিনেমার পোস্টার সব জায়গায় অবাধ বিচরন! ‘চ্যাম্প’এ তাঁর অভিনয়ের প্রশংসার পাশে এই মুহূর্তে তিনি ব্যস্ত আগামী সিনেমা ‘ছায়া ও ছবি’, ‘ককপিট’ নিয়ে, আর এর মাঝে মুক্তি পাচ্ছে ‘যকের ধন’! তবে যতই ব্যস্ত থাকুন না কেন রাতে ঘরে ফিরে সহজকে সময় দেওয়া চায়ই, এই ব্যস্ততার মাঝে ফোনে তিনি আড্ডা দিলেন আমাদের সাথে…

তোমার প্রথম সিনেমাতে দেব গেস্ট অ্যাপিয়ারেন্স করেছিল, সেই দেবের প্রথম প্রোডাকশেনের কাজ করলে তুমি, প্রযোজক দেবকে কেমন লাগলো?

প্রিয়াঙ্কা- ও ভীষণ ভালো, সত্যি এতো বড় একটা প্রোডাকশন ছিল ‘চ্যাম্প’, খুবই ডিফিকাল্ট ছিল কিন্তু ও খুব ভালোভাবে সামলেছে এটা। দেব নিজে প্রত্যেকের সাথে পার্সোনালি কন্টাক্ট করেছিল এমনকি আমার সাথেও ও কথা বলেছিল এই সিনেমার ব্যাপারে, খুব ভালো লেগেছিল, আর এতো বড় একটা ইউনিটের সাথে কাজ করে মনেই হয় নি যে নতুন প্রোডাকশনের সাথে আজ করেছি, এছাড়া আরেকটা কথা বলবো অভিনেতা হিসেবে দেব যা করেছে সেটা আগে তো আমি দেখেছি বলে মনে পড়ছে না!

ডি-মনিটাইজেশন’র সময় শুটিং চলছিল, কোনরকম অসুবিধা হয়েছিল?

প্রিয়াঙ্কা- নাহ! সেরকম কোন প্রবলেম আমরা ফেস করি নি কারন দেব নিজে একজন অভিনেতা তাই আমাদের সুবিধা-অসুবিধাগুলো ভালোভাবে বুঝতে পারত তাই সেভাবে কোন সমস্যা হয় নি আমাদের। তবে খুঁটিনাটিগুলো দেব ভালো বলতে পারবে

‘চ্যাম্প’র চরিত্রটা কতোটা ইন্টারেস্টিং লাগলো?

প্রিয়াঙ্কা- এই চরিত্রটা ভীষণই ইন্টারেস্টিং! শিবাজি’র সাথে প্রথম বন্ধুত্বটা এই কারনে হয় যে দুজনেই স্ট্রাগলার, একটা ডায়লগ আছে আমাদের, “বামুন হয়ে চাঁদে হাত দিচ্ছে!” আমি এখানে একজন বড় নায়িকা হতে চাই তো দুজনেই সেই স্বপ্নের জন্য লড়াই করে যাচ্ছে! শিবাজি’র পাশে আমিও লড়াই করে গেছি। আর এটা প্রচণ্ড ফিল্মি, ড্রামাটিক একটা চরিত্র যেটা আমি একেবারেই নই (হাসি) তাই খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল এটা ফুটিয়ে তোলা।

এই সময়ে দাঁড়িয়ে অনেক পরিচালকরা তোমাকে নিয়ে ভাবছেন, চরিত্র লিখছেন। এটার ইউএসপি টা কি?

প্রিয়াঙ্কা- আমি সত্যিই জানি না! আমি যা জানি সেটা এতোদিন ধরে কাজ করতে করতেই শিখেছি, টাচউড এটা আমার সৌভাগ্য যে এতোজন বড় বড় পরিচালকের সাথে কাজ করতে পারছি! আমি প্রত্যেকদিনই শিখে চলেছি ইনফ্যাক্ট কৌশিকদা’র “ছায়া ও ছবি”তে কাজ করতে গিয়ে অনেক নতুন কিছু জিনিস শিখলাম একদম ওনার হাত ধরে।

সম্প্রতি রাহুল-প্রিয়াঙ্কা জুটি একসাথে কাজ করলো সায়ান্তন ঘোষালের ‘যকের ধন’এ! তোমাদের নিয়ে কি চাপে ছিল শুটিং ইউনিট?

প্রিয়াঙ্কা- নাহ! আসলে আমরা শুরুতে ভেবেছিলাম এটা, সায়ান্তন আমাদের ডেকে বলেছিল, “তোমাদের কোন অসুবিধা হবে না” একটু কনশার্ন ছিল ওরা কিন্তু একেবারেই সেটা হয় নি! আমরা যাওয়ার পরই ওরা বুঝে গেছিল কোন প্রবলেম হবে না আর আমাদের শুটিং’র বাইরেও দেখা হয়! ও সহজের সাথে সময় কাটাতে আসে আমরা আড্ডাও দিই মাঝে মধ্যেই, ঐ বন্ধুত্বের জায়গাটা আছে। আমাদের তো অসুবিধে হয়ই নি মনে হয় কারুরই হয় নি।

এই মুহূর্তে তুমি একজন আদর্শ উদাহারন সিঙ্গেল মাদার যে দুহাতে পরিবার, কাজ সমানতালে চালিয়ে যাচ্ছেন, কোন গসিপ ছাড়া!.. মনের জোরটা কিভাবে পাও?

প্রিয়াঙ্কা- হা হা হা হা… সবথেকে ভালো পয়েন্ট লাগলো কোন গসিপ ছাড়া (হাসি)! দেখো এইরকম উদাহারন অনেকেই আছেন আমাদের আশে পাশে। ঋতুপর্ণা’র কথাই যদি বলো, সিঙ্গেল মাদার না হলেও সঞ্জয়দা বাইরে থাকেন উনিও একাহাতে সব সামলান! আসলে ডিপেন্ড করছে আমি কি চাই, আমার কাছে দুটোই খুব ইম্পরট্যান্ট। আমি জানি সহজকে সময় দিতেই হবে সেই সময় আমি ‘মা’ কিন্তু যখন বাড়ির বাইরে যাই তখন শুটিংএ এতোটাই ইনভল্ভ হয়ে যাই যে অন্যকিছু ভাবার সময় থাকে না যদিও ব্যাক মাইন্ডে সহজই থাকে, এই জায়গায় বাড়িতে তুহিনা আমাকে খুব হেল্প করে, রাহুলও মাঝে মাঝে ফ্রি হলেই চলে আসে সহজের কাছে।

  • আবার কোন সম্পর্কে ফিরে আসতে পারেন প্রিয়াঙ্কা

প্রিয়াঙ্কা- হ্যাঁ! অফকোর্স পারি, এ কি কথা! (হাসি) প্রেম মন শরীর সব কিছুর জন্য উপকারী, তবে হ্যাঁ আপাতত সময় নেই কিন্তু আমি জানি এটা সুস্থ স্বাভাবিকভাবেই জীবনে ঘটবে!

  • ইন্ডাস্ট্রিতে নায়িকারা বন্ধু হয় না।

প্রিয়াঙ্কা- বিপক্ষে। হয়, বন্ধু হয়! মিশকা, সায়নী, সোহিনী এঁরা প্রত্যেকেই আমার ভালো বন্ধু।

  • অতীতের কোন সিধান্ত নিয়ে আফসোস করেন না অভিনেত্রী।

প্রিয়াঙ্কা- বিপক্ষে। হুম আফসোস করি! আমার একাডেমীকটা কমপ্লিট করি নি, ‘চিরদিন…’ যখন করি তখন আমি ক্লাস ১২ তারপর গ্র্যাজুয়েশনটা শেষ করতে পারি নি…এখন তো সেই রোজ পড়াশুনোর অভ্যেসটা নেই তবে এটা আফসোস না কিন্তু চিন্তা একটা থেকেই যাবে যে, করে রাখলেই হত!

  • রাহুল-প্রিয়াঙ্কা’র যে রোমান্টিক জুটি ছিল সেটা আবার প্রত্যাবর্তন করতে পারে।

প্রিয়াঙ্কা- হ্যাঁ হতে পারে, যদি সেরকম ভালো স্ক্রিপ্ট হয়, আমাদের পছন্দ হয় অবশ্যই করবো।

  • সিনেমা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সাবধানী নন প্রিয়াঙ্কা সরকার।

প্রিয়াঙ্কা- পক্ষে, আনফরচুনেটলি (হাসি)! মনে হয় আরেকটু বেছে কাজ করতে পারলে ভালো হত, আমার কাজের প্রতি একটু হ্যাংলামি আছে (হাসি)। আসলে আমার বরাবরই ভালো লাগে নতুন পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করতে, আইডিয়া ভালো লাগলে করে নিই।


চেয়েছিলে এয়ারহোস্টেস হতে কিন্তু হলে অভিনেত্রী, সেই সুপ্ত ইচ্ছাপূরণে কি ‘ককপিট’এ আগমন?

প্রিয়াঙ্কা- হা হা হা… না না এয়ারহোস্টেস অনেক পরে হতে চেয়েছিলাম, আমার প্রথমে ইচ্ছে ছিল প্লেনে চড়বো, অনেক জায়গা ঘুরে দেখব (হাসি) তবে ‘ককপিট’এ আমি একজন প্যাসেঞ্জার, আর একটা কথা বলতে পারি ‘চ্যাম্প’র পর ‘ককপিট’এ আমার প্রোমোশন হয়েছে! (হাসি) আসলে আগে ছিলাম একজন স্ট্রাগলিং অ্যাকট্রেস আর ককপিটে আমি ফেমাস অভিনেত্রী, প্রোমোশন হয়েছে (হাসি)।

বাংলাদেশের এক পরিচালকের সাথে তোমার দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাটা ঘটেছে, সেটা সব ইন্ডাস্ট্রিতেই হয় প্রায়শই, তো যে সব মেয়েরা সৎ ভাবে কাজ করছে এই ইন্ডাস্ট্রিতে তারা যদি এরকম ঘটনার সম্মুখীন হয় কিভাবে গাইড করবে তাদের?  

প্রিয়াঙ্কা- আমি বলবো পার্সোনালভাবে না নিতে ব্যাপারটা এবং সময় বলে একটা ফ্যাক্টর থাকে যেখানে একজন ভালো মানুষ ও একজন খারাপ মানুষের সাথে আলাপ হবে যদি সে সৎভাবে কাজ করে ঠিক সাসটেন করে যাবে তবে ডিপ্রেশন থেকে নিজের কোন ক্ষতি করো না, প্রবলেম ঠিক কেটে যায়!

৯ বছর আগের প্রিয়াঙ্কা সরকারের সাথে এখন দেখা হলে কি টিপস দেবে?

প্রিয়াঙ্কা- (হাসি)…একটু মাথা ঠাণ্ডা করতে বলবো আর জেদ কমাতে বলবো!

প্রশ্নের ওপারে- শুভদীপ কাজলী (এডিটর)