“দু’নৌকায় পা দিয়ে চলা আমার স্বভাব না!”- সোহম চক্রবর্তী।

আপাতত একবছরের ব্যবধান কাটিয়ে মামার (প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি) অফিসরুমে বসেই আড্ডা দিলেন তাঁর পরের সিনেমা "দেখ কেমন লাগে"র নানা কথা নিয়ে...

বয়স তখন ৩ বছর, ইন্ডাস্ট্রিতে পা দেওয়ার পরই এই মানুষটার অধিকাংশ সময়ে বসার জায়গা ছিল প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি’র স্নেহের কোল, আর আদরে আদায় করে নিতেন ক্যাডবেরি বা আইসক্রিম! সিনেমাতে কখনো প্রসেনজিৎ’র ছোটবেলার চরিত্র, কখনো বা তাঁর ছেলের চরিত্র, রিল লাইফ থেকে রিয়েল লাইফে ছোট্ট ছেলেটা তখন থেকেই হয়ে ওঠে বুম্বামামুর প্রিয় ভাগ্নে, সেই সময় থেকে একদিকে সুপারস্টার অন্যদিকে মামা’র সান্নিধ্যে আজ সে বাংলার অন্যতম প্রিয় সুপারস্টার, তিনি সোহম চক্রবর্তী আপাতত একবছরের ব্যবধান কাটিয়ে মামার (প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি) অফিসরুমে বসেই আড্ডা দিলেন তাঁর পরের সিনেমা “দেখ কেমন লাগে”র নানা কথা নিয়ে…

আপাতদৃষ্টিতে না মনে হলেও তুমি নাকি খুব রাগী?

সোহম- এই রে!(হাসি) প্রত্যেকটা মানুষের মধ্যেই কোথাও না কোথাও রাগটা লুকিয়ে থাকে, কেউ সেটা চেপে রাখে আমি সেটাকে চেপে রাখতে পারি না! তবে যখন দেখি ব্যাপারটাতে জল নাকের ওপর উঠে গেছে তখন নিজেকে চেপে রাখতে পারতাম না কিন্তু এখন সময়ের সাথে সাথে বুঝেছি, ধৈর্য অনেক বেড়েছে!

এই রাগের জন্যই নাকি ইন্ডাস্ট্রিতে বন্ধুর থেকে শত্রু সংখ্যা বেড়েছে!

সোহম- এটা তুমি বললে বলে জানলাম বাট কাউকে তো দেখে মনে হয় না, ওভারঅল যেটুকু জানি সবাই বন্ধু কারণ প্রত্যেকটা সময়ে যখন তাদেরকে ডেকেছি পাশে পেয়েছি। এরা আছে, থাকবে।

সোহম-শুভশ্রী জুটি আবার আসছে বড় পর্দায়, সিনেমার নাম “দেখ কেমন লাগে”, নামের মধ্যেই একটা প্রতিশোধ নেওয়ার ব্যাপার তো এখানে কে কার উপর প্রতিশোধ নিলো?

সোহম- হ্যাঁ, কিন্তু যে চরিত্রটা আমি করেছি ‘রাহুল’, সে ভীষণ ফ্ল্যার্ট করে বেড়ায়, মেয়েদেরকে মিথ্যে প্রেমের প্রতিশ্রুতি দেয় আর এই জন্য সে বিপদে পড়ে আর এই বিপদে সে এসে হেল্প চায় তার ছোটবেলার বন্ধু ‘গুঞ্জা’ (শুভশ্রী)র কাছে আর এই প্রত্যেকটা মুহূর্তে ও বলেছে ‘দেখ কেমন লাগে’! এটা মজার প্রতিশোধ।

দেখুন ছবিটির ট্রেলার :

এই সিনেমার সাথে প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি একদম ওতপ্রোতভাবে জড়িত এমনকি তোমার লুকসেটও ওনার করা, কেমন লাগছে ওনাকে এই নতুন ভূমিকায়?

সোহম- খুবই ভালো লাগছে কারণ ওনাকে একদম ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি, বলতে গেলে আমার ইন্ডাস্ট্রিতে বড় হয়ে ওঠা ওনার কোলেপিঠে করেই। ওনাকে আদর্শ মেনেই বড় হয়েছি, আর সেই মানুষটার প্রোডাকশনে প্রথমবার কাজ করা সত্যি অসাধারন মনে হয় নি কোন প্রোডাকশনে এসে কাজ করছি বলে, যেন মামাবাড়িতে এসে কাজ করছি!

তাহলে বলছ প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি তোমার জীবনে সবথেকে বড় এক্স-ফ্যাক্টর ?

সোহম- হ্যাঁ, একদম ঠিক।

শুটিং’র কোন ‘দেখ কেমন লাগে’ মোমেন্ট?

সোহম- এরকম নির্দিষ্ট কোন ঘটনা নেই কিন্তু পুরো প্রসেসে আমরা খুব মজা করেছি, ঠাট্টা, ইয়ার্কি’র মধ্যে দিয়ে করেছি কাজটা। আর যেখানে ক্যাপ্টেন অফ দ্যা শিপ রাণা’দা-সুদেষ্ণা’দি, তাঁদের কেমেস্ট্রিটাই এতো অসাধারন যে এঁদের সাথে কাজ করাটা মজা তো বটেই, একটা পাওনাও বলবো।

রাস্তায় এখনো গাড়ি দাঁড় করিয়ে তুমি আলুর চপ কিনে খাও! ডায়েটিং নিয়ে এতো উদাসীনতার কারণ কি?

সোহম- এখন এটা বন্ধ করে দিয়েছি! জানি না কোথা থেকে পেলে খবরটা কিন্তু ঠিকই পেয়েছ (হাসি)! তবে এখন যেহেতু অন্য কিছু ছবির জন্য প্ল্যান করা হচ্ছে তাই কড়া ডায়েটে আছি তো কিনলেও এখন বাড়ির জন্য কিনি, নিজের জন্য ‘না’।

এই মুহূর্তে ইন্ডাস্ট্রির সবথেকে দামী গাড়ি তোমার গ্যারেজে, এই খবরটা পাওয়ার পর কে প্রথম অভিনন্দন জানায়?

সোহম- সর্বনাশ (হাসি)! প্রত্যেকেই জানিয়েছে, প্রথমে মামু (প্রসেনজিৎ) জানিয়েছে কারণ যা কিছু হয় আমি তাঁকে সব কিছু জানাই এছাড়া অনেকেই বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়রা সবাই জানিয়েছিল।

অজস্র এন্টারটেনমেন্টের প্রথম ইনিংস কেমন গেল?

সোহম- দেখো, আমরা প্রত্যেকেই চেষ্টা করেছিলাম একটা ভালো ছবি বানাতে , যারা দেখেছেন কেউ বলেনি যে সিনেমাটা খারাপ কিন্তু জানি না কোথাও একটা এক্স-ফ্যাক্টর মিসিং ছিল যে সেই অর্থে কমার্শিয়ালি সাকসেস পায় নি আর আমিও আশা করি নি যে প্রথম প্রোডাকশনে বিশাল সাকসেস পাব, এটা লার্নিং প্রসেস, চেষ্টা করবো পরের কাজে এই ভুলগুলো না করার!

প্রায় একবছর তুমি মূল সিনেমার বাইরে, কি কারণ ছিল?

সোহম- ইলেকশেন নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম, আরও পলিটিক্যাল কিছু কাজকর্ম ছিল কারণ দেখো , দু’নৌকায় পা দিয়ে চলা আমার স্বভাব না! আমি যখন যেটা করি মন দিয়ে করি, তখন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী অনেক ভরসা করে দ্বায়িত্বটা দিয়েছেন, আর আমি কোন রাজনীতির পরিবার থেকে আসি নি তাই ব্যাপারগুলো জানতে, বুঝতে চেয়েছি সঠিকভাবে তাই পুরো সময়টা ঐদিকে দিয়েছি।

  • সৃজিত মুখার্জি’র সাথে সোহমের সম্পর্ক নাকি ভালো নেই!

সোহম- কে বলল? অবশ্যই বিপক্ষে!

  • এখনো মানুষ চিনতে ভুল করেন সোহম।

সোহম- (একটু ভেবে) হ্যাঁ, সেটা ঠিক!

  • সোহম-পায়েল জুটিকে আর কোনদিন বড়পর্দায় পাবে না দর্শকরা।

সোহম- জানি না, নিশ্চয়ই পেতে পারে যদি চরিত্রটা ম্যাচ করে তো!

  • যাই হয়ে যাক না কেন, দুপুর ১২টা’র আগে ফোন তোলেন না সোহম…

সোহম- না না , ইম্পসিবল, সেটা এখন হয়েছে (হা হা হা হা) আসলে যখন বাড়িতে থাকতাম ফোনটা সাইলেন্ট থাকতো কারণ ছেলে ঘুমাতো বাট ইচ্ছে করে করি এরকম একদমই না।

  • রাজনীতিতে আসা নিয়ে কোন আক্ষেপ নেই তোমার।

সোহম- একদমই না, কোন আক্ষেপ নেই!

  • ২০১৭তে ফিরে আসার লড়াইটা কঠিন লাগছে।

সোহম- উমম, না কঠিন তো লাগছে না, কারণ ভগবানের আশীর্বাদে বলো, ইন্ডাস্ট্রির মানুষদের বা ফ্যানেদের শুভ কামনার জন্যই বলো অনেকগুলো প্রোজেক্ট লাইন আপে আছে, চেষ্টা করছি সেগুলোতে ভালোভাবে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার।


শোনা যাচ্ছে পরের সিনেমাতে (জিও পাগলা) তুমি একজন মেয়ের চরিত্র করছ, এটা তো বেশ বড় চমক!

সোহম- হ্যাঁ, এটা অবশ্যই একটা বড় চমক! কারণ যখন আমি প্রথম স্ক্রিপ্টটা শুনি নিজেও চমকে গেছিলাম আর আশা করি আমি যখন চমকেছি আমার ফ্যানেরাও চমকাবে, বেশ মজার চরিত্র এটা।

এই মুহূর্তে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সোহম চক্রবর্তী যদি নিজেকে দেখে প্রশ্ন করে আর কি কি কাজ বাকি? কি বলবে নিজেকে?

সোহম- প্রচুর কিছু বাকি! সবে তো এক পা ফেললাম, এখনও দিল্লী বহুদূর! আরও শিখবো, কাজ করবো, চ্যালেঞ্জ নেবো।

পুনশচঃ- রেকর্ডার অফ করতেই পাশে বসে থাকা একজন সোহমের দিকে তাকিয়ে সহাস্য মন্তব্য,”এবার তো সবাই জেনে যাবে তুমি ১২টার আগে ফোন ধরো না!” , মুচকি হেসে পাশে রাখা ফোনটা তুলে ঘাঁটতে ঘাঁটতে সোহম যা বললেন,……সেটা আপাতত উহ্যই থাক!

প্রশ্নের ওপারে- শুভদীপ কাজলী (এডিটর)।