“ছোট জামাকাপড় পরলে বা দুটো চুমু খেলেই সেটা বোল্ড হয়ে যায় না!” – স্বস্তিকা মুখার্জি।

নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি মানুষের আসক্তি চিরকালের! সেই ছোটবেলার কথা ভেবে দেখুন কোন বাচ্চাকে যে জিনিসকে ছুঁতে বারণ করা হয় বাচ্চাদের হাত সেইদিকেই বেশী যায়, মানুষের একটা স্বাভাবিক স্বভাব আর প্রসঙ্গ যখন আসে ‘বৌদি’র তাহলে কলেজ ক্যান্টিনে বসে থাকা পেতে চুল আঁচড়ানো অতি-ভদ্র ছেলেরও গালদুটো আপেলের মত লাল হয়ে যায় তবে অবশ্যই এই ‘বৌদি’ শব্দটা কোথায় নেওয়া হচ্ছে মানে স্থান-কালের উপর রসবোধের মাত্রাটা নির্ভর করে! ঠিক মা দুর্গা’র আগমনের সাথেই বাংলাতে ‘উমা বৌদি’ ওরফে স্বস্তিকা মুখার্জি হৈ চৈ করে চলে আসেন ডিজিটাল মিডিয়াতে ‘দুপুর ঠাকুরপো’ নিয়ে! ‘বৌদি’ তো এখন হিট, কিন্তু নামের পাশে ‘বৌদি’ আসার ব্যাপারে উনি কতোটা ফিট? বৃষ্টির এক অলস দুপুরে ‘উমা বৌদি’ শোনালেন সেই গল্প আমাদেরকে..

পুজো কেমন কাটলো?

স্বস্তিকা- খুব ভালো …

ব্যোমকেশ পুজোতে আবার হিট, দর্শকদের কেমন ফিডব্যাক পেলে?

স্বস্তিকা- আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়েছিল অঞ্জনদা’র যতগুলো ব্যোমকেশ হয়েছে এটা সবথেকে বেস্ট। দেখলাম আমার মতের সাথে এবার অধিকাংশ দর্শকের মতামতও মিলেছে আর এতো ম্যাচুয়র ভাবে হ্যান্ডেল করেছেন অঞ্জনদা এবং ডি.ও. পি গৈরিক সরকার একদম অন্য লুক ও ফিল দিয়েছে এই সিনেমাতে। সবমিলিয়ে ফিডব্যাক খুব পজেটিভ, ভালো কাজ স্বীকৃতি পেলে তো ভালোই লাগে…

যখন প্রথম শুনলে ‘উমা বৌদি’কে, কেমন লেগেছিল?

স্বস্তিকা-  এ-এমা ! (হাসি) আমি ভেবেছিলাম এটা আমি কি করে করবো? এরকম চরিত্র তো আগে করি নি তবে সেটা অবশ্য আমার একটা ভীষণ সচেতন সিধান্ত যে কোন চরিত্র রিপিট করবো না, দর্শকদের কাছে নতুন ভাবে প্রেজেন্ট  করা আমার লক্ষ্য থাকে তাই এক্সাইটেড তো হয়েই ছিলাম! বম্বেতে ওয়েব সিরিজ নিয়ে কাজ হলেও কলকাতায় বা বাংলাতে এটা প্রথম বলতে পারো..

ডিজিটাল মিডিয়ামে এটা একটা বিপ্লব..

স্বস্তিকা- না ঠিক বিপ্লব বলবো না, কিন্তু এটা একটা নতুন জিনিস ভেঙ্কটেশ করলো এবং ওরাই বেস্ট পার্সেন এই কাজের জন্য। এতো প্রফেসানলি, ঠিকঠাকভাবে মানুষের কাছে ওরিজিনাল ওয়েব সিরিজ থেকে সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা সবকিছু কোন টেকনিক্যাল ফল্ট ছাড়া পৌঁছে যাচ্ছে এটা  এসভিএফ ছাড়া সম্ভব হত না। আজকের ইয়ং জেনারেশন মোবাইলেই থাকে বেশীর ভাগ সময় আর এখানে সেন্সর বোর্ডের ঝামেলাটাও নেই।

‘বৌদি’ তকমাটা নিয়ে তুমি নিজে কতোটা কমফোর্টেবল?

স্বস্তিকা- দেখো আমি অভিনেত্রী হিসেবে যে কাজটা যখন করি সেটা নিয়ে যদি একটা আলোড়ন সৃষ্টি করে তখন সেখানে  আন-কমফোর্টেবল ফিল করার কোন ব্যাপার নেই, এই নামে কেউ  ডাকে নি তবে ইদানিং শুরু হয়েছে (হাসি), সেদিন বুম্বাদার বিজয়া  সম্মিলনীতে অনেকে বলছে, “এবার কি তোকে বৌদি বলে ডাকবো?”, “তোমাকে বৌদি বলে ডাকবো?” (হাসি)! এটা খুব ফানি জিনিস হচ্ছে, নতুন একটা ডাক শুনতে পাচ্ছি, বুঝতে পারছি মানুষের ভালোলাগা  তৈরি হচ্ছে…

এবং এই বৌদি এখন আন্তর্জাতিক, শুধু বাংলা বা ভারতে নয়…

স্বস্তিকা- হ্যাঁ (হাসি)… ফোনে অ্যাপটা হওয়ার জন্য তুমি যদি আইসল্যান্ডেও বসে থাকো জাস্ট ডাউনলোড ও সাস্ক্রাইব করো আর দেখো, রিচটা সিনেমার থেকে অনেক বেশী গোটা বিশ্বে তাই ভিউয়ারশিপ অনেক বেশী। এবং বাংলায় প্রথম কোন এরকম একটা প্রোজেক্টে থাকতে পেরে নিজেরও খুব ভালো লাগছে…

তোমার করা বাকি ‘বোল্ড’ চরিত্রগুলোর সঙ্গে এই চরিত্রটা তুলনা করলে কোন পজিশেনে রাখবে উমাবৌদি’কে?

স্বস্তিকা- আমার ‘বোল্ড’ শব্দটা নিয়ে আপত্তি রয়েছে আসলে কলকাতার প্রেক্ষাপটে এই শব্দটার আসল মানে কি সেটা বোঝা মুস্কিল। ছোট জামাকাপড় পরলে বা দুটো চুমু খেলেই সেটা বোল্ড হয়ে যায় না!  আমি পার্সোনালি মনে করি না। একটা ছবি যখন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বানানো হয় তখন কোন বিশেষ চরিত্র নয় গোটা সিনেমাটাই বোল্ড হয়, জামাকাপড় বা ডায়ালগে নয়। ‘দুপুর ঠাকুরপো’ করার সময় একটাই কথা আমাদের মাথায় ছিল এটা যেন স্লিজি না হয় মানে ভীষণ আপত্তি থাকবে বা বিষয়টা নিয়ে কারুর সাথে কথা বলা যাবে না তা নয়, এন্টারটেনমেন্ট ফ্যাক্টরটা থাকতে হবে সেটাই আছে পুরোপুরি। ‘লেগে গেছে লটারি’ গানটা ফেসবুকে ৭ লাখ মানুষ প্রায় দেখে ফেলেছেন সেখানে তো কোন বোল্ড কিছু নেই… মানুষের নিশ্চয়ই ভালো লাগছে, মজা পাচ্ছেন তাই দেখছেন…

তাহলে ‘সাহসী’ শব্দটার সঙ্গে একমত হবে নিশ্চয়ই?

স্বস্তিকা- এই ‘দুপুর ঠাকুরপো’ নামটা নিজেই একটা সাহসী নাম! কথাটার মধ্যে একটা নিষিদ্ধ গন্ধ আছে কারণ মানুষ এটা নিয়ে কথা বললে অনেক রেখে ঢেকে কথা বলেন। অনেকে আবার ইরিটেট হয়ে যান যে ভাবে প্রোমোশন হল সেইভাবে কিছুই তো নেই এপিসোডে এটা দেখে কিন্তু ঐ নিষিদ্ধ গন্ধটা রেখেই বানানো হয়েছে সব এপিসোডগুলো যেটা কিন্তু মানুষ এখন লুফে নিচ্ছেন। পজেটিভ ফিডব্যাকস আর মোর মোর ওয়ে দেন নেগেটিভ ফিডব্যাকস!

যে ডিজিটাল মিডিয়ার কথা বললে সেখানে কিছু নিম্নমানসিকতারও মানুষ থাকেন, যেমন তোমার মহালয়ার দিন পোষ্ট করা মা দুর্গা’র ছবিতে কুরুচিপূর্ণ কমেন্ট করেছিলেন একজন, এরাও তো এই মিডিয়াতে ঘোরাফেরা করছে, এদের আটকাবে কিভাবে?

স্বস্তিকা-  আমার মনে হয় এই ধরনের দর্শকের সংখ্যা খুব কম! এদের লক্ষ্য হচ্ছে অ্যাটেনশেন পাওয়া যে কোন উপায়ে। আমার ফেসবুক পেজে  অনেক এরকম মেসেজ বা মন্তব্যে আসে এগুলো গুরুত্ব দিই না কিন্তু এটা নিয়ে রিয়্যাক্ট না করে পারলাম না। যাদের নিম্নমানসিকতার পরিচয় দেওয়ার থাকবে তারা ভগবানকেও ছাড়বে না, আমি ‘দেবী চৌধুরানী’ করি বা ‘দুপুর ঠাকুরপো’ করি আমার বা কারুর শরীর নিয়ে কমেন্ট করার হলে তারা করবে, এদের কথা ভেবে আমি কোন চরিত্র সিলেক্ট করবো না। তবে এই সংখ্যাটা খুব কম, সব কিছুর তো ভালো-খারাপ থাকে। আর উমাবৌদি নিয়ে কথা হচ্ছে না যে তা নয় যাদের করার ঠিক করছেন কারণ আমি যদি ১০০টা মেসেজ পাই তার মধ্যে ১০টা ১৫টা এমন থাকে বলার মত না, মনে হয় এই লোকগুলো কথাতেই রেপ করে দিতে পারে !! এতোটাই নোংরা এগুলো নিয়ে কথা বলা যায় না তাই গুরুত্ব না দেওয়াই উচিৎ। আবার এটাও দেখেছি কিছু লোক শুধু রিপ্লাই পাওয়ার জন্য এইসব করে যাচ্ছে, ভালো বলুক খারাপ বলুক কেউ তো এড়িয়ে যেতে পারছে না (হাসি)!

একটু আগে বললে কলিগ’রা ‘বৌদি’ বলে ডাকা শুরু করে দিয়েছে, কিছুদিন পর একজন সাধারণ দর্শক তোমাকে রাস্তাতে ‘বৌদি’ বলে ডাকল! সাড়া দেবে?

স্বস্তিকা- (হাসি) অতোটা অন্তঃস্থ হয় নি ব্যাপারটা, ওটাতে একটু সময় লাগবে! মজার উপর আছে এখন ঠিক আছে তবে হ্যাঁ যেভাবে ‘দুপুর ঠাকুরপো’ সাড়া ফেলছে এই দিনটা খুব তাড়াতাড়ি ঘনিয়ে আসবে বেশ বুঝতে পারছি (হাসি) একটু ভয়েই আছি…এতো ভালো ভালো কাজ করলাম কিন্তু  এখন মনে হচ্ছে এই একটা উমা বৌদি করে মানুষ যেভাবে বলছেন নিজের মনে হচ্ছে যেন আগে কোন কাজই করি না, নতুন ইন্ডাস্ট্রিতে লঞ্চ হলাম !(হাসি)

তাহলে ‘উমা বৌদি’ বাঙালীর কাছে একটা বিশেষ ব্র্যান্ড হতে চলছে…

স্বস্তিকা- (হাসি) যা ফিডব্যাক পাচ্ছি সেরকমই মনে হচ্ছে কারণ বাকি  ১০ নং এপিসোড অবধি কি কি কেলেঙ্কারি হতে চলেছে  সেটা তো আমি জানি, শুট করে ফেলেছি। হয়তো নামটাই চেঞ্জ করতে হল (হাসি), স্বস্তিকা মুখার্জি থেকে উমা বৌদি!

প্রশ্নের ওপারে- শুভদীপ কাজলী (এডিটর)।