“আমাদের এই ছোট্ট ইন্ডাস্ট্রিতে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে”- শ্রাবন্তী।

এখন একদম বিন্দাস মুডে শ্রাবন্তী, কেরিয়ারে অনেক সুপারহিট দিয়ে এখন কমার্শিয়াল সিনেমা করলেও চাইছেন একটু অন্যধরনের রোল করতে, নায়িকা নন অভিনেত্রী হিসেবে থাকতে চান ভক্তদের মনে তাই মানুষ  দিওয়ালিতে কেন দেখবেন ‘জিও পাগলা’? জিজ্ঞেস করতেই ঝটপট উত্তর, “রবি কিনাগি’র পরিচালনা, রানে’দা (নিসপাল সিং)র প্রযোজনা, জিৎ গাঙ্গুলি’র গান, আটজন স্টার আর সঙ্গে ফুল কমেডি, মস্তির ছবি..” আর কি চাই! এতএব বুঝতেই পারছেন অভিনেত্রী আপনাদের জন্য কালীপুজোতে হাসির তুবড়ি নিয়ে প্রস্তুত, নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে একদম ব্যক্তিগত রেখেই ‘জিও পাগলা’তে ঠিক কতোটা পাগলামি করলেন তার হিসেব নিকেশ নিয়ে বসলেন আমাদের সাথে আড্ডা দিতে…

তোমার কি ছেলেদের প্রতি কোন রাগ-ক্ষোভ আছে নাকি?

শ্রাবন্তী- (চোখ বড় করে তাকিয়ে) বা-ব-বা! প্রথম শুনলাম এটা! কেন??

তোমার সিনেমাতে ছেলেরা আজকাল মেয়ে সাজচ্ছে, কাঠমুন্ডুতে রুদ্রনীল ঘোষ, এই সিনেমাতে সোহম, বনি এমনকি শোনা যাচ্ছে বেশ ‘কেলিয়েছো’ ছেলেদের…

শ্রাবন্তী- (হাসি) আমি তো ‘বীরপুরুষ’ থেকে কেলানো স্টার্ট করেছি…যেটাকে পাতি বাংলায় ‘কেলানো’ বলে। কিন্তু এখানে আমরা চার জন হিরোইনই আমাদের ফাইট মাস্টারকে বলেছিলাম, হিরোরাই শুধু গুন্ডাদের মারবে তা কি করে হয়! আমরাও একটু মারপিট করি! আর এই ‘জিও পাগলা’তে যে ওরা মেয়ে সেজেছে সেটার একটা অন্য ব্যাপার আছে, সেটা ছবিটা দেখলেই বোঝা যাবে। পুরোটাই মারপিট পাগলামো, মেয়ে সাজা অনেক কিছুই আছে ছবিতে…

পাঁচ বছর আগের রিমেক সিনেমা আর এখন রিমেক সিনেমা পরিস্থিতি কতোটা চেঞ্জ হয়েছে?

শ্রাবন্তী- এখন নতুনভাবে স্টোরিও হচ্ছে, এখন দর্শক যেরকম গল্প চাইছেন সেইরকম গল্পেও কাজ হচ্ছে, হ্যাঁ আমিও অনেক রিমেক ছবি করেছি এবং সেগুলো সুপারহিটও হয়েছে! তবে সবসময় যে রিমেক ছবি চলে না তা কিন্তু নয়, বলিউডেও অনেক রিমেক ছবি হয়, এই তো “জড়ুয়া ২” হল।  আমার মনে হয় রিমেক ছবির পাশে একটা ফ্রেশ গল্প নিয়েও সিনেমা করা উচিৎ।

২০০৩ থেকে রবিজি’র সাথে তোমার জার্নি শুরু, এখন ‘জিও পাগলা’, কতোটা গুরুত্বপূর্ণ উনি তোমার কেরিয়ারে?

শ্রাবন্তী- আমার কাছে উনি গডফাদার, ২০০৩এ ‘চ্যাম্পিয়ন’র ডিরেক্টর, এরপর যখন ৫ বছর পর কামব্যাক সিনেমা ‘ভালোবাসা ভালোবাসা’র পরিচালকও উনি, ভীষণ লাকি উনি আমার জন্য! যতগুলো সিনেমা করেছি ওনার সাথে সবই প্রায় হিট তাই এবারেও ভীষণ আশাবাদী ‘জিও পাগলা’ও সুপারহিট হবে।

তোমার বিপরীতে যীশু সেনগুপ্ত, প্রথম রিয়াকশেন কি ছিল যখন জানলে এই জুটির কথা?

শ্রাবন্তী-  আমার ভীষণ ইন্টারেস্টিং লেগেছিল আর যীশুদার সাথে আমি ছোটবেলায় অনেক সিরিয়াল করেছি, বোনের চরিত্র, স্ত্রী’র চরিত্র, জুটিতে অনেক কাজ করেছি ছোটপর্দায় কিন্তু বড়পর্দায় এটা ফার্স্ট। আগে থেকে যীশুদার সাথে অনেক স্ক্রিন শেয়ার করেছি তাই ঐ কানেকশন নিয়ে কোন চাপ হয় নি, এদিক ফেসবুক, টুইটার সব জায়গায় মানুষ বলছে, দারুন লাগছে এই জুটিকে, খুব পজেটিভ ভাইভস পাচ্ছি!

ইতিমধ্যেই আরও একটা সিনেমা করছো যীশু’র সাথে, শুটিং কেমন চলছে?

শ্রাবন্তী- হ্যাঁ, সৃজিতদা’র সাথে প্রথম সিনেমা (উমা) আমার, ভীষণ ইন্টারেস্টিং একজন ডিরেক্টার, খুব ফাস্ট, স্পোর্টি, ভীষণ এনজয় করছি শুটিংটা।

সিনেমাতে চারটে জুটি, এক একটা আলাদা করলে রীতিমত ফিচার ফিল্ম হয়ে যায়, সেখানে এতোজন স্টারের স্ক্রিন প্রেজেন্স টাইম নিয়ে কতোটা খুশি?

শ্রাবন্তী- একদম খুশি, কারণ পরিচালকটা রবি কিনাগি আর প্রযোজক নিসপাল সিং, সুরন্দির ফিল্মস। এঁরা সবার চরিত্র খুব ভেবে চিন্তে নিয়েছে এবং জাস্টিস করেছে প্রত্যেকটা ক্যারেক্টারে। সবাই খুব স্পেশাল স্পেশাল রোল পেয়েছে সেটা এই ছবির একটা বড় ইউএসপি। রবিজি সবাইকে সমান জায়গা দিয়েছেন।

তোমাকে যদি এই স্বাধীনতাটা দেওয়া হয় যে চারজন নায়কের মধ্যে নিজের পছন্দের নায়ক বেছে নিতে! কার নাম নিতে?

শ্রাবন্তী- যীশু সেনগুপ্ত।

কেন?

শ্রাবন্তী- কারণ আমার সাথে ভালো মানাচ্ছে। সোহম-হিরনের সাথে অনেক সিনেমা করেছি, বনির সাথে প্রথম আর যেহেতু পরিচালক ঠিক করে দিয়েছে যখন…

সেটে সবথেকে পাগলামি কে করলো?

শ্রাবন্তী- সব্বাই… বেশী হচ্ছে সোহম ও যীশুদা, ভীষণ দুষ্টু ওরা (হাসি), আটজনই পাগলামি করেছে আর আমি তো সব সেটেই পাগলামি করি (হাসি)…

‘জিও পাগলা’ করে নাকি ভীষণ রিলিফ পেয়েছ?

শ্রাবন্তী- হ্যাঁ, একদম, এমনিতেই কমেডি সিনেমা, এছাড়া শুধু এটা নয়, সব সিনেমা করেই আমি রিলিফ পাই,, ‘উমা’,’বীরপুরুষ’ সবগুলোই… আসলে আমার কাছে আমার কাজটা বেশী ইম্পরট্যান্ট। আর যে কটা সিনেমা এখন করছি প্রত্যেকটাই আলাদা আলাদা চরিত্রের…

নায়িকাদের নাকি কেরিয়ারের একটা নির্দিষ্ট সময় থাকে। বিশ্বাস করো এটা?

শ্রাবন্তী- নায়িকার কথা জানি না কিন্তু যদি অভিনেত্রী হিসেবে কাজ করি তাহলে অনেকদিন কাজ করা যায়, যেমন ঋতুদি (হাসি)…

ইন্ডাস্ট্রিতে নায়িকারা ভালো বন্ধু হয় না, যা আছে সবটাই ওপর-ওপর, এটা কি ঠিক?

শ্রাবন্তী- দেখো আমি আমার কথাটাই এখানে বলতে পারি, আমার সবার সাথেই ভালো বন্ধুত্ব, হয়তো সবার সাথে দেখা হয় না সেভাবে, আমি কোনদিনই কারুর খারাপ চাই না, সবার ভালো হোক সঙ্গে আমারও। হাই-হ্যালো সবার সাথেই আছে। এই ছবির জন্য পায়েল, কৌশানি’র সাথে খুব ভালো বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে ঋত্বিকা খুব বাচ্চা ওকে আমরা ঐভাবে ট্রিট করি (হাসি)! আমাদের এই ছোট্ট ইন্ডাস্ট্রিতে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে, কোনদিন কোন সিনেমায় আবার একসাথে কাজ করবো সেটা তো বলা যায় না! ব্যবহারটা ভালো রাখা উচিৎ…

ইদানিং দু’জন নায়িকার মধ্যে একটা সংঘাত তীব্রভাবে দেখা গেছে নিশ্চয়ই তোমার কানে এসেছে, তুমি একজন সিনিয়ার হিসেবে নবাগত নায়িকাদের কি বলতে চাইবে, এইধরনের সমস্যার ক্ষেত্রে…

শ্রাবন্তী- হমম…তবে আমি টিপস দেওয়ার কেউ না, দেখো একটা কথা বলতে পারি, প্রত্যেক মানুষের একটা নিজস্ব চরিত্র আছে, আমি শুধু বলবো কাজটা মন দিয়ে করো আর বাকি সব যায় ভাঁড় মে…

বিতর্ক বা নেগেটিভ মার্কেটিং কোন প্রভাব ফেলে না?

শ্রাবন্তী- আমার মনে হয় না কোন প্রভাব পড়ে বলে , আমি দেখেও ব্যাপারগুলো না দেখে বেরিয়ে যাই! কোন ইন্টারেস্ট নেই আমার…

বহুল-চর্চিত এই ছবিটা! এবার বলো যদি তুমি নায়ক হতে কাকে হিরোইন হিসেবে বেছে নিতে?

শ্রাবন্তী- আমার দুজনকেই চাই !! এ হচ্ছে হট বৌদি (সোহমের দিকে আঙুল দেখিয়ে) আর অন্য জন(বনি) সুপার মডেল (হাসি আর থামে না…)

প্রশ্নের ওপারে- শুভদীপ কাজলী (এডিটর)।