“বিনয় পাঠকের অভিনয় দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন আছে নাকি?” – পাভেল।

‘বাবার নাম গান্ধীজী’তে ভীষণ ভাবে নজর কেড়েছিল এই তরুন পরিচালক পাভেল। কিছুদিন আগেই শিরোনামে এসেছিলেন কারণ তিনি করছেন ‘রসগোল্লা’ উইন্ডোস প্রোডাকশন হাউসের ব্যানারে তবে ঠিক এর মাঝেই চুপচাপ বোমা ফাটালেন বাংলা সিনেমাতে বিনয় পাঠকের মত অভিনেতাকে কাস্ট করিয়ে, সিনেমার নাম ‘চেগু’। তাঁরই প্রোডাকশন হাউসের ব্যানারে পরিচালনা করছেন আরেক তরুন পরিচালক নবমিতা কর্মযজ্ঞে নামার আগে কি ভাবছেন তরুন প্রোডিউসার? শুনলাম আমরা…

ইতিমধ্যেই একটা সিনেমা পরিচালনা করে ফেলেছ, আর ‘চেগু’তে স্টোরি, ডায়লগ, স্ক্রিন-প্লে তোমার করা তাহলে পরিচালনাটা বাদ থাকলো কেন?

পাভেল- খুব ভালো প্রশ্ন, কারণ দেখো যেহেতু আমি নিজে প্রযোজনা করছি আর প্রযোজনা করে পরিচালনা করেন দুই ধরনের লোক, একটা হচ্ছে শিবপ্রসাদ মুখার্জি-নন্দিতা রায়, আমির খান এই ধরনের লোক যাদের ছবি গ্যারেন্টি নিয়ে হিট হয় আরেকটা হচ্ছে যারা আসলে প্রোডিউসার পায় না, নিজের টাকাতেই বানাতে হয়, আমি এই দুটোর কোনটায় পড়ি না। এছাড়া আরেকটা কারণ আমার নিজের কাছে একটা কমিটমেন্ট ছিলে যে ‘বাবার নাম গান্ধীজী’র পর ‘রসগোল্লা’ই ডিরেক্ট করবো তাই অনেকদিন ধরে ওতে কাজ করছি, মাঝখানে ডিরেকশনে আসতে চাইছি না।

এই মুহূর্তে বাংলা সিনেমাতে নতুন প্রোডিউসারের কাছে ব্যবসার পরিস্থিতিটা কতোটা স্বাস্থ্যকর?

পাভেল- দেখো একটা কথা বলি, নতুন কেউ যখন কোন জায়গায় আসে কোন কিছুই পক্ষে থাকে না। ধরো তোমার পাড়ায় একটা রুটি-তড়কার দোকান আছে, প্রচুর সেল তুমি ঠিক তার উল্টোদিকে একটা দোকান দিলে রুটি-তড়কার একদিনে তো সেই ব্যবসা তুমি পাবেই না। এটা ভেবেই মাঠে নামছি। আমি প্রোডিউসার হিসেবে একজনকেই মানি শশী কাপুর। হিট-ফ্লপ বাদ দিয়ে তো ভালো সিনেমাও বানাতে হবে। শশী’জি যখন ‘জুনুন’ বা ‘৩৬ চৌরঙ্গী লেন’ প্রডিউস করেন তখন কিন্তু ভাবেন নি যে তিনি যে ‘শান’ করেছিলেন তার মত ব্যবসা দেবে! যে ছবিতে বিশ্বাস ছিল সেই বিশ্বাস থেকে ছবিগুলো প্রডিউস করেছিলেন, আমিও তাই করছি।

বোধহয় এইসময় তুমি একমাত্র ইয়ং প্রোডিউসার যে ব্যবসার কথা না ভেবে প্রডিউস করছে…

পাভেল- (হাসি) আমার কাছে ছবির হিসেবটা খুব ক্লিয়ার। মানে কোন ছবি ব্যবসা দেবে, কোন ছবি বেশী মানুষের ভালো লাগবে, কোন ছবি পয়সা কামানোর জন্য বানানো নয় সেই হিসেবগুলো ক্লিয়ার। আর ‘চেগু’ কিন্তু আমি পয়সা কামানোর কথা মাথায় রেখে বানাচ্ছি না যদিও একটা হাইপ তৈরি হয়েছে প্রথম দিন থেকে বিনয় পাঠক আছেন বলে!

তাহলে কেন বিনয় পাঠক?

পাভেল- কেন? বিনয় পাঠকের অভিনয় দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন আছে নাকি?

নাহ প্রশ্ন নেই, তবে বলিউড থেকে অভিনেতা আমদানি করতে হচ্ছে কেন?

পাভেল- এটা ঋতুপর্ণ ঘোষ শিখিয়ে গেছেন আমাকে!! (হাসি) না, না সেটা ঠিক নয়! ব্যাপারটা হচ্ছে এই রোলটা একজন বিহারি মুসলমানের যার ৯০% ডায়লগ হিন্দিতে, সেই জন্য ওনাকে নেওয়া আর ছোটবেলা থেকেই আমি ওঁর ফ্যান আর যখন দেখলাম বিনয় পাঠক আগে এই রোল করেন নি আর পুরো ব্যাপারটা খাপে-খাপ হচ্ছে তাহলে অসুবিধে কিসের! আমি সেই প্রোডিউসার যে কাজের উৎকর্ষতার জন্য পয়সা নিয়ে ভাবে না।যদি কোনদিন অমিতাভ বচ্চনকে কাস্ট করার ইচ্ছে হয়, গল্পের ডিম্যান্ড থাকে আমি অবশ্যই যাব তাঁর কাছে, পয়সা নিয়ে ভাববো না, আগে তো ওনার পছন্দ হোক স্ক্রিপ্টটা তখন লাগে টাকা দেবে গৌরি সেন!

প্রথম স্ক্রিপ্টটা শোনার পর বিনয় পাঠকের রিয়েকশন কি ছিল?

পাভেল- ওরকম ব্যাপারটা হয় নি আসলে! আমার সাথে বিনয় পাঠকের যোগাযোগ হয় ‘টিউবলাইট’, ‘ওয়ে লাক্কি লাকি ওয়ে’র ডায়লগ রাইটার, আমার খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু মানুঋষি চাড্ডা’র মাধ্যমে। তো উনি বলেন যে স্ক্রিপ্ট পাঠাতে যদি পছন্দ হয় তাহলে ফোন করবেন নাহলে করবেন না, সেইমত আমি পাঠিয়ে বসে আছি! খুব কম সময়ের ব্যবধানে উনি ফোন করলেন আমাকে, জিজ্ঞেস করেন কে লিখেছে গল্পটা? বললাম, “স্যার, আমি” তারপর বলেন কে প্রোডিউসার? “স্যার, আমি” তুমিই প্রোডিউসার, তুমিই রাইটার হু আর ইউ? “স্যার, আমি পাভেল।” তারপর দেখা হয়, সব কথার পর বলেন, “জানো আমি ৫০’র বেশী রিজিওনাল ছবি রিজেক্ট করেছি ইনক্লুডিং তামিল, তেলেগু এন অল!” বললাম,”ইয়েস স্যার, অ্যাই ক্যান গেস ইট, থ্যাঙ্ক ইউ” “বাট আই উইল ডু দি ফিল্ম, দ্যা মোস্ট ইয়ং ক্রিয়েটিভ প্রোডিউসার আই এভার মিট!”

পরিচালকের উপর কতোটা ভরসা আছে?

পাভেল- আমি একটা ভিশন ভেবেছি এবং পুরো টিম সেখানে ভীষণ খেটে কাজটা করছে, আমার পুরো আস্থা আছে পরিচালকের উপর কারণ ভীষণ কথা শোনে, পরিষ্কার মাথা তাছাড়া আমি ওর নাটকে ডিরেকশন দেখেছি খুব ভালো কম্পোজিশেন সেন্স আর আমি এই টিমের ভি ভি এস লক্ষন যদি দেখি ওপেনাররা কাজ বের করে দিচ্ছে তাহলে চাপ নেব কেন? আর যদি না হয় তাহলে আছি  নাইটওয়াচ ম্যান হয়ে ম্যাচ বের করার জন্য (হাসি)

ইশান ও অরুনিমা, আবার দুজন তরুনকে মাঠে নামাচ্ছ একদম ফ্রন্টে রেখে…

পাভেল- হ্যাঁ, আমি ‘বাবার নাম গান্ধীজী’তেও তো তাই করেছি ইনফ্যাক্ট ‘রসগোল্লা’তেও তাই! এতো বড় সিনেমা হচ্ছে সেখানে মেন হিরো-হিরোইনই নতুন, আমার কাছে গল্পই হিরো। আমি চিরকাল নতুনদের সাথে কাজ করতে ভালোবাসি, ‘চেগু’তে তাই হচ্ছে আর সেখানে সাপোর্টে থাকে খুব স্ট্রং লোকেরা এখানে যেমন বিনয় পাঠক, সুদীপ্তা চক্রবর্তী, শান্তিলালদা, চন্দনদা, এনা…’রসগোল্লা’তেও সেরকম আছে খরাজদা, ঋতুদি, অপরাজিতাদি এঁরা । আমার তিনটে ছবিতে এই প্যাটার্নেই হচ্ছে…

বেশ ইন্টারেস্টিং প্যাটার্ন! তাহলে কর্মযজ্ঞ কবে শুরু হচ্ছে?

পাভেল- ১৪ই অক্টোবর শুরু হচ্ছে, ২১ নাগাদ বিনয় পাঠককে পাব… আমি ইন্টারেস্টিং প্রোজেক্টই করি (হাসি) আর একই টিম নিয়ে কাজ করি।

প্রশ্নের ওপারে- শুভদীপ কাজলী (এডিটর)।