গতবছরের বেশ গুমোট একটা দিন কলকাতার এক ব্যঙ্কোয়েটে চলছে একটি নতুন সিনেমার শুটিং। প্রোডাকশন হাউস থেকে, পরিচালক থেকে, অভিনেতা-অভিনেত্রী থেকে সবার ডেবিউ একসাথে! সেদিন আবার ছিল এই ঝাঁক তরুণ প্রতিভার সাথে ইন্ডাস্ট্রির প্রবাদপ্রতিম অভিনেতা সৌমিত্র চ্যাটার্জি’র শুটিং, ওদিকে মেকআপ রুমে মেকআপ করে একদম বিন্দাস মুডে আড্ডা মারছেন নবাগত রাজদীপ সরকার এবং ছোটপর্দার পরিচিত মুখ গীতশ্রী রায়! কে বলবে নিজেদের ডেবিউ সিনেমা নিয়ে চাপে আছেন? সেদিন শুট শেষে সৌমিত্রবাবু দিয়ে গেছিলেন তৃপ্তির সার্টিফিকেট এই ইয়ং ব্রিগেডের সাথে কাজ করার জন্য…আজকে সেই সিনেমা “অন্তর সত্তা”র রিলিজের শুভ মুহূর্ত এসে পড়েছে, তার আগে অবশ্য উজান (রাজদীপ)-মিষ্টি (গীতশ্রী) সেই বন্ধুত্ব, খুনসুটি বজায় রেখে বসলেন আমাদের সাথে আড্ডা দিতে…

আজকে তোমাদের প্রথম সিনেমা রিলিজ করছে, কি চলছে মনে? চাপ, ভয় আনন্দ?

গীতশ্রী- (হাসি) পুরো মিক্সড, সবটাই আছে! আমার মনে হয় দর্শকরা সিনেমাটা দেখবেন, ভালোবাসবেন আমাদের কাজ কিন্তু যতক্ষণ না ওনাদের ফিডব্যাক পাচ্ছি ততক্ষন তো টেনসেন চলবেই…

রাজদীপ-  হ্যাঁ, আমারও একই অবস্থা খুব টেনসেনে আছি দর্শকদের ফিডব্যাকের জন্য, খুব পরিশ্রম করে বানিয়েছি সিনেমাটা…

গল্পটা তো একদম সাধারণ মানুষের জীবন থেকেই নেওয়া…

রাজদীপ- একদম সব মানুষ নিজের সাথে এই গল্পটা রিলেট করতে পারবেন, ভীষণ টাচি একটা গল্প, আমি নিজেও একটু চাপে আছি অভিনেতা হিসেবে মানুষ আমাকে কিভাবে নেয় সেটা দেখার জন্য…

কিছুদিন আগে ফেসবুকে তোমার  (গীতশ্রী) পোস্টে এক উৎসাহী দর্শকের প্রশ্ন, “এই সিনেমাটা টিভিতে কবে আসবে?” আবার আজকে এই কাফের বিপরীত টেবিলে বসা ভদ্রমহিলার প্রশ্ন, “উনি গীতশ্রী না?” একদম স্পষ্ট একটা প্রশ্ন… এই সিনেমার পর রাশি না গীতশ্রী, কোনদিকে পাল্লা ভারী?

গীতশ্রী- (হাসি) ভীষণ কঠিন এর উত্তর দেওয়া ! আমাকে যারা ভালোবাসে, আমার ফ্যান, শুভাকাঙ্ক্ষী আমি একদম সিউর ওঁরা হলে গিয়ে অবশ্যই আমার প্রথম সিনেমা দেখবে,  একটা চিন্তা থাকেই ওঁরা সবাই আমাকে ছোটপর্দায় দেখে অভস্ত্য তাঁরা আমাকে বড়পর্দায় মিষ্টি হিসেবে কতটা গ্রহণ করবে সেটা দেখার বিষয় কিন্তু আমি ভীষণ আশাবাদী…

তোমার সাথে অভিনয় জগতের সম্পর্কটা কিভাবে শুরু হল?

রাজদীপ- আমার কাছে অভিনয় বলতে স্ট্রিট প্লে, নাটক… যখন দিল্লিতে পড়াশুনো করতাম তখন চুটিয়ে অভিনয় করেছি তারপর কলকাতায় চলে আসি অফিসের চাকরি নিয়ে তারপর এই প্রথম সিনেমা…

শুটিং এর সময় অফিস, কাজ একসাথে সামলাতে এখন কি ভাবে ম্যানেজ করছো?

রাজদীপ- আমি চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছি, হ্যাঁ তখন খুবই চাপ গেছে কিন্তু এখন রিজাইন দিয়ে দিয়েছি পুরোপুরি মন দিয়ে অভিনয়টাই করতে চাই…

ছোটপর্দায় এত জনপ্রিয়তা তারপরও কোথাও মনে হয়েছে তোমার পাবলিক রিলেশনটা একটু হলেও কম?

গীতশ্রী- হ্যাঁ, এটা ঠিক! আমি ফ্র্যাঙ্কলি স্বীকার করে নিচ্ছি আমার পিআর একদম নেই! (হাসি) সবাই বলে পার্টিতে যেতে, অনেক আমন্ত্রনও পাই কিন্তু আমি কাউকে না চিনলে সেখানে যাই না…

পিআর ছাড়াও কাজ পাওয়া যায় বলছো…

গীতশ্রী- ১০০% পিআর দিয়ে কাজ পাওয়া যায় না, তবে হ্যাঁ অবশ্যই এটা ম্যাটার করে নিজের কাজ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য, ইন্ডাস্ট্রির মানুষদের কাছে নিজের পরিচিতি বাড়ানোর জন্য…ওকে  আই উইল ট্রাই টু ইম্প্রুভ (হাসি)…

পরিচালক একদম নতুন, কেমন ছিল অভিজ্ঞতা?

গীতশ্রী- প্রথম যেদিন ঋক আমাকে গল্পটা শোনায় তখন নিজেকে খুব রিলেট করতে পেরেছিলাম, ফিল করতে পেরেছিলাম গল্পের সাথে, আমার মনে হয় দর্শকরাও নিজেদেরকে ভীষণভাবে মেলাতে পারবেন চরিত্রের সাথে…সেটাই তো আমাদের কাছে পাওনা হবে। বিহানদা’র শট টেকিং ভীষণ ডিফারেন্ট, আমার একদমই লেস-মেকআপ, ন্যাচারাল দিকটা সবসময় মাথায় রাখতো… সব মিলিয়ে খুব ভালো অভিজ্ঞতা তবে (অনুযোগের সুরে) আমাকে খুব তাড়া দিত, চেঞ্জ করারও সময় দিত না (হাসি)…

তোমার সাথে আলাপ কিভাবে?

রাজদীপ- ঋকের সাথে আমার আলাপ হয় কিছু শর্ট ফিল্ম বানাতে গিয়ে…তখন থেকেই বন্ধুত্ব শুরু। ও প্রথমেই বলেছিল এই চরিত্রের জন্য আমার লুকটা পারফেক্ট বাকিটা আক্টিং দিয়ে করতে হবে, এখানে তিনখানা এজ গ্রুপ রয়েছে, অভিনয়ের ক্ষেত্রে বিহানদা অনেক হেল্প করেছেন নানারকম ইনপুটস দিয়ে…খুব ভালো একটা এক্সপেরিয়েন্স।

নিজের প্রথম সিনেমার ঘোষণার পর ইন্ডাস্ট্রির কারা প্রথম শুভেচ্ছা জানায়?

গীতশ্রী- আমাকে অনিন্দ্যদা বলেছিল তোর যদি চরিত্রটা ভাললাগে তুই কর, তারপর আমার নিজের বিষয়টা খুব ভালো লেগছিল তাই আমি শুরু করে দিই, তখন আমার যারা কাছের বন্ধু যেমন চান্দ্রেয়ীদি, শ্রীতমা, আরও অনেকে ইন্ডাস্ট্রির থেকে শুভেচ্ছা জানায়…

সিনেমার গল্পের প্রসঙ্গে আসি, সেখানে প্রাক্তন, বন্ধুত্ব থেকে অপূর্ণ প্রেমের একটা গন্ধ আছে যেটা সব মানুষের জীবনেই আছে… তাহলে তোমাদেরও গল্পটা নিশ্চয়ই এক?

রাজদীপ- হ্যাঁ (হাসি) অতীত হয়ে যাওয়া প্রেম তো অনেকের মত আমারও আছেই… এই সিনেমাটা প্রত্যেক মানুষের মন ছুঁয়ে যাবেই, অনেক পুরনো ঘটনা, চাপা পড়ে যাওয়া ঘটনা এগুলো মনে পড়বেই গল্পটা দেখে…

গীতশ্রী- সবার লাইফেই প্রাক্তন থাকে, ভীষণ কমন একটা ব্যাপার… (হাসি)

তাহলে জীবনে প্রাক্তন থাকাটা জরুরী…

গীতশ্রী- হ্যাঁ একদম জরুরী (হাসি)… দেখো প্রাক্তন মানেই একটা ব্যথা, একজন শিল্পী হিসেবে বলা হয় নাকি এই ব্যথা পাওয়াটা জরুরী কাজের ক্ষেত্রে অনেক ইনপুটস পাওয়া যায় এরকম অনেকেই বলেন তবে সবথেকে সুবিধে হচ্ছে নিজেকে অনেকটা পরিনত করে দিয়ে যায়…অনেক কিছু শেখা যায় ভুলগুলো থেকে…

তুমি তো নাকি প্রাক্তন হয়ে কবিতা লেখা শুরু করে দিয়েছিলে…

রাজদীপ- (গীতশ্রীর হাসি থামিয়ে) না না কিছুই হয়ে যাই নি (হাসি) , অভিনেতা হওয়ার চেষ্টা করছি, একটু লেখা লেখি করি ঠিকই সেটা আবার একটু এই উজানের সাথে মিল রয়েছে সেদিক থেকে হয়তো চরিত্রটা জাস্টিফাই করতে পারবো…হুম (একটু থেমে) প্রাক্তন অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে যায় একদম…

সিনেমার গানে রবীন্দ্রনাথের এত প্রভাব কেন? অরিজিনাল গানে কি যাওয়া যেত না?

রাজদীপ- যতটা আমি জানি, প্রথম থেকেই স্ক্রিপ্টের প্রত্যেকটা জায়গায় একদম সঠিকভাবে গানগুলো মিলে গেছে গোটা সিনেমাতে কোথাও জোর করে রবীন্দ্রসঙ্গীত ব্যবহার করা হয় নি, সেটা মানুষ দেখলেই বুঝতে পারবেন…

নিজেদের প্রথম সিনেমাতে এই মুহূর্তে দর্শকদের কাছে তোমাদের প্রত্যাশাটা কিরকম?

গীতশ্রী- অবশ্যই পজেটিভ আমরা, আগেই যেটা বলেছিলাম আমার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ রাশি থেকে গীতশ্রী হয়ে আমার কাজটা যাতে মানুষ পছন্দ করেন আর আমি খুবই আশাবাদী কাজটা পছন্দ করবেন সবাই…

রাজদীপ- প্রত্যেক দর্শকদের কাছে আমার অনুরোধ সিনেমাটা দেখুন প্রত্যেকেই কোথাও না কোথাও নিজেদেরকে উজানের মধ্যে দিয়ে ফেলে আসা ভালোবাসাগুলোকে রিলেট করতে পারবেন অবশ্যই! এই সিনেমা দেখে আপনারা নিজেদের অন্তরের সত্তাটা খুঁজে পাবেনই …

প্রশ্নের ওপারে- শুভদীপ কাজলী (এডিটর)।