এপার বলছে জিৎ সেরা,ওপার বলছে সাকিব সেরা..কি বললেন রজতাভ দত্ত ?

বাংলা চলচিত্রজগতে এক জন গুরুত্বপূর্ণ মানুষ, যার অভিনয়ে বার বার মুগ্ধ হয়েছে দুই বাংলা তিনি রজতাভ দত্ত।

বাংলা চলচিত্রজগতে এক জন গুরুত্বপূর্ণ মানুষ, যার অভিনয়ে বার বার মুগ্ধ হয়েছে দুই বাংলা তিনি রজতাভ দত্ত। “ ষড়রিপু “-র রিলিজের পর কথা হল আমাদের সাথে……ভাগ করে নিলেন একান্ত নিজের কিছু কথা…

শুভদীপ –  আপনার সিনেমা “ ষড়রিপু “ সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে এবং দর্শকরা সিনেমাটি তো দেখছেনই তার সঙ্গে আপনার অভিনয়কে সাধুবাদ জানাচ্ছে তার জন্য gulgal.com আপনাকে জানায় অনেক অভিনন্দন!!

রজতাভ দত্ত – দর্শকদেরও অনেক ধন্যবাদ তাঁরা পছন্দ করছেন সিনেমাটি!

শুভদীপ – ষড়রিপু তে আপনি যোশুয়া বেন-এর চরিত্র করেছেন তার সম্পর্কে কিছু বলুন…

রজতাভ দত্ত –  একজন পার্শি বিজনেসম্যানের চরিত্র তার এখন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড বিজনেস…সে কলকাতার পাঁচ তারা হোটেলের সামনে দিয়ে হাঁটার সময় স্বপ্নেও ভাবতে পারে নি তার ভাগ্যের দরজা খুলে যাবে…গল্পটা শুরু হয় একটি হিরেকে কেন্দ্র করে… বাকি অনান্য রিপুর মধ্যে একটি রিপুকে কেন্দ্র করে চরিত্র টা তৈরি।

শুভদীপ – প্রথম যখন যোশুয়া বেন-কে চেনেন তখন চরিত্রের কোনদিক টা আপনাকে টানে ?

রজতাভ দত্ত – আমার নিজের চরিত্রর থেকেও বেশি ইম্পরট্যান্ট ছিল অয়নের স্ক্রিপ্ট , অত্যন্ত স্মার্ট বুদ্ধিদীপ্ত এবং এমন একটা স্ক্রিপ্ট যাতে বোঝা যায় দীর্ঘদিনের খাটনি রয়েছে আর একটা থ্রিলার কে বোনা এমনিতেই কঠিন ব্যাপার তাই মুগ্ধ করেছিল সব চরিত্রই তাই স্ক্রিপ্ট শোনার পরই মনে হয়েছিল যে চরিত্রই করি না কেন এরকম একটা প্রোজেক্টে যুক্ত হলে ভাল লাগবে।প্রাথমিক ভাবে গোটা স্ক্রিপ্ট- এরই একটা মুল্যায়ন দরকার।

শুভদীপ – পরিচালক অয়ন বাবুর সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

রজতাভ দত্ত – ও খুব রসিক একটি ছেলে মানে ওর রসবোধের পরিচয়  স্ক্রিপ্টে তো পাওয়াই যায় তাছাড়াও পরিচালনার বাইরে ও মজার ছেলে,একজন বুদ্ধিমান ছেলে,পড়াশুনো করা ছেলে  আমার কখনই মনে হয় নি এটা অয়নের প্রথম ছবি বরং একজন অভিজ্ঞ পরিচালক-এর মত কাজ করেছে ও ।

শুভদীপ –  ৮৭ সালে “ অন্তরমুখ “ দলের হাত ধরে আপনার অভিনয় জগতে পথ চলা শুরু …প্রায় ২৯ বছরের এই যাত্রাকে স্বপ্নের যাত্রা বলবেন?

রজতাভ দত্ত –  স্বপ্নের যাত্রা মানে এরকম ভাবে রোমান্টিকতা নিয়ে আসাই যায় কিন্তু যাত্রাটা তো ওরকম স্মুথ ছিল না… ৯০ থেকে ৯৩ সাল অবধি আমি একটা চাকরি করতাম,তারপর চাকরিটা ছেড়ে দিই আমার প্রথম ছবি সাফল্য পায় ২০০০ সালে……এই সাত বছর স্ত্রাগেলের সব দিকটাই দেখে ফেলি…একদিনও সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে দেখি নি যে আমার কাছে সোনার চাবিটা তুলে দেওয়া হয়েছে ফলে যদি কেউ ভালবেসে নিজের কাজ করে যান একদিন তা রিটার্ন দেবেই , আর ধৈর্যটা খুব দরকার।

শুভদীপ – প্রথমদিকে “পারমিতার একদিন”, “ আবার অরন্যে “-এর মত সিরিয়াস সিনেমা দিয়ে আপনি শুরু করেন কিন্তু এখন আপনি কমার্শিয়াল সিনেমার একজন মোস্ট এলিজেবল পারসেন এই রূপান্তরটা কিভাবে হল?

রজতাভ দত্ত –  ২০০২ তে ব্রাত্যর লেখা একটি স্ক্রিপ্টে দেবেশ চট্টোপাধ্যায়ের নির্দেশনায় একটা নাটক করি এই কাজ টা করতে করতে ব্রাত্যর সাথে আলাপ হয় তখন ও একটা সিনেমার প্ল্যান করছিল ও রাস্তা বলে একটা সিনেমা করে যেখানে আমি মূল চরিত্র করি ওখানে মিঠুনদা একটা বিশেষ চরিত্র করেন চার,পাঁচ টা সিনের……আমার কাজ মিঠুনদার খুব ভাল লাগে আর  উনি রেকমেনড করেন তার একটি কমার্শিয়াল সিনেমায় এবং এখন আমার সিনেমার সংখ্যা ১৫০ র কিছু বেশি আজ অবধি … মেন স্ত্রিমে যেটা হয় যখন কোনও চরিত্র সাফল্য পায় সেইরকম একটা ট্রেনড হয়ে যায় ওর কাছাকাছি চরিত্রই দর্শকদের ভাল লাগে এছাড়াও আমার করা টেলিফিল্মের বেশ কিছু কাজ দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছে……তাই প্রথম ছবি র সাফল্যকে মাথায় রেখেই আমার কাজ করে যাচ্ছি।

শুভদীপ – আপনি দুই বাংলার অভিনেতা……ইন্দো-বাংলাদেশ প্রযোজনায় এখন অনেক সিনেমা হচ্ছে এই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ টা কেমন হবে আপনার মনে হয়?

রজতাভ দত্ত-  যেরকম সাড়া পাওয়া যাচ্ছে এটা খুব চমৎকার ব্যাপার একটা। এতে দুই বাংলার অনেক মানুষের কাজের সুযোগও বাড়ছে।  এতে বাংলাসিনেমার বিজনেস্ টা অনেক টা বাড়বে।এই ভালোবাসা অনেক বেড়েছে এর থেকে আনন্দের আর কি হতে পারে।

শুভদীপ – এই সূত্রে একটা প্রশ্ন করি দুই বাংলার দর্শকদের মধ্যে একটা ঠাণ্ডা লড়াই চলছে যে এপার বলছে জিৎ সেরা ওপার চলছে সাকিব সেরা… তো এই দ্বন্দ্ব টা কিভবে দেখছেন?

রজতাভ দত্ত – (হাসি)…না না …এটা তো চিরকালই চলে এসছে আমরা ছোটবেলায় কি শুনি নি উত্তম বাবু সেরা না  সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় সেরা? এটা সুস্থতার লক্ষণ তার মানে ছবি নিয়ে দুই বাংলায়  উন্মাদনা রয়েছে…এটা একদিক দিয়ে থাকা ভাল যদিও দর্শকদের মধ্যে মারামারি হোক এটা কাম্য নয় তবে এটা ভাল লক্ষণ আমি খারাপ বলে মনে করি না।

শুভদীপ – আগামী দিনে আপনার ভক্তরা কি কি সিনেমা পেতে চলেছে ?

রজতাভ দত্ত – ঈদ-এ রিলিজ করছে বাদশা-দি ডন এছাড়াও অনেকগুলি সিনেমা রেডি হয়ে আছে সেগুলো সত্যি জানি না কবে রিলিজ করবে, রিলিজ নিয়ে একটা সমস্যা থাকেই… অনেকগুল সিনেমা আছে যেগুলো বিভিন্ন স্বাদের ছবি রয়েছে তো দর্শকরা এই বছর অনেক ধরনের সিনেমা পাবেন।

শুভদীপ – এখনকার ইয়ং জেনারেশন যারা অভিনয় টা সিরিয়াসলি করতে চায় তাদের জন্য কোনও টিপস দিতে চাইবেন?

রজতাভ দত্ত –  না ওটা একটু গুরুমশাই বানী টাইপের হয় আমি বন্ধুর মতই বলব তোমরা অভিনয় করতে হলে প্রচুর সিনেমা দেখো , প্রচুর বই পড় , ধৈর্য বেশি থাকলে ভাল হয় ……কোথাও না কোথাও এই জিনিস গুলো কাজে লেগে যাবে…

শুভদীপ – এত ব্যস্ততার মাঝে নিজের অবসরে কি করতে ভালবাসেন?

রজতাভ দত্ত –  বই পড়তে, সিনেমা দেখতে,গান শুনতে আর পরিবারের সাথে সময় কাটাতে… শুটিং শেষ হলে বাড়ি ফিরে আসি আমার কন্যা ক্লাস এইটে পড়ে, স্ত্রী আছেন এদের সাথে সময় কাটাতেই বেশি পছন্দ করি।

শুভদীপ – gulgal.com- এর পাঠকদের জন্য কোন মেসেজ দিতে চান?

রজতাভ দত্ত – সমস্ত পাঠক, শ্রোতাদের একটাই কথা বলব ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন, প্রচুর বাংলা বই পড়ুন , সিনেমা দেখুন আর প্রাইরেটেড কপি দেখবেন না… কারন হাউসে গিয়ে সিনেমা দেখার আনন্দ ঘরে বসে পাবেন না…আজকাল মানুষ দু সপ্তাহ দাড়িয়ে যান সিনেমাটা কেমন হয়েছে জেনে দেখবেন বলে … অনেক টাকা তো এমনি নষ্ট হয় তাই নিজে দেখে অন্যকে বলুন কেমন হয়েছে……সবাই ভাল থাকুন,আনন্দে থাকুন , অন্যকে কষ্ট না দিয়ে আনন্দে থাকুন……।