“আমি যাযাবরের মত……” – রাজ চক্রবর্তী !!

দেখতে হলে অবশ্যই যেতে হবে ২৩শে জুন আপনাদের নিকটবর্তী সিনেমাহলে। 'চ্যাম্প' দেখুন এবং অবশ্যই জানান আমাদের কেমন লাগলো দেবের এই অসাধারন প্রচেষ্টা।

২৩শে জুন আসছে এই বছরের সবচেয়ে হাই-ভোল্টেজ ছবি দেবের ‘চ্যাম্প’ আর তার পরিচালকের কাছে প্রত্যাশাটা আকাশ ছোঁয়া হবে সেটাই স্বাভাবিক, আবার পরিচালক যখন বিখ্যাত রাজ চক্রবর্তী, যাঁর ট্র্যাক রেকর্ড বলছে অনেকবারই হলমুখো করেছেন আপামর বাংলার দর্শকদের আর তিনি নিজেও ভীষণ আত্মবিশ্বাসী ‘চ্যাম্প’ নিয়ে! সিনেমার প্রোমোশনের মাঝেই চলছে নিজের সিনেমার কাজ, অঙ্কুশ-নুসরত কে নিয়ে তার পাশে চলছে নিজের প্রোডাকশন হাউসের সিনেমা “নূরজাহান”র কাজ আর কালার্সের এক সিরিয়ালের কাজ, সব মিলিয়ে চূড়ান্ত ব্যস্ত পরিচালক রাজ চক্রবর্তী।  সারাদিনের খাটাখাটনির পর ক্লান্ত পরিচালক অফিসের চেয়ারে বসেই ফোনে ধরা দিলেন গুলগালের সাথে প্রথম আড্ডায়…

বাস থেকে ইলেকট্রিক বিল, ফেসবুকের দেওয়াল থেকে পাশের বাড়ির দেওয়াল সর্বত্র ‘চ্যাম্প’র পোস্টার! এতো মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কতোটা সফল হবে ‘চ্যাম্প’?

রাজ- সেটা  ২৩ তারিখেই বলতে পারবো, আমরা তো আমাদের শেষ বিন্দু দিয়ে চ্যাম্প বানিয়েছি এবং ‘চ্যাম্প’কে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। দেব ‘চ্যাম্প’ নিয়ে এতোটাই এক্সাইটেড ও ইনভল্ভড, আমার মনে হয় নতুন প্রোডিউসার যারা কাজ করতে আসছেন তাঁদের শেখা উচিৎ কিভাবে একটা সিনেমাকে দেখা উচিৎ! আমরা আমাদের কাজ করেছি, আমাদের দিক থেকে কোন ঘাটতি রাখি নি, তো ২৩ তারিখই বুঝতে পারবো মানুষ কতোটা ভালোবাসতে পারলো।

ট্রেলার দেখে অনেকেই বলছে পুরনো রাজ চক্রবর্তী আবার ফিরে এসেছে। একমত?

রাজ- (একটু ভেবে) না! পুরনো বা নতুন বলে কিছু হয় না। আমার পাস্ট রেকর্ড যদি দেখো আমি এভাবেই সিনেমা বানাই, এভাবেই কাজ করতে অভ্যস্ত। পুরনো রাজের মধ্যে কি ছিল? আর এখনকার রাজ চক্রবর্তী’র মধ্যে কি আছে? সেটা আমি বুঝতে পারি না! আমি আমার মত করে যে সাবজেক্ট ভালো লেগেছে, চ্যালেঞ্জিং লেগেছে সেটা নিয়ে কাজ করেছি , সেটা বড় সিনেমাও হতে পারে, ছোট সিনেমাও হতে পারে! এখন আমি আশাবাদী ‘চ্যাম্প’ নিয়ে এবং এটা বানানোর জন্য আমি এক্সট্রা কিছু করি নি, সবসময় চেষ্টা করি ভালোভাবে গল্পটা বলার সেটাই করেছি।

‘শিবাজি’ চরিত্রটা থেকে কি শিখলে?

রাজ- ‘শিবাজি’র চরিত্র থেকে শেখার থেকে ইম্পরট্যান্ট হোল ঐ চরিত্রটা আমাকে খুব ইন্সপ্যায়ার করেছে! ও একজন সাধারন ছেলে, ডাস্টবিন থেকে উঠে আসা এক ছেলে যে  খাবার খুঁজতে গিয়ে বক্সিং গ্লাভস খুঁজে পায়, আজকে সুপারস্টার হয়ে গেছে , তার জীবনে স্বপ্নটা অনেক বড় দেখতে শুরু করেছে! আমি খুব সাধারন জায়গা থেকে উঠে আসা একটা ছেলে যে স্বপ্ন দেখেছিল বড় কাজ করবে, আমি এই পথটা অবলম্বন করে বেঁচে থাকতে চাই! আমি মনে করি আমি শিবাজি, যারা আমার মত করে কাজ করে চলেছে প্রত্যেকের মধ্যেই শিবাজি আছে…

একদল মানুষ বলে তুমি কপি-পেস্ট করে সিনেমা বানাও, আরেকদল মানুষ বলে যদি রিমেক করতেই হয় তো সেটা রাজের মতই করা উচিৎ…কোন বক্তব্যকে সাপোর্ট করবে?

রাজ- প্রথমত আমি একদল মানুষে বিশ্বাস করি না! আমি সব মানুষে বিশ্বাস করি, আমি বিশ্বাস করি ভালো সিনেমা বানাতে, আমি বিশ্বাস করি যে গল্পটা ভালো লাগে সেটা নিয়ে সিনেমা বানাতে, সেটা মৌলিকও হতে পারে-রিমেকও হতে পারে, দলাদলিতে আমি বিশ্বাস করি না। আমার দর্শকরা কিভাবে সিনেমাটা দেখতে চায় সেটা আমার কাছে ইম্পরট্যান্ট!

তোমার হাত দিয়ে অনেক জুটি সামনে এসেছে, তোমার প্রিয় জুটি কোনটা… রাহুল-প্রিয়াঙ্কা, দেব-শুভশ্রী, বনি-কৌশানি না দেব-রুক্মিণী ?

রাজ- (তৎক্ষণাৎ) সবাই আমার খুব প্রিয়! যাদের সঙ্গে আমি কাজ করেছি তারাই তখন আমার কাছে বেস্ট সেটা নতুন জুটিও হতে পারে পুরনো জুটিও হতে পারে। আমি একজন ফিল্মমেকার আমার কাজ হচ্ছে সিনেমার মাধ্যমে ভালোভাবে গল্পটা বলার সেই জন্য যখন যেরকম দরকার হয়েছে কাস্টিং করেছি এবং যখন কাজ করেছি সেই মুহূর্তে তারাও নতুন, আমিও। এখন যদি বলো তবে দেব-রুক্মিণী বেস্ট, এর আগে জিৎ-শুভশ্রী বেস্ট মনে হয়ে ছিল আমার কাছে, ‘কাঠমুণ্ডু’তে ওরা চারজন বেস্ট…তো আমি এই জার্নিটাতে আছি কাউকেই আলাদাভাবে বেস্ট বলে তাড়িয়ে দিতে পারি না! কারন আমার এখন অনেকটাই পথ চলা বাকি…

অনেক সাবধানী উত্তর দিলে…

রাজ- (হাসি) সাবধানী কোথায় বললাম! আমি আমার নিজের ভাবনাটাই বললাম, তোমার কাছে উত্তরটা সাবধানী হতে পারে আমার কাছে স্পন্টিনিয়াস এটা!

দেব-রুক্মিণী জুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে কি বলবে?

রাজ- বড় একটা প্রশ্ন করে ফেলেছো…এই জুটির ভবিষ্যৎ তো বিশাল বড়! ইতিমধ্যেই সেটা ট্রেলারে ও গানে দেখতেই পেয়েছ, রুক্মিণী ভীষণ ট্যালেন্টেড একজন অভিনেত্রী, আমার মতে ও ইন্ডাস্ট্রির সেরা অ্যাসেট হতে চলেছে, আর দেবকে নিয়ে কিছু বলার নেই ও নিজেকে যে ভাবে গ্রুম করেছে আগামী ২০ বছর ওর কাছ থেকে অনেক কিছু পাওয়ার আছে, আমি চাইব এঁরা দুজন অনেক ভালো ভালো কাজ করুক।

জুটি প্রসঙ্গে তোমাকে জানিয়ে রাখি, তোমার “বরবাদ”র সেই বিখ্যাত দাদা-ভাই জুটি মানে সুদীপ মুখার্জি-মৈনাক ব্যানার্জি আবার ফিরছে “চৌধুরী রাজবাড়ি”তে। শুভেচ্ছা জানিয়েছ?

রাজ- সুদীপ আমার পরের সিনেমাতে আছে , ও ভীষণ ট্যালেন্টেড অভিনেতা; মৈনাকের ব্যাপারে বেশী কিছু বলতে পারবো না কারন ওর সাথে কম দিনের পরিচয় আর একটা ছবিতেই কাজ করেছিলাম, ওর মধ্যেও ট্যালেন্ট আছে। ওরা নিশ্চয়ই যে কাজটা করছে ভালো হবে।

‘চ্যাম্প’, ‘বস ২’ র পাশেই কিছুদিন পর আসছে সলমান খানের “টিউবলাইট” , বক্স অফিসে লড়াইটা কেমন হবে মনে হচ্ছে?

রাজ- সবাই সবার জায়গায় পারফর্ম করবে যেটা ভালো লাগবে দর্শকদের সেটাই দেখবে, পুজোর সময় তো ৮,৯ টা ছবি রিলিজ করে তার মধ্যে ৫,৬ টা সিনেমা দর্শকদের ভালো লাগে, দেখেন! এবারেও তাই হবে ঈদে তিনটি সিনেমার মধ্যে দর্শকদের যেটা ভালো লাগবে দেখবে, তবে আমি চাইব সব ছবিই ভালো চলুক।

‘চ্যাম্প’র প্রিমিয়ার হওয়া উচিৎ

রাজ- (হাসি) হলেও ভালো, না হলেও ভালো , এটা হ্যাঁ বা না তে বলতে পারবো না।

ভবিষ্যতে তোমার সিনেমাতে মিমি বা শুভশ্রী কে কাস্ট করতে হলে, করবে?

রাজ- কে বললো করবো না! অবশ্যই করবো, ওরা দুজনেই ট্যালেন্টেড অভিনেত্রী, ইন্ডাস্ট্রির গর্ব ! যেকোন পরিচালক চাইবে এদের সাথে কাজ করতে আর আমি তো পরিচালক, অবশ্যই করবো।

এই মুহূর্তে বাংলার ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ অনেকটাই অবাঙালীদের হাতে

রাজ- একদম বিপক্ষে! এখানে তো বাঙালী গিজগিজ করছে (হাসি)।

দেব-জিৎ ‘র বন্ধুত্বটা শুধুমাত্র তাঁদের কর্মক্ষেত্রে…

রাজ- এটা ওরাই ভালো বলতে পারবে, আমি বলার কে? আমি খুব প্রফেশনালভাবে কাজ করি, আমি যখন কাজ করি সে তখন আমার, আমি তার…এর বাইরে তাদের ব্যক্তিগত জীবন বা ভাবনাচিন্তাই ঢুকি না বা ঢুকতেও চাই না। আমি যাযাবরের মত, দেব-জিৎ-অঙ্কুশ সহ সবার সাথেই কাজ করি, কে কোথায় বন্ধুত্ব করছে এগুলো বুঝি না আমি!

নেগেটিভ পাবলিসিটি রাজ চক্রবর্তীকে চিন্তায় ফেলে…

রাজ- চিন্তা হলে কি হয়? ভুরু কুঁচকে যায়, মাথা যন্ত্রণা করে? আমার তো কিছুই করে না (হাসি) কোন পাবলিসিটিই আমাকে চিন্তায় ফেলে না!


কিছুদিন আগে এক বাংলা দৈনিকের শিরোনামে তোলপাড় হয়েছিলো ইন্ডাস্ট্রি! সেই প্রতিবেদনের সত্যতা কতোটা ছিল?

রাজ- সেটা আমার মনে হয় না এখন অলোচনা করা উচিৎ! অনেকদিন হয়ে গেছে ব্যাপারটা, অনেক কথা হয়েছে, আমি আমার পার্সোনাল লাইফ কিভাবে ডিল করবো, কোথায় বলবো সেটা নিয়ে বলতে চাই না এখন ‘চ্যাম্প’ নিয়ে বলবো দর্শকদের যে ২৩ শে জুন আসছে, আপনারা দেখুন ভালো লাগবে!

‘চ্যাম্প’ দেখে মানুষ কি নিয়ে বাড়ি ফিরে যাবে?

রাজ-  ইন্সপিরেশন নিয়ে ফিরে যাবে, ফিল গুড নিয়ে ফিরে যাবে , স্যাটিসফেকশন নিয়ে বাড়ি ফিরে যাবে!

বিশেষ দ্রষ্টব্য- প্রায় প্রতিবারই পরিচালক রাজ চক্রবর্তী তাঁর সিনেমায় দর্শকদের চমক দেন নিজে স্ক্রিনে উপস্থিত হয়ে, তবে ‘চ্যাম্প’এ সেই চমকের পুনরাবৃত্তি হয়েছে কিনা তা দেখতে হলে অবশ্যই যেতে হবে ২৩শে জুন আপনাদের নিকটবর্তী সিনেমাহলে। ‘চ্যাম্প’ দেখুন এবং অবশ্যই জানান আমাদের কেমন লাগলো দেবের এই অসাধারন প্রচেষ্টা।

প্রশ্নের ওপারে- শুভদীপ কাজলী (এডিটর)।