“এই মিউজিক ভিডিও পাশের বাড়ির প্রেমের স্মৃতি উস্কে দেবে”- নীল

বাংলা ধারাবাহিকের জনপ্রিয় মুখগুলি যে শুধু সিরিয়ালেই নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেন, তা কিন্তু একেবারেই নয়। এর বাইরেও তারা করে থাকেন আরও অনেক কাজ। ঠিক তারই এক উপমা নিয়ে হাজির বাংলা টেলিভিশনের ‘স্ত্রী’ ধারাবাহিকের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা নীল। ‘কুইনটেলস প্রোডাকশন’ ব্যানারে, সৌম্যজিৎ আদকের পরিচালনায় এবং নীলাঞ্জন মুখার্জী ও কঙ্কনিকা চক্রবর্তী’র প্রযোজনায় আসতে চলেছে দর্শনা এবং নীল’এর একটি মিষ্টি প্রেমের ভিডিও সং ‘ইয়ে দিল হ্যায় বেকরার’। অম্বালী চক্রবর্তী’র কথায় সুর দিয়েছেন মহুল চক্রবর্তী এবং গানটি গেয়েছেন বলিউডের জনপ্রিয় গায়ক বেনি দয়াল। সম্প্রতি এইরকমই এক কাজের হদিশ পেলাম আমরা, তার বহুপ্রতীক্ষিত মিউজিক অ্যালবাম প্রকাশের ঠিক আগের মুহূর্তে জমিয়ে এক আড্ডায় গুলগালের সঙ্গে….

তোমার দ্বিতীয় মিউজিক ভিডিওয় অভিনয় আর ব্র্যান্ড বেনি দয়ালের প্রথম বাংলা মিউজিক সিঙ্গেল…দুই ইন্ডাস্ট্রির চারহাত এক হল।

নীল- সত্যি, ইটস আ ড্রিম কাম ট্রু! বেনির মত একজন ভারত-খ্যাত গায়কের গানে লিপ সিঙ্ক করলাম, অসাধারণ অনুভূতি। ২০১৩ এ ‘বদতামিজ দিল’ শোনার পর থেকেই আমি ওঁর ভক্ত। ‘কুইনটেলস’ এর কঙ্কনিকাদি আর নীলাঞ্জনদা ছিল বলেই সম্ভব হয়েছে এটা।

কলেজ ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে সাত বছরের বন্ধুত্ব, ‘একসঙ্গে কাজ করব’ ভাবনাটা সত্যি হওয়া এবং, এত বড় একটা প্রজেক্টে একসঙ্গে কাজ করা…এ তো পুরো সিনেমা! যদিও এর আগে সৌম্যজিতের পরিচালনায় স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবিতে অভিনয় করেছো তুমি। সত্যিই সিনেমার মতো।

নীল- একসঙ্গেই MBA করেছি। সেমেস্টার শুরুর একমাস আগে থেকে সল্টলেকে সৌম্যজিতের মাসির বাড়িতে ওর সঙ্গে থাকতাম আর প্রস্তুতি নিতাম। সকাল ১০টায় অঙ্ক পরীক্ষা দিতে বসেছি, কিছু পারব না দেখে দুজনেই বেলা পৌনে ১১টা নাগাদ পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে সিনেমা হলে চলে গেছি ‘খিলাড়ি ৭৮৬’ দেখতে। একসঙ্গে কাজ করার ইচ্ছেটা পূরণ হয়েছে। ‘বিলাভেড’ নামের একটা স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি বানালাম আমরা। দুজনেরই পকেটে তখন কোনো টাকাপয়সা ছিল না। সৌম্যজিৎ হয়তো ফেসবুকে কোনো বন্ধুকে ভালো একটা ভিডিওগ্রাফির কাজ করতে দেখে বলেছে আমাদের সঙ্গে কাজ করতে, বদলে বিরিয়ানি দেবে! এভাবেই স্ট্রাগল শুরু। তারপর ও পরিচালনায় গেল আর আমি চলে এলাম মেগা সিরিয়ালে। অবশেষে দু’জনে এতবড় একটা প্রজেক্টে একসঙ্গে কাজ করলাম। ভবিষ্যতেও একসঙ্গে কাজ করতে চাই। অনেক কথা বলে ফেললাম বন্ধুত্ব নিয়ে, তাই না?

না,না। বন্ধুর (গুলগাল) কাছে তো বলাই যায় অন্য একটা বন্ধুত্বকে নিয়ে। তা, তোমার কাছের বান্ধবী তৃণা তোমার অভিনয়ের সমালোচনা করে?

নীল- হ্যাঁ, কাছের বন্ধুবান্ধবরা সবাই সমালোচনা করে। আগামীকাল এই মিউজিক ভিডিওটা দেখেও নিশ্চয়ই মতামত জানাবে। ইনফ্যাক্ট, ‘স্ত্রী’-র গোটা ইউনিট টিজার দেখে আগামীকালের (৩০শে জুন) অপেক্ষায় রয়েছে।

আর যার জন্য তোমার ‘দিল হ্যায় বেকরার’, তিনি কি বলছেন?

নীল- (লাজুক হাসি!) এই মুহূর্তে আই অ্যাম নট ইন লাভ। অনেক কাছের বন্ধুবান্ধব আছে। তবে যেদিন মনের মানুষ পাব, স্বীকার করে নেব। সেটা আমার কাছে কোনও ইস্যুই নয়।

শ্যুটিংয়ের সময় কো-অ্যাক্টর ‘দর্শনা’-র প্রথম দর্শন পেয়ে কেমন লেগেছিল?

নীল- (হাসি) প্রথমে তো আমি ভবেছিলাম বেশ অ্যাটিটিউড থাকবে, যেটা মডেলদের সাধারণত থাকে। তার ওপরে শহরের বিভিন্ন হোর্ডিংয়ে এখন ওর ছবি রয়েছে। তবে, আলাপের পর বুঝলাম পুরো বিপরীত। খুব মিষ্টি একটা মেয়ে। মনেই হয়নি প্রথমবার কাজ করলাম।

স্বপ্নের দৃশ্য শ্যুট করার সময় তুমি নাকি দর্শনাকে হাসিয়ে হাসিয়ে শটটা ১০-১২ বার এন. জি. করিয়ে দিয়েছো?

নীল- হা-হা-হা-হা! আসলে ইউনিটে সবারই বয়স বেশ কম আর তার সঙ্গে যদি খানিকটা হিউমার মিশিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে কাজটা খুব সহজ হয়ে যায়।

পরিচালক তো তোমার প্রশংসায় পঞ্চমুখ- ‘নীল খুবই ইনভলভড ছিল, যখন যা মনে হয়েছে, সাজেস্ট করেছে’। এটা কি সেই বন্ধুত্বের জন্যই?

নীল- সিংহভাগটাই আমাদের বন্ধুত্বের জন্য। আরও সিনিয়র কোনো পরিচালক থাকলে আমি কিছু বলতে পারতাম না।

এই মিউজিক ভিডিওয় দেখা যাবে কমপ্লেক্সে প্রেম, কিন্তু কমপ্লেক্সিটি নেই। তোমার হয়েছে নাকি কখনও?

নীল- ওয়েল, ভালো লেগেছে কিন্তু কখনোই কিছু কমপ্লিট হয়নি। তবে, এটা বলতে পারি যে, এই মিউজিক ভিডিও প্রত্যেকের পাড়ার ভালোলাগা বা পাশের বাড়ির প্রেমের স্মৃতি উস্কে দেবে।

শুনলাম ‘স্ত্রী’ শেষ হলে অভিজিৎ নীল জিতু ভট্টাচার্য্য নাকি টিনসেল টাউনে পাড়ি দেবার চিন্তাভাবনা করছেন?

নীল- (হাসি) খুব মজা পেয়েছো না তিনটে নাম জুড়ে একটা বানিয়ে? আসলে, ইন্ডাস্ট্রিতে আসার আগে মা বললেন, ‘আমার জ্যোতিষী বলেছেন তোর নাম ‘এন’ দিয়ে হলে তুই খুব শাইন করবি’। আর বাড়িতে যদি থাকতেই হয়, তাহলে মা-বাবার কথা মেনে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আর কি…ও হ্যাঁ, একটা বড় সম্ভাবনা রয়েছে মুম্বই যাবার। ‘স্ত্রী’-র আগে থেকেই কথাবার্তা চলছিল। ‘স্ত্রী’-কে পাওয়ার পর আমার ইমোশনাল মা বাড়ি ছেড়ে না যাওয়ার আব্দার করলেন। তবে, বাবার মতে- একটাই জীবন, স্ট্রাগল করে এগিয়ে যেতে হবে। তাতে বাড়ি থেকে দূরে যেতে হলেও সমস্যা নেই।

মা-কে ইমোশনাল বললেই হবে? মায়ের স্পোর্টসম্যান স্পিরিটটাও তো দেখতে হবে! রিয়্যালিটি শোয়ের চ্যাম্পিয়ন মা-ছেলে…অভিনন্দন !

নীল- (হেসে) ওহ, থ্যাঙ্ক ইউ সো মাচ।

শর্ট ফিল্ম ফিভারে এখন আক্রান্ত মানুষ। ডিজিটাল মিডিয়ার কতটা অবদান  রয়েছে বলে মনে কর তুমি?

নীল- খুবই বড় অবদান। ইন্টারনেট এখন খুবই কম খরচে হাতের মুঠোয়। ফলে প্রযোজকরাও শর্ট ফিল্মে বিনিয়োগের ইচ্ছে প্রকাশ করছেন। এতে সুবিধা হচ্ছে অভিনেতা ও দর্শক দু’পক্ষেরই।

‘স্ত্রী’ শেষ হবার পর যদি একটা মেগা ধারাবাহিক আর একটা ওয়েব সিরিজের অফার পাও, কোনটা করবে?

নীল- কোথা থেকে অফার পাচ্ছি তার ওপর নির্ভর করছে। (হাসি) মানে, ভাবো একটা বাংলা মেগা ধারাবাহিক আর একটা হলিউডের ওয়েব সিরিজে অভিনয়ের অফার পেলাম, তাহলে অবশ্যই ওয়েব সিরিজটা করব। আর যদি একটা সাধারণ ওয়েব সিরিজ আর একটা হিন্দি মেগা ধারাবাহিকের অফার পাই, দ্বিতীয়টা করব। কেমন চরিত্র পাচ্ছি সেটাও বিবেচ্য। এখন আমি চকোলেট বয় ইমেজটা ভাঙতে চাইছি। ডার্ক শেডের চরিত্র যেমন – অ্যান্টি হিরো সিরিয়াল কিলার গোছের কিছু যদি পাই, দারুণ লাগবে (হাসি)। রকস্টারও হতে পারে, সঙ্গে সে খুনও করবে (আবার হাসি)!

খুনটা করতেই হবে?

নীল- হা-হা! আসলে আমি ‘গেম অফ থ্রোণস’ লাভার। নতুন ট্রেলারটা দেখে বেশ লাগল। একটা কথা জানাই। ‘স্ত্রী’ শেষ হলে মার্শাল আর্ট শিখব। আপাতত আগামীকালের জন্য ফিঙ্গারস ক্রসড।

গুলগাল তোমাকে বলছে আলো হোক, ভালো হোক।

নীল- থ্যাঙ্ক ইউ সো মাচ। যাঁরা পড়লেন আপনারাও ‘ইয়ে দিল হ্যায় বেকরার’ এর পাশে থাকুন। ভিডিওটা দেখে-শুনে জানাবেন প্লিজ।