“নতুন গান যতই হোক না কেন, পুরোনো গান গুলো শুনতেই মানুষ বেশি পছন্দ করেন” – মনোময় !!

আশা অডিও'র ব্যানারে সেই বিশেষ দিনেই প্রকাশ্যে এলো বাংলার অন্যতম নিপুন গায়ক মনোময় ভট্টাচার্যের গাওয়া একটি বেসিক গান "ছদ্মবেশ"।

সম্প্রতি ‘ওয়ার্ল্ড মিউজিক ডে’ উপলক্ষে টলিউডের বিভিন্ন ডিজিটাল সাইটে যখন দেখা গিয়েছিল বেশ কিছু নতুন-পুরোনো গানের ভিডিও সং। ঠিক তখনই পিছিয়ে ছিলোনা আশা অডিও‘র কর্ণধার মহুয়া লাহিড়ী’ও। তাই তো আশা অডিও‘র ব্যানারে সেই বিশেষ দিনেই প্রকাশ্যে এলো বাংলার অন্যতম নিপুন গায়ক মনোময় ভট্টাচার্যের গাওয়া একটি বেসিক গান “ছদ্মবেশ”। ছেলে আকাশ ভট্টাচার্যের কথায় এই প্রথমবার গলা মিলিয়ে বাবা মনময় ভট্টাচার্য গানের উপহার তুলে দিলেন ছেলের হাতে। কারণ সেইদিনই ছিল তার ছেলের জন্মদিন। গানটিকে পরিচালনা করেছেন আয়ুশ মজুমদার, ডিসাইন ও প্রোগ্রামিং’র কাজ করেছেন সৌম্য বোস, রেকর্ডিং-মিক্সিং ও মাস্টারিং করেছেন গৌতম বোস। ভিডিও সং-টি সুন্দর করে সাজিয়েছেন পার্থ চক্রবর্তী এবং এডিটিং করেছেন ইন্দ্রাশিষ মুখার্জী হিরন্ময় বিশ্বাস। গানটিতে আমরা দেখতে পারব কিভাবে একটি বাবা তার ছেলের স্কুল লাইফে কাটানো সময় গুলির সাথে, নিজের অতীতে কাটানো মুহূর্তগুলোর স্মৃতিচারণ করছেন। দেখেনিন সেই অপূর্ব গান :

দেখুন ভিডিও :

ওয়ার্ল্ড মিউজিক ডে’র মত বিশেষ দিনে একটি সুন্দর গান রিলিজের পরে পরেই, গানটির জনপ্রিয়তার উদ্বীগ্নতার মধ্যেই গায়ক মনোময় ভট্টাচার্য ফোনে ধরা দিলেন আমাদের গুলগালের সাথে….

‘ওয়ার্ল্ড মিউজিক ডে’ সাথে ছেলে আকাশের জন্মদিনের দিনই ডিজিটাল সাইটে রিলিজ হল আপনার নতুন সিঙ্গল ‘ছদ্মবেশ’ গানটি, তো গানটি বাবা ছেলেকে উপহার দিল না ছেলে বাবাকে উপহার দিল?

মনোময় – প্রথম উপহারটাতো ওই আমাকে দিয়েছিল, গানটাকে লিখে। প্রায় মাস ছয়েক আগে আই.সি.এস.ই. পরীক্ষার ব্যাস্ততার মধ্যেই সে আমার কথা ভেবেই লিখেছিল এই গানটি। ২১’শে জুন আমি গানটি গেয়ে তাকে রিটার্ন গিফট দিই।

আকাশের কম্পোজ করা এই গানটি দেখে সিঙ্গল অ্যালবাম তৈরীর পরিকল্পনাটা কিভাবে মাথায় এলো?

মনোময় – গানটার সম্পর্কে প্রথমবার জানার পর আমি ওকে বললাম গানটা কমপ্লিট কর। তারপর মুখরা-অন্তরা পুরোটা শোনার পর আমি গানটা রেকর্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিলাম, যা শুনে আকাশ সত্যিই খুব খুশি হলো। তাছাড়াও এই প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের সংগীত নিয়ে এগোনোর ইন্সপিরাশনেরও প্রয়োজন, তাই আমার এই গান গাওয়া।

‘ছদ্মবেশ’ গানটা রিলিজের সাথে সাথেই বহু মানুষ প্রশংসা করছেন, ঠিক এই জায়গায় দাড়িয়ে আপনার কাছে আকাশের ভবিষ্যতটা কেমন?

মনোময় – প্রশংসার কথা শুনে আমারও খুব ভালো লাগলো। তবে এখন ও ক্লাস ইলেভেন এর ছাত্র। তো এখন পড়াশোনা করুক, গান শিখুক, নিজের মত করে বেড়ে উঠুক। বড় হয়ে ও কি করবে সেই বিষয়ে আমার তরফ থেকে কোন চাপ নেই। ঈশ্বর ওকে যে পথে নিয়ে যাবে, ও যাবে সেই পথে।

ভবিষ্যতে কি আমরা বাবা-ছেলের এই জুটিকে আবারও একসাথে কাজ করতে দেখতে পারব?

মনোময় – সেইরকম কোন পরিকল্পনা আপাতত নেই। কারণ সামনের বছর হাইয়ার সেকেন্ডারি এক্সাম। এত পড়াশোনার চাপের মধ্যে আবার কোন গান তৈরি করতে পারবে কিনা আমি জানি না। সবেতো এটা এল, দেখিই না ছ-মাসে গানটির জনপ্রিয়তা কতটা হয় বা আদও হয় কিনা! কারণ এখনও বাংলার বহু মানুষ ডিজিটাল সাইট সম্পর্কে সচেতন নন।

সম্প্রতি হিন্দি ছবি গুলিতে বহু পুরোনো হিন্দি গানের রিমেক করা হচ্ছে, বাংলা ছবিতেও কি পুরনোদিনের বাংলা গানগুলিকে ব্যবহার করার প্রবণতা দেখা যেতে পারে? যদি সেটা হয়ও, তবে এখনকার মানুষের কাছে তা কতটা গ্রহণযোগ্য হবে বলে আপনার ধারণা?

মনোময় – আমার মনে হয় ভালোই হবে। নতুন গান যতই হোক না কেন, পুরোনো গান গুলো শুনতেই মানুষ বেশি পছন্দ করেন। তাই মান্না দে, কিশোর কুমার, শ্যামল মিত্র’র মত গায়কদের পুরোনো গানগুলিকে সঠিকভাবে নতুন অরেঞ্জমেন্ট দিয়ে সুন্দর ভাবে গেয়ে যদি তৈরি করা যায়, তাহলে মানুষের ভালোই লাগবে।

হঠাৎ করে সিঙ্গল’র চিন্তা কেন এলো?

মনোময় – আসলে আমি ১৯৯৬ সাল থেকে গান করছি, আমার একুশ বছরের মিউজিক ক্যারিয়ার প্রথম শুরু করেছিলাম ক্যাসেট, তারপর সিডি। সিঙ্গল’টা বাকি ছিল, তাই এই প্রথমবার সিঙ্গল করলাম।

এই সিঙ্গল গানটি নিয়ে আশা অডিও’র কর্ণধার মহুয়া লাহিড়ীর কাছে প্রস্তাব নিয়ে যাওয়ায় তার রিঅ্যাকশন কেমন ছিল?

মনোময় – আমার গলায় গানটি শুনে এবং এত অল্প বয়সে আকাশ এইরকম একটি গান লিখেছে জেনে উনি খুবই খুশি হয়েছিল, প্রশংসাও করেছিলেন অনেক। তারপর আমাদের কাজ করতে আর কোনো অসুবিধা হয়নি। (একটু ভেবে…)

তবে যেটা না বললেই নয়, সেটা হচ্ছে আশা অডিও’র যে প্রয়াস। ওরা যেভাবে আমাদের মত সিনিয়ারদের সাথে সাথে জুনিয়ারদেরও ডিজিটালি সাংঘাতিকভাবে প্রমোশনে সহায়তা করছেন, তা সত্যিই স্যালুট জানানোনর মত।

এই প্রজন্মের শ্রোতারা কি রবীন্দ্র সংগীত থেকে একটু পিছিয়ে আসছে?

মনোময় – না, আমার তো সেটা মনে হয়না। কারণ আজও কবি গুরুর প্রতিটি গান ডিজিটাল সাইটে আসা মাত্রই অগনিত মানুষ তা পছন্দ করেন। স্বনামধন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান সর্বকালেই সর্বজন সমাদৃত, সমস্ত মানুষের পছন্দের গান। বরং ‘নজরুল গীতি’ থেকে হয়তো মানুষ কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। কারণ নজরুল গীতির কথা গুলি অনেকেরই বোধগম্য হয়ে ওঠেনা। ঠিক সেই কারণেই আজ-কালকার ব্যাস্ত সময়ে তার জনপ্রিয়তাও কম। তবে আমি একটু বলবো, আগামী পুজোয় আমি নজরুল ইসলামের গান নিয়ে আসছি যাতে তা আরেকটু মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারি।

‘আশা অডিও’র ব্যানারে সম্প্রতি একটি নজরুল গীতি গেয়েছিল বাংলার এক কৃতিমান গায়ক শোভন গাঙ্গুলি, আপনার সেটা কেমন লেগেছিল?

মনোময় – খুবই ভালো। শোভন আজ-কালকার সময়ের খুব ভালো একজন গায়ক। আগামী প্রজন্মের এই নতুন গায়ক, নতুন অরেঞ্জমেন্ট-এ গানটা গেয়েওছে খুব সুন্দর করে।

বহুবছর ধরে অসংখ্য অ্যালবাম ও বাংলা ছবিতে গান করেছেন, কিন্তু ঋতুপর্ণ ঘোষের চলে যাওয়ার পর আপনাকে সেইভাবে আর কোনো বাংলা ছবির প্লে ব্যাক-এ দেখা যায়নি কেন?

মনোময় – (একটু ভেবে) এইটা খুব ভালো একটি প্রশ্ন করেছো। তবে করিনি যে তা না। গতবছর শতরূপা সান্যাল’এর ছবি “অন্য অপলা” ছবিতে গান গেয়েছি। তারপর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা অবলম্বনে নির্মিত “হঠাৎ দেখা” ছবিতেও গান করেছি। আসলে গানের বিষয়ে আমি ভীষন খুঁতখুঁতে। কোন গান যদি শুনে মনে হয় আমার গাইতে ভাল লাগবে, তবেই আমি সেই গান গাই। যার জন্যে অনেক ক্ষেত্রেই অনেক গানই আমার গেয়ে ওঠা হয়না।

প্রশ্নের ওপারে – মৌমিতা রাউত