“সৃজিত আমার ফেলুদা হওয়ার শখ পূরণ করেছিলো” – বরুন চন্দ!

ঠিক ৪৫ বছর আগে বিখ্যাত সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরে হয়েছিলো “সীমাবদ্ধ”এ সিনেমাভিষেক, তারপর প্রায় ২০ বছর ছিলেন লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশেন থেকে অনেক দূরে, ফিরলেন আবার ঋতুপর্ণ ঘোষের সিনেমায় তারপর থেকে বহু ছোট-বড় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে বাংলা সিনেমা তাঁকে পেয়েছে একদম অন্যমাপে তিনি হলেন বরুন চন্দ। বালিগঞ্জের ফ্ল্যাটে বাংলাদেশের গ্রিন টি সহযোগে শুরু হোল স্মৃতিচারন…… উঠে এল অনেক অজানা কথা…

আপনি এতো ফিট অ্যান্ড ফাইন থাকেন এই বয়সেও ফিট থাকার মূল মন্ত্রটা কি?

বরুন চন্দ– ফিট থাকার মূল মন্ত্র বলতে অনেক বছর ধরে আমি কয়েকটা ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করতাম যেটা না করতে পারলে অসুস্থ লাগতো কিন্তু ইদানীং কোমরের একাধিক মেজর কিছু চোটের কারনে সেটা করা হয়ে ওঠে না তো ওটা ঠিক রাখার জন্য কিছু এক্সারসাইজ করি আর ফিট অ্যান্ড ফাইন থাকার আরেকটা বড় কারন আছে! আই থিঙ্ক আই এম ফিট অ্যান্ড ফাইন দেয়ারফোর আই এম ফিট অ্যান্ড ফাইন!

টলিউড ও বলিউড দুটো জায়গায় আপনি কাজ করেছেন তো পার্থক্যটা কিরকম দেখলেন?

বরুন চন্দ– বলিউড ইস ফার মোর প্রফেশনাল! সব কিছু অনেক বেশি কিন্তু বলিউডে এক এক সময় বাড়াবাড়ি লাগে,টাকা পয়সা বেশি থাকলে যা হয় মানে যেমন ধরো ওদের গ্রিন রুম একটা ফাইভ স্টার হোটেলের মত আবার যখন শট দিতে সেটে যাই একজন লোক কন্সটেন্ট ওয়াকিটকিতে মনিটারিং করে যাচ্ছেবরুন স্যার ইজ ওয়াকিং উইথ মি , ইন টু মিনিটস হি উইল বি দেয়ারআমি সাত আট দিন ধরে শুটিং করছি আমার গাইডের দরকার নেই বাট ওরা জানে ২ মিনিট আর ৫ মিনিটের ভ্যালুটা কি! সেই দিক দিয়ে ওরা বেশি প্রফেশনাল।

আপনাকে অ্যাড গুরু বলা হয় তো এখন বাংলায় যে সব সিনেমাগুলো বেরোচ্ছে সেগুলোর মার্কেটিং কি আরও জোরদার হওয়া উচিৎ নয়?

বরুন চন্দ– ডেফিনেটলি…… আজকের দিনে শুধু ভাল ছবি করলেই যথেষ্ট নয় সেটার পেছনে ঢাক ঢোল পেটাতে হবে অনেক লোকে জানবে আবার এই সুযোগে অনেক খারাপ ছবিও চলে যায় অনেক সময়! অ্যাডের দিকে আরও প্রফেশনাল হওয়া উচিৎ আর আই থিঙ্ক অনলাইন প্রোমোশন আরও জোরদার করা উচিৎ আমাদের ইয়ং জেনারেশনের ভিউয়ারস টানার জন্য বিকজ দে ব্রিদ ইন দ্যাট আটমোস্ফিয়ার অল দা টাইম!

আপনি সম্প্রতি দীপ ঘোষের “অন্তমিল”এ কাজ করলেন তো কেমন ছিল অভিজ্ঞতা?

বরুন চন্দ– আমার যেটা ভাল লেগেছিল নর্থ ক্যালকাটায় যে বাড়িটায় শুট হয়েছিল সেটা প্রেমে পড়ে যাওয়ার মত একটা বাড়ি! আমি পরপর তিনটে ছবিতে কাজ করলাম একদম ইয়ং ডিরেক্টরের সাথে, এরা খুবই অল্প টাকা দিতে পারে সেটা কোনও ব্যাপার না, আই ফাইন্ড মাচ মোর হ্যাপিনেস , অনেকটা স্যাটিসফেক্সন দেয় এদের সাথে কাজ করে!

একটা বোরিং প্রশ্ন এটা , যার উত্তর আপনি আগেও অনেকবার দিয়েছেন সেটা হল “সীমাবদ্ধ” এর পরে……

বরুণ চন্দ– অনেকদিন ধরে আমি ডুব মেরেছিলাম তাই তো…(হাসি)

হ্যাঁ……

বরুণ চন্দ সেটার পেছনে অনেক কারণ আছে ইউ সি আমি বিজ্ঞাপনের লোক আমি জব ছেড়ে ফিল্ম লাইনে আসতে চাই নি আর তখন বছরে ১২টা সিনেমা হত প্রায় সেখানে হয়তো আমার ভাগ্যে দুই একটা সিনেমা আসতো কিন্তু যেভাবেই হোক না কেন “সীমাবদ্ধ”এর পর মানিক বাবু বা মৃণাল বাবু বা তরুন বাবু কেউই অফার দেন নি, দিলে হয়তো নিশ্চয়ই করতাম, আমি বরাবরই চেয়েছিলাম সিরিয়াস আক্টিং করতে! আমাকে শেষ জীবনে মৃণালদা খুব পছন্দ করা শুরু করলেন বলতেন এরপর সিনেমা করলে তোমাকে নেবই শুনে ভাল লাগলো কিন্তু যখন কম বয়স ছিল তখন তো বলেন নি! (একটু হতাশ)

সেই সময় যদি আপনাকে ফেলুদা বা ব্যোমকেশের চরিত্র করার অফার আসতো কোণটা বেছে নিতেন?

বরুন চন্দ- অবশ্যই ফেলুদা তবে একটু বেশি বয়সে ব্যোমকেশ… ৪০ বছর অবধি ফেলুদা করা যায় তারপর অবশ্যই ব্যোমকেশ।

ফেলুদা করতে না পারার আক্ষেপ রয়েছে……

বরুণ চন্দ- কিছুটা রয়েছে… মানিকবাবু আমাকে একটা সময় কন্সিডারও করেছিলেন ফেলুদার জন্য কিন্তু নানান কারনে সেটা হয়ে ওঠে নি তবে আর একটা জিনিস এই কারনে সৃজিতের সাথে আমার পরিচয়, আগে তো ও ফিল্মমেকার ছিল না নাটক পাগল ছিল ! ব্যাঙ্গালোরে ও একটা নাটক করে “ফেলুদা ফেরত” বলে সেখানে আমি বয়স্ক ফেলুদার চরিত্র করেছিলাম ,পরম(পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়) করেছিলো তোপসের চরিত্র আর সৃজিত হল মগনলাল মেঘরাজ!! অসাধারন হয় নাটকটা! প্রথমে আমি রাজি হইনি কিন্তু সৃজিত বলেছিল আপনাকে বলে বলে আপনার সামনে একটা মার্ডার হবে আপনি আটকাতে পারবেন না! যাই হোক এইভাবে আমার ফেলুদা না হওয়ার আক্ষেপ কিছুটা কমেছিল !! (হাসি)

রেসকোর্সে শর্মিলা ঠাকুরের পাশে বসে থাকা বরুন চন্দ আর আজকের বরুন চন্দ কতোটা পরিবর্তন হয়েছে?

বরুন চন্দ- অনেক পরিবর্তন হয়েছে…এখনও লোকে “সীমাবদ্ধ” দেখার পর বলে এখন আপনি অনেক পাল্টে গেছেন… গলার ভয়েসটা আগের থেকে অনেক বেশি ইম্প্রুভড… এই প্রসঙ্গে একটা ঘটনা বলি…

বলুন…

বরুন চন্দ- রেসকোর্সে শুটিং এর সময় শর্মিলা ঠাকুর আমার পাশে বসে তখন একটা রেস হয়ে গেছে ও জিজ্ঞেস করলো কি হোল রেজাল্ট? আমি বললাম সেকেন্ড বা থার্ড তখন শর্মিলা বললো আবার খেলবো!! বলে আমার কোটের আস্তিনটা একদম চেপে ধরলো তখন আমি একবার শর্মিলার দিকে তাকালাম, একবার আস্তিনটার দিকে তাকালাম! শর্মিলার কিন্তু খেয়ালই নেই এতো এক্সাইটেড হয়ে গেছিলো! এটা বেশ একটা ড্রামাটিক ঘটনা ছিল!(হাসি)

আপনার লেখা হিট থ্রিলার বই “কোক” যদি সিলভার স্ক্রিনে আসে, পরিচালক আর হিরো হিসেবে কাকে বেছে নেবেন?

বরুন চন্দ- যে কেউ… সৃজিত বা কৌশিক গাঙ্গুলি ভাল কাজ করতে পারে তবে আমি সিরিয়াসলি বলবো অরিন্দম শীলের কথা, ওর “ঈগলের চোখ” দেখলাম, অসাধারনভাবে ধরে রেখেছিলো পুরো টাইমটা সেন্স অফ ড্রামাটা বেশ ভালভাবে কাজে লাগিয়েছে সিনেমাতে আর হিরো বলতে যখন লিখেছিলাম নিজেকে হিরো ভেবেই লিখেছিলাম কিন্তু এখন বলবো যীশু সেনগুপ্তকে ভাল মানাবে প্রদীপ্ত’র (কোকের হিরো) চরিত্রে কিন্তু ওকে তার জন্য জিমে যেতে হবে!

আমাদের পাঠকদের জন্য কি মেসেজ দিতে চাইবেন?

বরুন চন্দ- বাংলা সিনেমা দেখুন এবং হলে গিয়ে দেখুন কোনওভাবে প্রাইরেটেড কপি দেখবেন না!

প্রশ্নের ওপারে- শুভদীপ কাজলী (এডিটর)।