হইচই করে ‘পোস্ত’ নিয়ে শিবপ্রসাদ ঢুকলেন এসভিএফ’র অফিসে…

গতকাল দুপুরে ফোনে ‘হইচই’ টিমের একটা মেসেজ প্রায় চমক দিয়েই ঢোকে, লেখা ছিল ‘ইন্ডাস্ট্রির প্রথম স্ট্র্যাটিজিক অ্যানাউন্সমেন্ট’ যেখানে উপস্থিত থাকতে চলেছেন এসভিএফ’র কর্ণধার শ্রীকান্ত মোহতা, উইন্ডোজ প্রোডাকশন হাউসের কর্ণধার শিবপ্রসাদ মুখার্জি, হইচই’র তরফে বিষ্ণু মোহতা, মানে বাংলার প্রথম সারির দুটো বিগ হাউস একছাতের তলায় করবে সাংবাদিক সম্মেলন! প্রশ্ন অনেকগুলোই ঘোরাফেরা করছিল, যেমন ধরুন শিবপ্রসাদ কি তবে এসভিএফ’র ব্যানারে সিনেমা করবেন? নাকি ‘হইচই’তে করতে চলেছেন কোন ওয়েব সিরিজ নাকি বাংলার সিনেমার ডিস্ট্রিবিউশেনে আসছে নতুন কোন চমক…কিন্তু সব জল্পনা-কল্পনা’কে সরিয়ে দিয়ে হাসি মুখে ‘পোস্ত’ নিয়ে শিবপ্রসাদ ঢুকলেন এসভিএফ’র ১৮তলার অফিসে। শ্রীকান্ত মোহতা ঘোষণা করলেন প্রথম কোন বাংলা সিনেমা ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হতে চলছে ডিজিটাল মিডিয়ামে, টিভি’তে নয়। হ্যাঁ কাল সকাল থেকেই আপনারা পেয়ে যাবেন “পোস্ত” হইচই অ্যাপে আপনাদের ৫ ইঞ্চির স্ক্রিনে।

আজকে আবার ছোট্ট পোস্ত মানে অর্ঘ্য’র জন্মদিন তাই এই বিশেষ দিনে এর থেকে ভাল উপহার পোস্ত’র জন্য আর কিছু নেই। কিন্তু কেন ডিজিটালে ‘পোস্ত’ তার কারণ হিসেবে শিবপ্রসাদ জানান প্রধান কারণ পাইরেসি এবং ইললিগ্যাল ডাউনলোড। সেই প্রসঙ্গে একটা মজার ঘটনাও শেয়ার করেন আমাদের সাথে, তিনি ‘বেলাশেষে’ রিলিজের পর বাংলাদেশে যান সেখানে দোকানে নিজের সিনেমার পাইরেটেড ডিভিডি দেখেন ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে রমরমিয়ে, সিনেমা হলে আসার আগেই দেখে ফেলেছেন সিনেমা অনেক মানুষ তাই ব্যর্থমনোরথ হয়ে সিনেমাটা রিলিজই করতে পারেন নি বাংলাদেশে এবং এই পরিস্থিতি আখের ক্ষতি করছে বাংলা সিনেমারই, পরিচালক প্রোডিউসাররা পাচ্ছেন না তাঁদের শিল্পের শ্রম।

এই প্রসঙ্গে শ্রীকান্ত মোহতা যোগ করেন, “আমাদের ইন্ডাস্ট্রির কম করে হলেও ১.৫ কোটি টাকা মত চোট খেয়েছে এই নকল ডিভিডি ও পাইরেসির জন্য!”

হইচই’র বিষ্ণু মোহতা’র মতে, বাজারে ৭০,৮০ টাকা দিয়ে কিনে দেখার থেকে হইচই’তে সাবস্ক্রিবশেন অনেক বেশি সাশ্রয়যোগ্য এবং ‘পোস্ত’ ছাড়াও আছে নতুন পুরনো মিলে ৫০০’র বেশি বাংলা সিনেমা। প্রযোজকদের কাছে এটা যে কত বড় দুঃস্বপ্ন সেটা ভীষণ আক্ষেপের সাথেই জানান শিবপ্রসাদ তাই এবার টিভি নয় একদম আপনাদের মুঠোফোনে কাল সকালেই হইচই করে চলে আসছে “পোস্ত” এবার আপনারাই ভেবে দেখুন যে দু’ঘন্টাতে যাদের কাজ দেখে আপনি নিজেকে সব কাজের ফাঁকে এন্টারটেন করেন সেই শিল্পকে উপযুক্ত মূল্য দিয়ে সম্মান দেবেন নাকি যেকোন উপায়ে ফ্রি’তে দেখে (অ)সম্মান করবেন…!

লেন্সের ওপারে- ঈশানী রায় চৌধুরী।