হাজার হোক বাঙালি তো…!

বাঙালি নাকি আত্মবিস্মৃত জাতি, কিন্তু খাদ্যরসিক বাঙালি আত্মবিস্মৃত হতে পারে কি?

বাঙালি নাকি আত্মবিস্মৃত জাতি, কিন্তু খাদ্যরসিক বাঙালি আত্মবিস্মৃত হতে পারে কি? যদি তাই হতো তবে সকালের গরম চা, বিকেলের ধূলোমাখা ফুটবল, খোলা ছাদে শুকনো কাপড় জামা, কিছু খড়খড়ি জানলা, আর ১৩ বছর পর ফিরে আসা ছেলেটির অভিমানী বাবা, তাহলে সবাই অন্যের বাড়িতেই হারিয়ে যেত নিজের ঘরে আর ফিরে আসা হত না।

কিন্তু হাজার হোক বাঙালি তো…!

এক বাটি মাছের ঝোলে ডুব দিয়ে ঘরে ফিরে আসা সম্ভব। একটি পদ রাঁধতে গেলে যেমন সঠিক উপকরণ এবং তার সঠিক পরিমাণ প্রয়োজন, তেমনই ব্যক্তিগত জীবনে সম্পর্ক গুলির ক্ষেত্রে লবণের পরিমাণ উনিশ থেকে বিশ হলেই কিন্তু গণ্ডগোল। সাদামাটা মাছের ঝোল যদি আলু, পটল, কাঁচা লঙ্কা, বড়ির সাথে ছেলেবেলার ঘরের কথা মনে করিয়ে দিতে পারে, তবে বিদেশ ফেরত্ ছেলেটি তার মাকে সেই মাছের ঝোল রেঁধে খাওয়ালে এবার ঘরে ফিরতে পারবে তো? সেই ঝোলের স্বাদ একই রকম থাকবে তো?

আরও পড়ুন : বহু প্রতীক্ষার পর দেখা মিলল ‘নূর জাহান’র প্রথম ঝলক!

এই প্রশ্নের উত্তরে কয়েক টুকরো পোনা মাছ, বিদেশ ফেরত ছেলে, অসুস্থ মা, অভিমানী বাবা, স্ত্রী ও বান্ধবী, স্বাদমতো নুন দিয়ে পরিচালক প্রতিম ডি গুপ্তা বানিয়ে ফেলেছেন তাঁর ‘মাছের ঝোল’।

যেকোনো চরিত্রেই নিজেকে মানানসই করে নেওয়া এবং চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলা ঋত্বিক চক্রবর্তীর এক অসামান্য দক্ষতা। মমতা শংকর যেন সমস্ত বাঙালি মায়েদের মমতা ঢেলে দিয়েছেন ‘মাছের ঝোলে’। এছাড়াও সুমন্ত মুখার্জী, পাওলী দাম ও অর্জুন চক্রবর্তী স্বাদমতো নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রেখে ‘মাছের ঝোল’ কে করে তুলেছেন আরো সুস্বাদু। তারই সাথে অনুপমের সুর যেন বাঙালির ঘুলঘুলিতে এক সকাল আবেগ ঢেলে দিয়ে গেছে।

আপাতত আপনাদের জন্য পরিবেশন করা হল ‘মাছের ঝোল’ ট্রেলারটি, আর দেরী না করে জলদি দেখে ফেলুন আর রেঁধে নিন জটিল জীবনকে সহজপাচ্যে।