মানবিকতার এই চেহারা শুধু কলকাতা নয় সারা বাংলার দেখা উচিৎ!

Jisshu Sengupta and Sara Sengupta

‌ক্রিসমাসে সান্টাক্লসের ঝুলি হোক কি দূর্গা পূজোয় ঢাকের বাদ্যি, যে কোন অনুষ্ঠানেই বড়দের অপেক্ষা ছোটদের আনন্দটা অনেকবেশী। আর ঠিক সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের সেই আনন্দটা অবশ্যই দিতে চায়। কারণ বাবা-মায়ের সাথে সন্তানদের মধ্যেকার অনুভুতিটা পৃথিবীর বাকি সব অনুভূতিকেই ছাপিয়ে যায়। কিন্তু যদি সন্তানের দুরারোগ্য ব্যাধির কারণে সেই আনন্দ উদযাপনের আগেই তার সন্তানের শেষ সময় আগত হয় ? তখন তার ইচ্ছে পূরণে সেই বিশেষ সময়ে দুঃসাধ্য কিছু করতেও পিছুপা হননা অভিভাবকেরা। ঠিক এমনটা ঘটিয়েছিলেন সেন্ট জর্জ’এর বাসিন্দা নিকোল ওয়েলউড।

নিকোল ওয়েলউডের সাত বছরের ছেলে ইভান লেভারসেজ দুরারোগ্য ব্রেইন টিউমারের জন্যে অনেক ছোট বয়সেই মারা যায়।কিন্তু তার আগে ইভানের ইচ্ছে ছিল সে সেই বছরের ক্রিসমাসের অনুষ্ঠানে সে খুব আনন্দ করবে। তবে তার জীবনের যে সময়সীমা,তাতে ডিসেম্বর অবধি অপেক্ষা করা ছিল অসম্ভব। আর তখনই তার মা ও পরিবারের বাকি সদস্যরা যৌথভাবে ইভানের ইচ্ছেকে রূপ দিতে অক্টোবরেই লেগে পড়েন ক্রিসমাসের অনুষ্ঠান উদযাপনে। শুধু ইভানের পরিবারই নয়, ইভানের ইচ্ছে পূরণে পাশে এসে দাঁড়ায় তার সমস্ত প্রতিবেশী সহ গোটা সেন্ট জর্জের প্রত্যেকটা মানুষ। এভাবেই সেই বছর নির্দিষ্ট সময়ের আগেই পালিত হয় ক্রিসমাস। একদিকে সন্তানকে হারানোর বেদনা,অন্যদিকে তার ইচ্ছে পূরণ করতে পারার সুখ-চোখেতো জল আসেই, তবুও অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারলে মুখে জয়ের হাসিটাও আসে।

আরও পড়ুন : গরমের ছুটিতে সিনেমার বাজার ধরতে এটাই কি বাংলাতে নতুন ট্রেন্ড?

‌পরবর্তীকালে সোশ্যাল মিডিয়া মারফৎ সেই অসময়ে হারিয়ে যাওয়া ইভানের গল্প থেকেই সৃজিৎ মুখার্জির “উমা”র পরিকল্পনা। যেখানে সেইরকমই এক পিতা, তার মেয়ের জীবনের অন্তিম সময়কালের ইচ্ছে পূরণের গল্প দেখাবেন পরিচালক।মেয়ের ইচ্ছে পূরণে কিভাবে এক পিতা সময়ের আগেই গোটা কলকাতা শহর জুড়ে আয়োজন করল দূর্গা পূজোর এক জমজমাট, আলোক রোশনাইয়ে ভরা পরিবেশ। তবে শুধু পিতা নয়, ছোট্ট মেয়েটির মুখে হাসি ফোটাতে তার সমস্ত প্রতিবেশীরাও জাতি-জীবিকা নির্বিশেষে লেগেও পড়েন সেই অসাধ্য সাধনে। মানবিকতার এই চেহারা শুধু কলকাতা নয় সারা বাংলার দেখা উচিৎ!