হঠাৎ কেক পেস্টরি ছেড়ে কেন রসগোল্লায় মজলো বাঙালি , জানেন কি ?

পাভেল

মিষ্টি খেতে বাঙালীর পাল্লা দেয়, এমন সাধ্য আর কারো নেই সেটা নিশ্চিত। কেবল খাওয়ার ব্যাপারেই তো নয়, মিষ্টি বানাতেও বাঙালীর জুড়ি মেলা ভার। কথায় আছে বাঙালির স্বভাবে মিষ্টতা মিশে আছে, আর তার প্রকাশ তার সংস্কৃতি, শিল্পে, সাহিত্যে আর অবশ্যই বাঙলা সিনেমায়। উইন্ডোজ প্রোডাকশনের নতুন ছবি, ডিরেক্টর পাভেলের সিনেমা রসগোল্লা এই সত্যিটা যেন আবারো প্রমাণ করে দিল। দুহাজার আঠেরোর শেষের দিকে একহাঁড়ি নলেন গুড়ের রসগোল্লার মতো মিষ্টি একটা হিস্টোরিকাল বায়োপিক বাঙালি দর্শকদের উপহার দিলেন পাভেল। প্রায় দেড় বছরের একটা দীর্ঘ লড়াই, রসগোল্লার জন্ম রহস্য নিয়ে টানাটানি, এস. আর. কে স্টারার জিরোর সঙ্গে রিলিজ নিয়ে সিঙ্গেল স্ক্রীনে অসম টক্কর, এই সব কিছু পেরিয়ে যখন রসগোল্লা দর্শকের কাছে এসে পৌছাল, মানুষ দেখল, ইতিহাসের মোড়কে মোড়া এক সাধারণ শিল্পীর অসাধারণ হয়ে ওঠার জার্নি কী দক্ষতায় স্ক্রীনে উঠে এসেছে। বড়দিনের মরসুমে তাই কেক পেস্টরি ছেড়ে নলেন গুড়ের রসগোল্লা ঘিরে তৈরী খাঁটি বাঙালির নিখাত বাঙালিয়ানায় মন মজিয়েছে বাঙালি দর্শক।

রসগোল্লা বাঙালির কাছে কেবল মিষ্টি নয়, রসগোল্লা একটা ইমোশানের নাম, আর নবিন দাসের জীবন নিয়ে তৈরী ছবি রসগোল্লা ঘিরে মানুষের জল্পনার শেষ ছিল না, ডিরেক্টর পাভেল মানুষের এই আশা ভরসার জায়গাতে নেহাত জল ঢালেন নি, প্রত্যেকজন শিল্পী তাদের বেস্টটুকু দিয়ে অভিনয় করেছেন, ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোস হোক বা প্লেব্যাক, ক্যামেরার কাজ, আর্ট ডিরেকশন সব দিকেই যেন একশো শতাংশ সফল হয়েছে রসগোল্লা। বাঙলাতে পিরিওড ড্রামা নির্ভর সিনেমা এমনিতেই কম, তাও আবার হিস্টোরিকাল বায়োপিক, রসগোল্লার মতো একটা ছবি না তৈরী হলে বোধহয় সমকালীন সময়ে উদাহরণ খুঁজে পাওয়া কঠিন হতো। রসগোল্লা নতুন করে বাঙালীর কাছে অনেক কিছু প্রমাণ করে দিলো। রসগোল্লা দেখিয়ে দিলো, কনটেন্ট যদি স্ট্রং হয়, তবে বোধহয় স্টারডম কোনো বাধা হয় না। আজ হাজার হাজার মানুষের মনের কাছাকাছি একটা মিষ্টি অনুভূতি হয়ে থেকে যাচ্ছে রসগোল্লা, সিনেমাহলে গিয়ে এমন নিখাত বাঙালিয়ানার অনুভূতি বাঙালি দর্শক যেন অনেকদিন পর পেল। ডিরেক্টর পাভেল আর উইনডোজকে এই বিষয়ে কুর্নিশ, মানুষের মুখে মুখে রসগোল্লার গুণগান, কেক পেস্টরি নয়, বাঙালির প্রিয় আস্বাদ যে রসগোল্লা, তা আবারো প্রমাণ হয়ে গেল !