নারী শরীর কারো সম্পত্তি নয়: নারী দিবসে সরব স্বস্তিকা !

স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়

মাজ আদতে কোনো মেয়েকেই ছেড়ে কথা বলে না, তা সে ভারতবর্ষ হোক বা অন্য কোথাও! নারীর সবকিছুকে পণ্য করা সমাজের এক মহত রোগ! নারীর চোখ হবে হরিণীর মতো, নাক হবে তিক্ষ্ন, ঠোঁট যেন সামাজিক নেশার পাত্র, তার স্তন, চেহারা, নিতম্ব, শারীরিক চাহিদা এই সব কিছু নিয়েই কথা বলার পেটেন্ট যেন অযাচিত ভাবেই পুরুষতান্ত্রিক সমাজের হাতে তুলে দিয়েছে কেউ! আর ঠিক এমনি একটা সমাজে প্রতিবছর আন্তর্জাতিক নারী দিবস আসে আর যায়! নারী দিবসের প্রয়োজনিয়তা ঠিক কতটা, সে প্রশ্ন পরে আসে। আদতেই যদি প্রথমে কোনো কিছুর দিকে আঙুল তুলতে হয়, তবে তা মানসিকতার পরিবর্তনের! আসলেই কী এই বছর বছর নারী দিবস পালন করে কোনো মানসিকতার পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব হয়েছে! পুরুষতান্ত্রিকতা যখন নোংরামিতে পৌছায়, তখন তার কবল থেকে ছাড় পায় না কোনো নারীই, তিনি তার কর্মক্ষেত্রে যতই সফল বা খ্যাত হন, তিনি যে কেবলেই পণ্য, সে কথা বুঝিয়ে দিতে ছাড়ে না কেউই। সরব হওয়া প্রয়োজন, লড়াইটা আরো বেশী। আর লড়াই-এর মাঠে এবারে টলিউডের ঠোঁটকাটা অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়! স্বস্তিকা স্পষ্ট কথা বলতে ভয় পান না কোনো দিনই। এই কারণে অনেকে যেমন প্রিয় তিনি, অনেকের কাছেই বিরূপতার কারণ, তবে আবারো জানান দিয়ে দিলেন, “সমাজ ও সামাজিকতা তাকে কী ভাবল, তাতে জাস্ট কিছুই আসে যায় না তার!” স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়নিজের স্তনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে শোস্যাল মিডিয়াতে ট্রোলড হয়েছেন তিনি! তার স্তন নাকি সুন্দরী যুবতীর তুলনাতে একটু অতিরিক্ত নিম্নমুখী, এবং অতিরিক্ত বড়, এ নিয়ে তাকেও ট্রোল করতে ছাড়ে নি সমাজ! তিনি সব কিছু বুঝেই নারী দিবসের দিন সরব হলেন টুইটারে। জানালেন, তার ‘স্যাগি বুবস’ নিয়ে বিন্দু মাত্র মাথাব্যথা নেই তার। যারা তার স্তন সম্পর্কে এত চিন্তিত তাদের উদ্দেশ্যে জানিয়েছেন,”সন্তানকে যে নারী স্তন্যপান করায়, তিনিও তাদের মধ্যেই একজন। সে তাতে যদি তার স্তন রূপী নারীত্বের আকার নষ্ট হয়ে যায়, তাতে কিছুই আসে যায়না তার! মা হিসাবে যথেষ্ট খুশি তিনি। আর এর জন্য কোনো সার্জারি করে নিজেকে পিকচার পারফেক্ট করতেও লজ্জা বোধ করেন তিনি!’

স্বস্তিকার কথা সত্যিই ভাবিয়ে তোলে। সত্যিই তো তাই, অভিনেত্রীর পরিচয় কী তার স্তন নাকী তার অভিনয়? সত্যিই কী যে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় এই মুহূর্তে টলিউডের অন্যতম শক্তিশালী অভিনেত্রী, তার এই রকমের নোংরামির শিকার হওয়া প্রাপ্য ছিল? মাথা হেঁট হয়ে যায়, সত্যিই সমাজ কোনো মেয়েকেই ছেড়ে কথা বলে না। তসলিমা নাসরিন লিখেছিলেন, এমন একটি মেয়েকে দেখানো হোক, যে এই সমাজের নোংরামির ভীড়ে একদিনও হেনস্থা হয় নি! না, আমরা দেখাতে পারব না হয়তো। স্বস্তিকার এই স্বীকারোক্তি প্রশ্নচিহ্নটা আরো স্পষ্ট করে দিল যেন। নারীর লড়াইটা আজকের নয়, পথ যে সুগম না, প্রতিনিয়ত ধর্ষণ, যৌন হেনস্থা, নারীর পণ্যিকরণ, এবং এমন আরো হাজার হাজার অসমতা তা বার বার করেই প্রমাণ করে দেয়! স্বস্তিকার এই ট্যুইট টলি পাড়ায় মানসিকতার কোনৌ পরিবর্তন আনতে পারবে কী? পারবে, পুরুষতান্ত্রিক সমাজকে একটু প্র্যাকটিক্যালি লিঙ্গ বৈষম্যের কবল থেকে বের করে আনতে? আর কিছুই থাকে না, কেবল কপালে ভাঁজ আর প্রশ্নচিহ্ন থেকে যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here