ধোঁয়াহীন ফুসফুসের খোঁজ দেবে এই ‘কন্ঠ’

কন্ঠ

যে কোনো শিল্প যখন সময় এবং সমাজের আঙ্গিকে জীবনের রিপ্রেজেন্টেশন হয়ে ওঠে, তখনই সেই শিল্প কে সার্থক শিল্প বলা যায়। সিনেমা শিল্পের এই ডেফিনেশনের বাইরে কখনোই নয়। সমাজ ও সমসাময়িক জীবনের মধ্যে থাকা গল্প দিয়ে যে ছবি চীরনতুন কথা বলে সেই সিনেমা সত্যিই ক্লাসিক হয়ে ওঠে। বাঙলা ছবির জগতে যদি দেখা যায়, তবে এমন সব ক্লাসিকের উদাহরণ খুঁজতে অসুবিধা হবে না খূব একটা। আর দুহাজারউনিশের একদম শুরুতেই খবর এল এমনই এক ক্লাসিক-ইন মেকিং-এর! রসগোল্লার সাফল্যের পরে প্রোডাকশন হাউস আবারো উইনডোজ! আর এবারে ডিরেক্টরের সিটে সকলের প্রিয় ডিরেক্টর ডুয়ো শিবপ্রসাদ-নন্দিতা। ছবির নাম কন্ঠ, আর প্রথম পোস্টারটিও রিলিজ করে গেছে। ছবির পোস্টার, তাতে আলো ছায়ার বেশ অন্যরকম খেলা, সব মিলিয়ে বোঝাই যাচ্ছে, ছবিটা নেহাত মন্দ হবে না। ছবির লিড রোলে দেখা যাবে ডিরেক্টর শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে। এক রেডিও জকির গল্প সাথে নিয়ে, কোনো স্টার নয়, দর্শকদের মুখোমুখি হবেন খোদ শিবপ্রসাদ-ই।

ভালো ছবি, ভালো গল্প যে মানুষের আল্টিমেট চাহিদা, রসগোল্লা তা প্রমাণ করে দিয়েছে। আর তাই নেহাত স্টারডমের তকমা ঝেড়ে ফেলে বোধহয় ইউনডোজ আরো একটা মাসাটারপিস তৈরী করতে প্রস্তুত। কন্ঠ ছবিটি অনেক দিক থেকে ইউনিক। ছবিতে অন্য মুখ্য চরিত্রে দেখা যাবে জয়া আহসান কে! ইউনডোজের ব্যানারে, তাও আবার শিবপ্রসাদ-নন্দিতার ছবিতে এই প্রথম ছবি করছেন জয়া ছবির মুখ্যচরিত্র এক গলার ক্যান্সারে আক্রান্ত রেডিও জকি। কন্ঠ বেচে সংসার চলে যেসব মানুষদের, রেডিও জকিরা তাদের মধ্যে অন্যতম। আর যখন লং টাইম ধুমপানের পর সেই কন্ঠেই ধরা পড়ে ক্যানসার, কেমন হয় তার লড়াই? কেমন করেই বা এই কঠিন পথে চলতে হয় তাকে? এই সবকিছু নিয়েই শিবপ্রসাদ-নন্দিতার নতুন ছবি কন্ঠ। ছবি ঘিরে ধূমপান বিরোধী একটা ক্যাম্পেন তৈরী করার চেষ্টা থাকবে চোখে পড়ার মতো। যে বাঙালি সমাজের সিংহভাগ আজ তামাক আর সিগারেটের নেশাতে আক্রান্ত, সেই সমাজে, এমন এক দুঃসময়ে দাঁড়িয়ে কন্ঠের মতো ছবিকে কেবলই একটা প্যারালাল ছবির তকমা না দিয়ে পদক্ষেপ বলা যায় বৈকি। শিবপ্রসাদের অভিনয় ক্ষমতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই সেভাবে, রামধনু ছবিতে অভিনেতা শিবপ্রসাদ তার জাত চিনিয়ে দিয়েছিলেন, আর সেই শিবপ্রসাদকেই আবারো যে পাবে দর্শক, তা নিঃসন্দেহে বলা যায়, আর তার জন্য আলাদা করে কোনো স্টারডমের প্রয়োজন হবে না বোধহয়! কেমন হবে কন্ঠ, কেমন হবে ছবির কনটেন্ট সেবব অনেক পরের কথা, এখন এটুকুই আশা করা যায়, নেশা আর ধোঁয়াতে আক্রান্ত এক ভাঙনশীল বাঙালি সাজে দাঁড়িয়ে কন্ঠের মতো ছবি এক উদার কন্ঠের প্রতিবাদ হয়ে থেকে যাবে!