ডি লিট সম্মানে ভূষিতা সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় !

ডি লিট সম্মানে ভূষিতা সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়। সাবিত্রী দেবির জন্ম বাংলাদেশের কুমিল্লার কমলাপুর গ্রামে ১৯৩৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী। তাঁর বাবা তখন ভারতীয় রেলওয়েতে চাকরি করতেন। ১০ বোনের মধ্যে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় ছিলেন সবার ছোট। দেশভাগের পর তিনি কলকাতায় চলে আসেন দিদি জামাইবাবুর কাছে। ছিলেন টালিগঞ্জে এক দিদির বাড়িতে। এখান থেকেই শুরু হয় তাঁর অভিনয় জীবন। প্রখ্যাত অভিনেতা ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে মঞ্চে নিয়ে আসেন। তারপর চলচ্চিত্রে। তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘পাশের বাড়ি’, ‘রাতভোর’, ‘উপহার’, ‘অভয়ের বিয়ে’, ‘নূপুর’, ‘গলি থেকে রাজপথ’, ‘মরুতীর্থ হিংলাজ’, ‘কুহক’, ‘বধূ’, ‘ভ্রান্তি বিলাস’, ‘উত্তরায়ণ’, ‘জয়া’, ‘কাল তুমি আলেয়া’, ‘নিশিপদ্ম’, ‘ধন্যি মেয়ে’, ‘মাল্যদান’, বাহাদুর, তিন মূর্তি, মাটি। Sabitri Chatterjee Got D. Lit সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় পেয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘পদ্মশ্রী’, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সর্বোচ্চ সম্মান ‘বঙ্গবিভূষণ’সহ নানা পদক ও সম্মাননা। কিন্তু উনি যে মানের নায়িকা তাঁর জন্য জাতীয় পুরস্কার তখনকার উর্ব্বশী পুরস্কার ওনার পাওয়া উচিৎ ছিল। পাননি। কিন্তু পেয়েছেন দর্শকের অকুন্ঠ ভালোবাসা।

প্রবীন অভিনেত্রী বহু বছর পর পেলেন আরো একটি সম্মান। এবার বাংলা চলচ্চিত্রের লেজেন্ডারী অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় ভূষিত হলেন ডি লিট সম্মানে৷ বৃহস্পতিবার ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে তাঁকে এই সম্মান দেওয়া হয়৷ একইসঙ্গে এই সম্মান পেলেন তিরন্দাজ দোলা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য কেশরীনাথ ত্রিপাঠী। সমাজে মহিলাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার উল্লেখ করে ছাত্রীদের আরও বেশি করে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ডি লিট সম্মানে সম্মানিত হয়ে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় বলেন, “শিল্পীর জীবন হল মেঘে ঢাকা আকাশের মতো। আমরা অপেক্ষায় থাকি এক ঝলক রোদ্দুর দেখার জন্য। আজকের দিনটা আমার কাছে যেন এক চিলতে রোদ্দুরই। সম্মান পেতে কার না ভালো লাগে? আমি কৃতজ্ঞ যে আমার জ্ঞান থাকতে থাকতেই এই সম্মান আমাকে দেওয়া হল।”আসলে জ্ঞান থাকতে সম্মান পাওয়া বলার অর্থ, এমন অনেক পুরস্কার শিল্পীরা এত শেষজীবনে পান যে তখন তিনি অসুস্থতার গ্রাসে। দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার তপন সিনহা যখন পান তখন তাঁর বোধ ছিলনা কোনো। যদিও এর আগে একবার ডি লিট সম্মান পেয়েছেন সাবিত্রী দেবী কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে।

সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় আপনাকে কুর্ণিশ।

লেখা শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here