সুনন্দা সুচিত্রার পর বিজয়া এবার ঋতুপর্ণা !

দত্তা

টালিগঞ্জ পাড়ায় তৃতীয় বার ছবি হচ্ছে কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দত্তা’ নিয়ে। ১০০ বছর আগে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘দত্তা’ লিখেছিলেন। স্রষ্টার সেই সৃষ্টি দিয়েই তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘দত্তা’ ছবি করছেন পরিচালক নির্মল চক্রবর্তী। তাঁর ডেবিউ ছবি – প্রথম ছবি এটি। বিজয়ার নামভূমিকায় ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।

পরিচালক GulGal.com কে জানালেন এই আসন্ন ছবি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য।
সাক্ষাৎকার গ্রহন ও লেখায় – শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

নির্মল বাবুর সঙ্গে ঋতুপর্ণার ২০-২২ বছরের যোগাযোগ বন্ধুত্ব। আর পরিচালকের ভাবনাতেও ছিল ছবি করলে রবীন্দ্র সাহিত্য কিংবা শরৎ বঙ্কিম সাহিত্য নিয়ে ছবি করবেন। এ বছর ‘দত্তা’ উপন্যাসের শতবর্ষ। ঠিক একশো বছর আগেই শরৎচন্দ্র ‘দত্তা’ লেখেন। আর নায়িকার যে রোল তাঁর জন্য ঋতুপর্ণা পারফেক্ট তাই এই ছবিতেই হাত দিলেন পরিচালক। ‘দত্তা’ ছবি আগেও দুবার হয়েছে। প্রথমটি সুনন্দা দেবী অভিনীত। সঙ্গে পূর্ণেন্দু মুখার্জ্জী, অহীন্দ্র চৌধুরী। দ্বিতীয় বার সুচিত্রা সেনকে নিয়ে অজয় কর ‘দত্তা’ করেছিলেন। সঙ্গে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, শমিত ভঞ্জ, সুমিত্রা মুখোপাধ্যায় ও উৎপল দত্ত। এবার তিনবার ‘দত্তা’। কারন অবশ্যই ‘দত্তা’ উপন্যাসের শতবর্ষপূর্তি। তাই একে ক্লাসিক সাহিত্য অন্য দিকে সুচিত্রা সেনের চরিত্র তুলনা তো আসবেই,

এই নিয়ে পরিচালক নির্মল চক্রবর্তী সাফ বললেন “আমি শরৎচন্দ্রের সাহিত্যটা নিয়ে ছবি করছি। বিজয়া, নরেন, বিলাস, নলিনী ভেবে করছি। হ্যাঁ আগেও খ্যাতনামা পরিচালকরা ‘দত্তা’ করেছেন। সেইসময়ের কাস্টিং ‘দত্তা’ করতে গেলে যাঁদের মানাবে তাঁদের তাঁরা নিয়েছেন। আমি এখানে বিজয়া যাকে মানাবে তাঁকেই নিয়েছি। সাহিত্যের চরিত্রগুলো ভেবেই কাস্টিং করেছি। এখন তো ঋতুপর্ণাকে ছাড়া কাউকে বিজয়া ভাবার কোনো জায়গা নেই। বিজয়া সেই সমাজের ব্রাহ্মসমাজের শিক্ষিতা মেয়ে, যে প্রচন্ড বুদ্ধিও ধরে, যার একটা ব্যাক্তিত্ব আছে, বডি ল্যাঙ্গোয়েজ দৃঢ়, আর অবশ্যই দেখতে সুন্দরী এত কিছুর কম্বিনেশান ঋতুপর্ণা ছাড়া ভাবাই যায়না কাউকে। “

বিতর্কিত প্রশ্ন,
সাহিত্যে বিজয়ার বয়স একুশ সেই হিসেবে কি ছবির নায়িকা মেলে?

এই নিয়ে পরিচালক নির্মল চক্রবর্তী বললেন ” হ্যাঁ সাহিত্যে তাই বয়েস। কিন্তু সেটা অনেক যুগ আগের। মেয়েদের নিয়ে চিন্তাধারা, সমাজের পটভূমি ভেবে লেখা। আমি যদি আজকালকার কোনো একুশ বাইশ বছরের মেয়েকে নায়িকা নি তাহলে চরিত্রের যা ম্যাচিউরিটি, গভীরতা, তেজ এবং ক্লাইমেক্স সিনে দাপট সেটা আমি আজকালকার একুশ কোঠার নায়িকাদের মধ্যে পাবোনা। তাঁরা পারবেইনা। সেই ভেবেই ঋতু। আর এমন ভাবেই ছবির গল্পটা বলব যাতে মানানসই হয়। আর আগের ছবি দুটোতে বিজয়া নরেনের পরিনত কাল থেকে দেখানো হয়েছে আমি সমগ্র শরৎচন্দ্রের গল্পটাকেই রাখব। ওঁদের শুরুর গল্পটাও বলব। একদম শরৎ সাহিত্য তুলে আনব। কোনোভাবেই সাহিত্যকে চেঞ্জ করবনা ছবির খাতিরে। আজকাল একটা ট্রেন্ড হয়েছে কালজয়ী সাহিত্যকে একালের মতো আধুনিক করা ওসব খোদার ওপর খোদকারি করবইনা। একদম ক্লাসিক ঘরানা মেনে হবে।”

বাকি কাস্টিং নিয়ে পরিচালক জানালেন

“নরেনের ভূমিকায় জয় সেনগুপ্ত। ফিরদৌস করছেন বিলাসের ভূমিকায়। যাদের নিয়েছি ঋতুপর্ণার বিপরীতে যারা খুব বেশী ইউজড নয়। রাসবিহারীর চরিত্রে বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। ফিরদৌসের চেহারার সঙ্গে ওঁর বাবা রাসবিহারী মিল লাগে এমন ভেবেই বিশ্বজিৎদাকে নেওয়া। নলিনীর ভূমিকায় দেবলীনা কুমার। একটা কাস্টিং শুধু কনফার্ম বলছিনা দয়াল ঠাকুর। ঐ চরিত্রটি প্রদীপ মুখার্জ্জীকে ভেবেছি। দেখা যাক।” বিজয়া যেহেতু ব্রাহ্ম মহিলা তাই ব্রাহ্ম ভাবে পোশাক পরিকল্পনার দায়িত্বে আছেন সাবর্ণী দাস। ছবিতে রবীন্দ্রসঙ্গীত ও রজনীকান্তের গান ব্যবহার করা হবে।

ছবির শ্যুটিং নিয়ে পরিচালক বললেন

” সাত আট মাস ধরে আমি ছবিটা নিয়ে কাজ করছি। কেমন লুক হবে, কেমন ঘর হবে, কেমন আসবাব হবে, সেইসময়কার মতো সেট, সবটাই অনেকদিন ধরে রিসার্চ করছি। ঋতুপর্ণা সহ সবাই আমায় খুব সাহায্য করছে। আমরা শ্যুটিং শুরু করব এপ্রিলেই। এপ্রিলের নয়, দশ, এগারো শ্যুটিং করব বোলপুরে। দত্তার বেশী ঘটনাই ইনডোর শ্যুট। কিন্তু কিছু আউটডোর রাখব যাতে ছবিটায় সবরকমের স্বাদ থাকে। সেইজন্যই বোলপুর দিয়ে শ্যুটিং শুরু। আর বাকি শ্যুটিং হবে বেলগাছিয়া রাজবাড়িতে।”

ঋতুপর্ণা, জয়, ফিরদৌস অভিনীত নির্মল চক্রবর্তী পরিচালিত এই ছবি হচ্ছে ‘ভাবনা আজ ও কাল’ এর ব্যানারে।

পিরিয়ডিকাল ক্লাসিক ছবির স্বাদ পেতে চলেছি আমরা।