প্রেমের সপ্তাহে সমপ্রেমে মুক্তি ভালোবাসার জুটির !

নগরকীর্তন

কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় এর ‘নগরকীর্তন‘ এক পরিমল এর গল্প। যে জন্মসূত্রে ছেলে কিন্তু মনে মেয়ে। চপল ভাদুড়ী যেমন বলেন ‘ঠাকুরটা ভারী দুষ্টু, নারীর মনটা দিল কিন্তু শরীর টা দিলনা’। পরিমল বুঝতে থাকে তার পুরুষের শরীর অথচ মনে নারী এবং তার নাম হয়ে যায় নারীসুলভতায় পুটি। পুটি ভালোবাসে এক পুরুষ বাঁশীওয়ালা মধুকে। শুধুমাত্র পুটির ভাগ্য নিয়ে ছবি নয়, এ ছবি দুই ভালোবাসার জুটির, ভালোবাসার গল্প। যে ভালোবাসা সমাজের কাছে লজ্জার অবৈধ অনৈতিক কিন্তু ভালোবাসায় তো কোন খাদ নেই। ‘নগরকীর্তন‘ ট্রান্সজেন্ডার দের লড়াইয়ের গল্প। যাদের নিয়ে বাংলা ছবি খুব কম হয়েছে। তৃতীয় লিঙ্গ এই সাহসী চরিত্রে ঋদ্ধি সেন। কৌশিক গাঙ্গুলী প্রথম একটি LGBT টেলিছবি করেন ইটিভি বাংলায়, ‘উষ্ণতার জন্য’। সেটাকেই ভেঙেচুরে নিয়ে ‘আরেকটি প্রেমের গল্প’। তৃতীয় লিঙ্গের গল্প নিয়ে প্রথম বাংলা ছবি। ঋতুপর্ণ ঘোষ – চপল ভাদুড়ির অভিনয়ে কৌশিক গাঙ্গুলীর সাহচর্যেই ট্রান্সজেন্ডার লাভস্টোরি প্রথম বাংলা ছবিতে আসে। ভালোবাসার ছবি নগরকীর্তন‘নগরকীর্তন‘ আরো সাহসী ছবি যা আরো এগিয়ে দেয় বাংলা ছবিকে। অনেকেই বলেছিলেন ‘আরেকটি প্রেমের গল্প’ ও তো ঋতুপর্ণর ছবি। কিন্তু ‘নগরকীর্তন‘ সে আক্ষেপ মিটিয়ে দিয়েছে পরিচালককে। তৃতীয় লিঙ্গ মানে বীভৎস সেজে সমাজে হোমোফোবিয়া তৈরি করা নয়, সমাজে একজন সাধারণ মানুষের স্বীকৃতি পাওয়ার লড়াই। ‘নগরকীর্তন’ সেই সাধারণ মানুষের গল্প বলে। যে ছবি দেখবার জন্য দর্শক উদগ্রীব হয়েছিলেন, তাঁদের জন্য সুখবর, বিভিন্ন ফিল্ম ফেস্টিভালে প্রর্দশিত হবার পর ‘নগরকীর্তন‘ এবার ফর পাবলিক হল রিলিজ করা হবে ফেব্রুয়ারী ২০১৯ এ। সেরা অভিনেতা হিসেবে এবছর জাতীয় পুরস্কারে পুরস্কৃত হলেন ঋদ্ধি সেন ‘নগরকীর্তন‘ছবির জন্য। কৌশিক গাঙ্গুলী পরিচালিত এই ছবির গল্প সমপ্রেমিতাকে কেন্দ্র করে বানানো হয়েছে। দুই মুখ্য চরিত্রে দেখা গেছে ঋদ্ধি (পুটি) আর ঋত্বিক চক্রবর্তীকে (মধু)। এই একই ছবির জন্য বেস্ট কস্টিউম এর পুরস্কার পান গোবিন্দ মন্ডল ও বেস্ট মেক আপ আর্টিস্ট রাম রাজাক। বিশেষ জুরি পুরস্কারে সেরা বাংলা ছবিও ‘নগরকীর্তন‘। টরন্টো ফিল্ম ক্রিটিক্স এওয়ার্ড এও ভূষিত পরিচালক। ১৫-ই ফেব্রুয়ারীতে উঠছে পর্দা বহু প্রতীক্ষিত ‘নগরকীর্তন‘ ছবির। ভ্যালেন্টাইন’স ডে এর প্রেম সপ্তাহে এই রামধণু ভালোবাসার গল্প আসছে প্রেক্ষাগৃহে।