নিজের বাড়ির স্বপ্ন সত্যি করতে আসছে মুখার্জী দার বৌ !

মেয়েদের

ভার্জিনিয়া উল্ফ লিখেছিলেন, একজন মেয়ের সবার আগে নিজের মতো করে থাকার জন্য একটা নিজের ঘর দরকার। যেখানে সে নিজের মতো করে থাকতে পারবে। একটা নিজের বাড়ি দরকার যেখানে সে চিৎকার করতে পারবে, কাঁদতে পারবে…ভার্জিনিয়া উল্ফ লিখেছিলেন, আর আমরা, আপামর জনসাধারণ, গোটা পৃথিবী কেবল শুনেছিল চুপচাপ। বেশ কয়েক দশক কেটে গেছে, আমরা ভার্জিনিয়ার কথা ভুলে গেছি, মেয়েরা ছোট থেকে পুতুল খেলেছে, পুতুলের বিয়ে হতে হতে, কবে একটা তার খেলাঘর তার বাপের বাড়ি হয়ে গেছে, শ্বশুরবাড়ির ঠিকানা তাকে মানিয়ে নিতে হয়েছে সহজেই, বাঙালি অধিকাংশ মেয়ে তা বুঝতেও পারে নি। হঠাৎই আবারো চেষ্টা করার একটা প্রয়োজন বোধ করেছিলেন আরো এক বাঙালি লেখিকা, তসলিমা নাসরিন। তিনি লিখলেন, দেশ মানে যদি হয় নিজের মতো করে বাঁচার একটা সহজ অধিকার, তবে নারীর কোনো দেশ নেই… আর দেশ না থাকলে বাড়ি, ঘর এসবের ভাবনা খুব একটা বোধহয় আসে না। কিন্তু তারপরেও কী কিছু বদলালো? প্রশ্নটা যে কত গুলো মানুষকে কয়েক সেকেন্ড চুপ করিয়ে দিতে পারে, তা বোধহয় এই আইফোন, উইনডোজ, ফেমিনিজম আর হোক কলরব গজগজে পশ্চিমবাঙলাতে দাঁড়িয়ে উইনডোজ প্রোডাকশনের উদ্যোগে তৈরী একটা স্পেশাল প্রমোশোনাল ভিডিও না দেখলে ধরতেই পারা যেত না। উইনডোজের নতুন প্রজেক্ট মুখার্জী দার বৌ-এর ফার্স্ট প্রোমো লঞ্চের আগে একটা অভিনব উদ্যোগ নিল প্রোডাকশনের কর্তারা। কোলকাতার সদাব্যস্ত রাস্তাতে হঠাৎই দাঁড়িয়ে সমাজের নানান শ্রেণীর মেয়েরা এক নিশ্বাসে বলে গেলেন নিজেদের বাপের বাড়ি আর শ্বশুরবাড়ির ঠিকানা…কেবল তাদের যখন প্রশ্ন করা হলো,’আর নিজের বাড়ি?’ সকলে কেমন থমকে গিয়েছেন যেন। কেউ কেউ বিশ্বাস করতেই পারলেন না নারীরও কোনো নিজের বাড়ি হতে পারে, আর বাকিরা দীর্ঘশ্বাস চেপে বলে গেলেন, মেয়েদের নিজের বলে কেবল বাড়ি কেন, কিছুই হয়না!

মুখার্জী দার বৌবেশ অবাক লাগে ভাবতে তাই না? কল্লোলিনী কোলকাতা, কেমন যেন ফিকে আর গোঁড়া লাগে এক নিমেষে। কোন উন্নতির কথা আমরা বলি, কোন বা দ্রুত উন্নয়নশীল দেশে আমরা বাস করি, এই সব কিছুর সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়, এই স্বীকারোক্তি…আগামী আটই মার্চ দর্শকের সামনে আসছে মুখার্জী দার বৌ-এর প্রথম লুক। সেই ছবির গল্পও যে এমন প্রত্যেক দিন লড়াই করে এগিয়ে চলা নারীর কথাই বলে দেবে, তা নিশ্চিত, কোন প্রশ্নের সামনে দাঁড়াতে হবে বাঙালিকে তা এখনো রহস্যেই, হয়তো সময় হাসবে আর বলবে,’ বাড়ি..ঘর..দেশ এই সব কিছু মানেই যদি নিরাপত্তা হয়, তবে নারীর কোনো দেশ নেই…’