এক আলাপেই আপনাকে সম্মোহিত করতে পারেন ইনি! বিশ্বাস না হলে ক্লিক করুন..

দেবদীপ মূখার্জী, নামটা শুনলেই মানুষের এখন একটাই রিয়্যাকশন, ‘রুফ টপ কনসার্টের ছেলেটা?’ বিগত বেশ কিছু বছর ধরেই গান লেখা, সাথে সুর, গাওয়া এবং বাজানো এই সবকিছু নিয়েই রয়েছেন দেবদীপ। এমনকি মুক্তি পেয়েছে তার নিজস্ব অ্যলবাম। কিন্তু পরিচিতি সেই অর্থে আসে নি বললেই চলে, এবং তার সমস্ত ক্রেডিটটাই প্রাপ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট সিঙ্গিং এর, যার দ্বারা পরিচিতি পেতে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়। কিন্তু এই মূহুর্তে দেবদীপ এর গানই গুনগুনিয়ে গেয়ে উঠছেন মানুষ ‘তখনও তো তোমার সাথে হয়নি আলাপ’। রুফ টপ কনসার্ট ২০১৮ এ দেবদীপের গাওয়া ‘হয়নি আলাপ’ এখন লোকের মুখে মুখে। সবে আড়াই মাস পেরিয়েছে গানটি ইউটিউবে আপলোড হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই গানটি মিলিয়ন ভিউস এর পথে। জীবনে গান গাওয়ার শুরুর দিন থেকে, ইউটিউবে গানের লক্ষাধিক ভিউস সব নিয়ে ফোনের ওপারে আড্ডা দিলেন দেবদীপ –

যে গান তাকে একধাপে অনেকটা পরিচিতি দিয়েছে, স্বাভাবিক ভাবেই কথা শুরু হল সেই গান নিয়েই।  ‘হয়নি আলাপ’ তৈরী করার সময় বা রুফ টপ কনসার্টে গাওয়ার সময় কখনও ভেবেছিলে যে গানটা এত পপুলারিটি পেতে পারে? উত্তরে দেবদীপ জানালেন ‘একদমই না। আমি বরাবরই লুকিয়ে কাজ করেছি, কেউ সেভাবে জানতে পারে না। রুফ টপে হয়নি আলাপ গাওয়াটা উপলের চয়েস ছিল। আমি ভাবিনি গানটা এতটা পপুলারিটি পাবে বা ভাইরাল হয়ে যাবে, তবে লোকে অ্যক্সেপ্ট করবে এটা বুঝেছিলাম’।

তাহলে তোমার কেরিয়ারে হয়নি আলাপ এর ভূমিকা কিভাবে ব্যখ্যা করবে? “হয়নি আলাপ আমার কেরিয়ারে অবশ্যই সাহায্য করেছে। লোকে জানতই না আমি এক্সিস্ট করি। আজ যখন এক বন্ধু অন্য বন্ধুকে হয়নি আলাপ ডেরিকেট করছে, সেটা একটা দারুণ পাওনা”।

হয়নি আলাপ শুধু গানটা নয়, গানের লাইনও মানুষের খুব পছন্দ হয়েছে, সে ক্ষেত্রে গান লেখা না গান করা কোনটা বেশি পছন্দের? “দুটোই, খুব পছন্দের। অনেকটা বেশি আনন্দ এক্সপ্রেস করা যায়”।

গান গাওয়ার শুরু কবে থেকে জানতে চাইলে দেবদীপ জানান ছোট থেকে কখনই সেই অর্থে গানের কোনও তালিম নেন নি তিনি, “২০০৫ এ শিলাজিত দার সাথে জার্নি শুরু। শিলু দার খুব বড় ফ্যান ছিলাম। শিলু দার সাথে শুরু করাটা স্বপ্ন পূরণের থেকেও বেশি একটা লার্নিং প্রসেস ছিল, মিউজিক জানতে অনেকটা সাহায্য করেছে”।

তোমার কেরিয়ারে শিলাজিত দার ইন্সপিরেশন বা কন্ট্রিবিউশন নিয়ে কী বলবে? “অবশ্যই অনেকটা ভূমিকা আছে। মিউজিশিয়ান হিসাবে, ফ্রেন্ড বা ফিলোসফার হিসাবে তো আছেই। আমার গান মুখস্থ হয়ে যেত, কিন্তু সুর বসানো নিয়ে অসুবিধা হত। একদিন ভুলভাল কিছু একটা গেয়ে শিলুদা কে আসল সুর ভুলিয়ে দিয়েছিলাম (হেসে)। সেই দিন মজার ছলে যে মারটা বা বকুনি খেয়েছিলাম সে গুলোই পরম প্রাপ্তি”।

Debdeep

হয়নি আলাপ শুনে শিলাজিত দার কি রিয়্যাকশন ছিল? “শিলুদা ভীষণ এক্সাইটেড। ইন্ডিপিন্ডেট কাজ স্বীকৃতি পেল তাতে খুব খুশি হয়েছেন। আমার প্রথম অ্যলবাম ‘স্বপ্ন আমার মেয়েটা’ শিলু দার জন্মদিনে রিলিজ করেছিলাম, সেটা নিয়ে শিলু দা আরও বেশি এক্সাইটেড ছিল”।

আগামী দিনে কী ধরণের কাজ করছো? সিনেমায় কাজ করা বা প্লে ব্যাক সিঙ্গিং করার কোনও ইচ্ছা আছে? উত্তরে দেবদীপ জানান, “আমি নানান রকম গান তৈরী করতে চাই। আমার এক একটা গান আমার বিভিন্ন ইমোশনের রিফ্লেকশন। আপাতত একটা সিনেমায় কাজ করেছি, আরও কথা চলছে”।

প্রায় মিলিয়ন খানেক মানুষ রীতিমত সম্মোহিত এই মানুষটির গলাতে, আপাতত বাংলা গানের জগতে উঠতি তারকা তাকিয়ে আছে আপনাদের আরও ভালোবাসার পাওয়ার অপেক্ষায়…