ক্ষমতার কোপ থেকে রক্ষা পেল না, ভবিষ্যতের ভুত

ভবিষ্যতের

পশ্চিমবঙ্গ নাকি ভারতীয় সংস্কৃতি ও শিল্পের যে মূল প্রাণ তা ধরে রাখার ক্ষেত্রে অন্যান্য রাজ্যের থেকে অনেকটা বেশী এগিয়ে। এমনটা আজকের ধারণা নয়, বেশ কয়েক দশক ধরে এই কথা মেনে নিয়েছে পুরো ভারতবর্ষ। কিন্তু সেই পশ্চিমবঙ্গ কী আদৌ আজ জীবিত! প্রশ্নটা যে নিছক কারণ ছাড়াই উঠে আসছে না, সেটা বেশ সহজেই প্রমাণ করে দিল, অনিক দত্তের সদ্য রিলিজ করা ছবি, ভবিষ্যতের ভুত। সর্ষের মধ্যে ভুত থাকতে পারে, তা সকল বাঙালির জানা, কিন্তু ভুতের মধ্যেও যে পলিটিক্স আর সোচ্চার প্রতিবাদ থাকতে পারে, সেটা বোধহয় পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার ধ্বজাধারীদের জানা ছিল না! আর ক্ষমতার গায়ে কোপ পড়লে কবে, কোন জায়গাতে সেটা খুব সহজে মিটেছে! এবারেও ঠিক তাই হলো, ভুতের ছবিতে প্রতিবাদের গন্ধ পেতেই অনিক দত্তের ভবিষ্যতের ভুত ছবিকে কোলকাতার বিভিন্ন মাল্টিপ্লেক্স থেকে তুলে নেওয়া হলো। ভালো ছবি, বা সত্যিকে আঁকড়ে ধরে তৈরী হওয়া আরো একটা ছবির মুখ চেপে ধরে, টেনে নামানো হলো রাস্তায়। আর আমরা, মুক্তমনা বাঙালী দর্শক কেবল খবরের কাগজে, ফেসবুকে, হোয়াটস্অ্যাপে এবং উড়ো খবরে, বিষয়টা জানলাম, এবং বিশ্রী রকম একটা দুঃখজনক একটা প্রতিক্রীয়া জানানো ছাড়া আর কিছুই করলাম না! এটা কী আদৌও বাঙালির মতো সংস্কৃতিমনস্ক জাতির থেকে কাম্য ছিল? ছবিটি সম্পর্কে দর্শকের রিঅ্যাকসান বেশ বিতর্কিত গোছের। কারো কারো ছবিটা ভালো লাগলেও, যে দর্শকরা ভুতের ভবিষ্যতের আইডিওলজিকাল সাকসিসর হিসাবে ছবিটি দেখতে গিয়েছিল, তারা হতাশ হয়েছেন অনেকটাই। হাসি আছে, মজা আছে, কিন্তু সেই ভুতের ভবিষ্যতের মতো অনিক দত্তের ম্যাজিকটা আর পান নি অনেকেই। কিন্তু ছবিটা যে বেশ সরাসরি পলিটিক্যাল স্যাটায়ার, সে বিষয়ে সকলেই একমত! আর সেখানেই আসল সমস্যা, পলিটিক্সকে আঘাত করলে, যে কোনো শিল্পকেই ছেড়ে কথা বললে ক্ষমতা শাসকের দল, সেটাই প্রমাণিত হয়েগেল ছবিটাকে মাল্টিপ্লেক্সগুলো থেকে বের করে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে! তবে কী আর আদৌও বাঙালীকে সংস্কৃতিমনস্ক জাতির তকমাটা আদৌও দেওয়া যায়? আসল প্রশ্ন উঠে আসে এখানেই, আর তখন বার বার করেই প্রমাণ হয়ে যায়, বাঙালির কাছে আজো, সংস্কৃতির থেকে পলিটিক্স বেশী গুরুত্ব পায়, চিরকাল পেয়ে এসেছে।