পান্না আগেই পাড়ি দিয়েছিলেন অনন্তলোকে ! এবার চলে গেলেন চুনী

বিপ্লবকেতন চক্রবর্তী

পান্না দ্বিজেন বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই পাড়ি দিয়েছিলেন অনন্তলোকে। এবার সেখানেই চলে গেলেন চুনী। বাংলার নাটক, টেলিসিরিয়াল, সিনেমা জগতের অন্যতম রত্ন বিপ্লব কেতন চক্রবর্তী প্রয়াত। অনেক বছর ধরেই নীরব হয়ে গেছিলেন স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ায়। সত্যি কথা বলতে আজ মুক্তি পেয়ে গেলেন জীবন্মৃত জীবন থেকে। আজ ভোরে প্রয়াত অভিনেতা নাট্যপরিচালক বিপ্লব কেতন। জন্মভূমি মেগাতে গ্রামের মোড়ল এককড়ি র চরিত্রে অভিনয় করে খুব জনপ্রিয় হন। অনেক সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন। নাটকে বিখ্যাত ছিলেন।

বিপ্লবকেতন চক্রবর্তী‘চেতনা’ নাট্যগোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর অভিনয় জীবন শুরু। ‘মারিচ সংবাদ’ নাটকে তাঁর অভিনয় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বাংলা থিয়েটারের ইতিহাসে। এরপর নিজের নাট্যদল ‘থিয়েটারওয়ালা’ প্রতিষ্ঠা করেন। বাঘু মান্না ও কাঁচের দেওয়াল এই দলের বিখ্যাত নাটক। নব্বই দশক জুড়ে তাঁর নাট্যদল সব নাট্যোৎসব আলো করত। তরুন মজুমদার থেকে বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করেছেন ছবিতে। তার তিন কন্যা বিদীপ্তা, সুদীপ্তা ও বিদিশা মঞ্চ থেকেই অভিনয় জীবন শুরু করেন পিতার নাট্যদলে। স্ত্রী ওড়িশি নৃত্যগুরু দীপালি চক্রবর্তী। নাচেও তালিম মায়ের থেকে। সুদীপ্তা চক্রবর্তীর ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে অতনু ঘোষ পরিচালিত সৌমিত্রপ্রসেনজিৎ অভিনীত ‘ময়ূরাক্ষী’ সিনেমাটি কেমন করে যেন জড়িয়ে গিয়েছে। ছবিতে ডিমেনশিয়া রোগে ভুগছিলেন সুশোভন আর পুত্র বিদেশে থাকায় ওই বৃদ্ধের দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন একটি মেয়ে, সেই চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী। ছবিতে অভিনয় করতে করতে রিয়েল লাইফে তাঁর বাবা অভিনেতা বিপ্লব কেতন চক্রবর্তীর অবস্থাটা মনে করিয়ে দিচ্ছিল সুদীপ্তাকে। ফলে রিল লাইফ এবং রিয়েল লাইফকে একাকার হয়ে যাচ্ছিল। আজ একটা ইতিহাস শেষ হল। ছাতা হারালেন স্ত্রী ও তিন কন্যা। কিন্তু জড়ভরৎ নির্বাক জীবনে যা কষ্ট পাচ্ছিলেন মুক্তি পেলেন শিল্পী। প্রণাম।