জোজোর সঙ্গে জঙ্গল সাফারি করতে বেড়িয়ে পড়ুন মন ভালো হয়ে যাবে !

রাজ

নতুন বছরের , বড়দিনের এর আদর্শ ছবি ‘ অ্যাডভেঞ্চার অফ জোজো‘। নিরাশ করেননি রাজ চক্রবর্তী। যে ধরনের ছবি ইদানিং বানাতেন রাজ , সেখান থেকে বেরিয়ে রাজ একদম সুন্দর গল্পের ছবি বানিয়েছেন। এমন রাজকেই তো চাই। যা ভালো লাগবেই ছোটদের। ছবি দেখতে ছোটদের সঙ্গে বড়দের ভিড় উপচে পড়ছে। আসলে বাংলায় ছোটোদের ছবি কম হয়,হলেও জগাখিচুরি নয় যত ঢাক পেটানো হয় আমাজনে, চাঁদের পাহাড়ে গিয়ে আদতে গল্প কিছু থাকেনা। এই ছবিতে একটা সুন্দর গল্প আছে। যা একটুও বোর করেনা। কিছু ব্যাপার কাল্পনিক একটু অবাস্তব আজগুবি লাগলেও গল্পের খাতিরে ধরে নেওয়া যায়। জোজোর মুখে কিছু ডায়ালগ বড় বেশী পাকা মাথার লাগে, তবু জোজোকে ভালো লাগার গুণে জোজোকে ভালো লাগবেই। ছবির শুরুতেই মন ভালো হয়ে যায় সৌমিক হালদারের তুখোড় ক্যামেরার কাজে আর অরিজিৎ সিং র জোজোর গানে। বাঘ চ্যাঙ্গিজ খুব আসল দেখতে লেগেছে। চ্যাঙ্গিজ কে দেখতেই ছোটোরা হা করে বসেছিল। বড়দেরও মন জয় করেছে চ্যাঙ্গিজ বাঘ আর হাতি ননী। যা এতদিন লাগেনি অন্য বাংলা ছবিতে। চাঁদের পাহাড়ের সিংহ ভালো ছিল। কিন্তু ওখানে শুধু ন্যাশানাল জিওগ্রাফিকের মতো ভাষ্যপাঠ ছিল। এইছবি ঠাস বুনোট গল্পের একশনের।

যশোজিৎ, জয়জিৎ পুত্র খুব খুব ভালো। ছবিটাকে টেনে নিয়ে গেছে যশোজিৎ শুরু থেকে শেষ। দাদাগিরি নবাগত যশোজিৎ র এখানেও ফুল মার্কস।’সহজ পাঠের গপ্পো’-র সামিউল আলমের আরেক রত্ন খুঁদে অভিনেতা এই ছবির। একদম বনের রাজকুমার হয়ে উঠেছে সামিউল আলম। কি অসাধারন মেক আপ। কি অসাধারন অভিনয়। হাতির পিঠে চড়া থেকে গাছ থেকে বাঘের টোপ হিসেবে ঝুলে থাকা জানিনা আর কজন বাচ্চা পারত যা সামিউল করেছে। দুই খুঁদে অভিনেতা আর হাতি ননী এ ছবির সেরা আকর্ষন। তাদের তিন বন্ধুর লড়াইয়ের গপ্প দুষ্টু লোকদের দমন করতে। দুষ্টু লোকদের থেকে চ্যাঙ্গিজ কে বাঁচানোর গল্প। পদ্মনাভ,মানালী,জিতু সবাই যথাযথ। রুদ্রনীল ঘোষ ভিলেনে দুর্দান্ত। অনেকেই ভয় পাবে রুদ্রকে দেখে বাচ্চারা তো পাবেই। জোজোর দুই গম্ভীর ফার্স্ট বয় যমজ দাদার কমেডি রিলিফ দারুন।নবাগত সন্তু সাহা, চোরাশিকারিদের সাহায্য করা সরকারের বনদপ্তরের পুলিশ কর্মীর অভিনয় যে করেছেন প্রথম ছবিতেই বেশ সপ্রতিভ। ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত সংগীত পরিচালনা , পদ্মনাভ দাশগুপ্তর চিত্রনাট্য, সংলাপ ভৌমিকের সম্পাদনা যথাযথ ছবিটার গতি বজায় রাখে। ছবিটা শুধু জঙ্গল নিয়ে নয় একটা পারিবারিক গল্প আছে যার জন্য ছবিটা আরো মন ছুঁয়ে যায়। অ্যাকশান দৃশ্য দুরন্ত।ছবির বেসিক ভাবনাটা খুব মন ভালো করা।তাই এই ছবি সবার আর ছোটোদের তো খুব ভালো লাগবেই।

এছবি কেন দেখবেন ?

কোনো দেখনদারি নেই একদম সরল ছোটোদের মন নিয়েই গল্প তাই নিরাশ করেনা এই ছবি, নিরাশ করেননি রাজ। আর বড়দিন নতুন বছর মানেই তো ঘুরতে যাওয়া। জোজোর সঙ্গে জঙ্গল সাফারি করতে বেড়িয়ে পড়ুন মন ভালো হয়ে যাবে। শাহরুখ খানের ছবির পাশেও দুই খুঁদে অভিনেতার দাপটে বাংলা ছবি হাউসফুল।