দেখে নিন ২০১৭’র সেরার সেরা নতুন মুখদের!

বছর শেষ হতে বাকি হাতে গোনা দুটো দিন, স্বভাবতই চারিদিকে ছুটির আমেজ। আর এই ছুটিতেই বাঙালি কিন্তু মজেছে বাংলা ছবিতে। হলের বাইরে লম্বা লাইন থেকে শুরু করে ইন্টারনেট বুকিং চলছে বেশ রমরমিয়েই। শুধু শীতের ছুটি বলে নয়, একটু খুঁটিয়ে দেখলে এ বছর কম বেশি ভালোই ব্যবসা করেছে বাংলা ছবি। বাঙালি উপহার পেয়েছে বেশ কিছু ভালো বাংলা ছবি। ২০১৭ এ বাংলা ইন্ডাস্ট্রির আরও এক বড় প্রাপ্তি হল কিছু নতুন মুখ, নতুন ট্যালেন্ট। যাদের প্রত্যেকেই দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তাদের প্রথম ছবিতেই। আসুন একবার ফিরে দেখি সেই সব নতুন মুখদের –

অর্ঘ্য বসু রায় (পোস্ত)

এ বছরের গোড়ার দিকেই দর্শকের মন জয় করে নেয় এই খুদে শিল্পী। যার পরিচয় এখন অনেকের কাছেই পোস্ত নামে। গরমের ছুটিতে দর্শকের হলমুখী হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল তার ছবি ‘পোস্ত’। অর্ঘ্যর অভিনয়ের সারল্যতা দাগ কাটে ছবির কলা-কুশলী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মনে। হলে একবার পোস্তর দেখা পেয়ে সেলফি নেওয়ার রিকোয়েস্টও ছিল প্রচুর। তবে এই শিল্পী এতই খুদে যে এখনও রাতারাতি সেলিব্রেটি হওয়াটা তার বোধশক্তির বাইরে। আশা করি আরও অনেক ভালো ছবি দর্শককে উপহার দেবে অর্ঘ্য।

রুক্মিণী মৈত্র (চ্যাম্প)

রুক্মিণীর নাম দর্শক অনেক দিন ধরেই শুনছিলেন, কানাভুষো ছিল যে তিনি নাকি দেবের বিশেষ বান্ধবী। সেই সব বিতর্ক এড়িয়ে দেবই তার ছবি ‘চ্যাম্প’ এ কাস্ট করলেন রুক্মিনীকে। বলাই বাহুল্য ভুল কিছু সিদ্ধান্ত নেননি তিনি। টলিউডের নায়িকাদের লিস্টে নাম করে নিতে খুব একটা অসুবিধা হয়নি রুক্মিনীর। চ্যাম্পে তার অভিনয় দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সেই সব প্রশ্নের অবসান ঘটে তার পরবর্তী ছবি ‘ককপিট’ এ। সুন্দরী এই নায়িকা তার অভিনয়, নাচ সবটা দিয়েই মন জয় করেন দর্শকের। তার পরবর্তী ছবি ‘কবীর’ রিলিজ করতে চলেছে আগামী বছরেই।

জিয়া (চৌধুরী রাজবাড়ি)

সদ্যই মুক্তি পেয়েছে তার প্রথম ছবি ‘চৌধুরী রাজবাড়ি’। আর প্রথমবারেই দর্শকের মন জয় করেন নবাগত জিয়া। একজন নিউ কামার হিসাবে অবশ্যই তার অভিনয় প্রশংসনীয়। তবে এই তো সবে শুরু। এখনও অনেকটা পথ চলা বাকি। দর্শককে অনেক কিছু দেওয়ার বাকি।

ইদা দাশগুপ্ত (সব ভুতুড়ে)

ইনি আরেক খুদে শিল্পী যার প্রত্যাবর্তন ঘটে তার বাবার হাত ধরেই। বিরসা দাশগুপ্তের ছবিতে এর আগে তাকে একবার দেখা গেলেও প্রথম মুখ্য চরিত্রে দেখা যায় এ বছর মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘সব ভুতুড়ে’ তেই। ছোট্ট, মিষ্টি মেয়ে ইদা ভয় দেখিয়েই নজর কাড়ল দর্শকের। দর্শকের মত, আর পাঁচটা ভুতের সিনেমার থেকে বেশ আলাদা ছিল এই ছবি। সাথে ইদার অভিনয় দক্ষতাও বেশ প্রশংসনীয়। আর এই বয়সেই যদি এত ভালো অভিনয় হয়, তবে আগামী দিনে আরও অনেক বেশি সাফল্য অর্জরবে ইদা, এমনটাই আশা করা যায়।

সামি-উল-আলম ও নুর ইসলাম (সহজ পাঠের গপ্পো)

দেশ বিদেশের বহু ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে রীতিমত দাপিয়ে বেড়িয়েছে এই দুই খুদে শিল্পী অভিনীত ছবি ‘সহজ পাঠের গপ্পো’। তাদের ছবি আবারও প্রমাণ করে দিয়েছে যে ভালো ছবি বানাতে নামজাদা অভিনেতা, অভিনেত্রী নয়, বরং দরকার একটা ভালো গল্পের। শুধু ছবির গল্প নয়, প্রশংসিত হয়েছে এই খুদে শিল্পীদের অভিনয়ও। আর সেই কারনেই বোধহয় অধিকাংশ হল থেকে ছবি বেরিয়ে যাওয়ার পরেও আবারও দর্শকের চাহিদায় হলে দেখানো শুরু হয় এই ছবি। অতএব, ২০১৭ এর বাংলা ছবির ইতিহাসে সামি-উল-আলম ও নুর ইসলাম এই দুই নাম লেখা থাকবে অবশ্যই।

আদিত্য সেনগুপ্ত ও ঈশা সাহা (প্রজাপতি বিস্কুট)

এই পুজোতেই প্রথমবার বড় পর্দায় দেখা মেলে আদিত্য ও ঈশার। দুজনেই ২০১৭ র নতুন মুখদের মধ্যে অন্যতম জায়গা করে নেয় তাদের ছবি ‘প্রজাপতি বিস্কুট’ এর মাধ্যমে। ছবির গল্প থেকে শুরু করে গান সবই বেশ প্রশংসার অধিকারী হয়েছে। তবে সব থেকে বেশি নজর কিন্তু কেড়েছে এই দুই তরুণ শিল্পীর জুটি। তাদের অভিনয় দর্শকের আগামী দিনের এক্সপেক্টেশনকে একই ধাপে অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। আর তাই আগামী দিনে তাদের কাজ দেখতে মুখিয়ে থাকবেন বাংলার দর্শকরা।

২০১৭ এর এই নবাগতদের আগামী দিনের জন্য অনেক শুভেচ্ছা রইল গুলগালের পক্ষ থেকে।