এটাই এখন আধুনিক বাঙালি বৌ’য়ের সংজ্ঞা, বোঝাবেন স্বস্তিকা!

‌আমাদের দৈনন্দিন সমাজে বাঙালি মধ্যবিত্ত বাড়ির বৌ’দেরকে দেখা হয় এক অন্য নজরে, যেখানে বিয়ের পর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের কাজ হয়ে থাকে তার স্বামী, শ্বশুর-শ্বাশুড়ী, সন্তান-সন্ততিকে খুশি রাখা, দেখভাল করা, তার জন্যে তাকে জীবনের সাথে যত কম্প্রোমাইজই করতে হোক না কেন, লোকের কথায় সেটাই নাকি তার ধর্ম। কিন্তু একজন স্ত্রী হিসেবে তারও কি কিছুই চাওয়া-পাওয়া থাকতে পারেনা? থাকতে পারে না কোন নিজস্বতা?…হ্যাঁ অবশ্যই পারে, আর এই চিন্তাকেই যোগ্য সম্মান দিয়েছেন আমাদের সবার প্রিয় অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জী ওরফে শিঞ্জিনী।

গ্রিনটাচ এন্টারটেনমেন্ট ও ট্রাইপড এন্টারটেনমেন্টের ব্যানারে  প্রযোজিত ও সত্রাজিৎ সেন পরিচালিত তার প্রথম ছবি মাইকেল’র এক বিশেষ চরিত্র শিঞ্জিনী। যে কিনা ছবিতে মাইকেলের স্ত্রী হওয়ার সাথে সাথে সামলাচ্ছে তার নিজস্ব কর্মজীবনও। এই ছবিতে তাকে দেখা যাবে এক কর্মরতা মহিলা আর তার  পাশাপাশি এক হাউস ওয়াইফের ভূমিকায়, যে স্বামীর খেয়াল রাখা বা সংসারকে আগলে রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন টিভি সিরিয়ালে ও সিনেমার শুটিংয়ের প্রয়োজনীয় প্রপসের যোগাণও দেয়। অন্যদিকে মাইকেলের জীবনের একমাত্র লক্ষ্যই হল সিনেমা তৈরি করা। তাই জীবনের বাকি সমস্ত ক্ষেত্রে শিঞ্জিনীর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’তেই মাইকেলের সবটা নির্ধারিত হলেও, তার সিনেমা করার ইচ্ছেটা একেবারেই মাইকেলের ব্যক্তিগত। একদিকে নিজস্ব কাজ,নিজস্ব রোজগার সাথে সংসারের সকল দায়-দায়িত্বও তার ঘাড়ে, এই টানাপোড়েনের মধ্যেই এগিয়ে চলে শিঞ্জিনীর জীবন ।

তবে এক নবাগত পরিচালক হিসেবে মাইকেলের ছবি তৈরি করার যে পাগলামি তা ছবির ট্রেলার কিংবা টিজারে খুব সহজেই প্রকাশ্য, তবে শিঞ্জিনী অর্থাৎ আমাদের অভিনেত্রী রিল লাইফের সাথে সাথে রিয়াল লাইফেও কি মাইকেলের মত পরিচালকের দেখা পেয়েছেন? স্মিত হেসে স্মৃতিচারণা করতে করতে বলেন,

“সব পরিচালকই কম-বেশি একইরকম। বিগত ১৬ বছরে আমি অনেক নতুন নতুন পরিচালকের সাথে কাজ করেছি, এখনও বহু নতুন পরিচালকের সাথে ছবিতে কাজ করার কথাও চলছে। কাজের জন্য তাদের উন্মাদনা অর্থাৎ ফান্ডের জন্যে বাড়ি বেচে দেবে, মায়ের গয়না বেচে দেবে, চাকরি ছেড়ে দেবে, সেই পাগলামিগুলো ডেফিনেটলি রিয়াল লাইফেও দেখতে পাই এখনও। তাদের মধ্যে হয়ত অনেকেই ভবিষ্যতে অনেক বড় মাপের পরিচালক হতে পেরেছে। আবার কেউ একটা ছবি করার পর অদৃশ্য হয়ে গেছে। কিন্তু সেই পাগলামোটা সব পরিচালকেরই থাকে,কারোর কম, কারোর বেশি!”।

বিদেশের মাটিতে পরিচালক হিসেবে কাজ করলেও বাংলাতে প্রথম কাজ সত্রাজিৎ সেন’র তাই কেমন ছিল সেই অভিজ্ঞতা? জানতে চাইলে স্বস্তিকা’র উত্তর, “সত্রাজিৎ সেন খুবই কাছের বন্ধু। তাছাড়াও এই ছবিটি তৈরির পরিকল্পনা ২০১২সালে, তারপর আবারও ২০১৪ সালে তৈরির পরিকল্পনা হয়, তবে পরিচালক তার ছবির সাথে কোনরকম কম্প্রোমাইজ করতে না চাওয়ায় সেটা হয়ে ওঠেনি। শেষে ২০১৭তে ছবির শুটিং শুরু হয়। এত বছর ধরে দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও চেষ্টার পর এটা খুবই ভালো লাগার একটা জায়গা যে পরিচালক নিজের স্বপ্ন পূরণের সাথে সাথে দর্শকদেরকে দেখাতে চলেছেন মাইকেলের স্বপ্ন পূরণের গল্প”। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ছবির পুরো অনসাম্বল কাস্ট।

এই ছবিতে জড়িয়ে রয়েছে স্বস্তিকার একটা বড় ইমোশনের জায়গা, কারণ এই ছবিতে তার লুকটা ছিল একেবারেই ট্র্যাডিশনাল আর সিনেমা ব্যবহৃত সমস্ত শাড়ি ও গয়না তাঁর মায়ের। স্বাভাবিকভাবেই একটু আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন,

“একটা ছবির কোন আয়ু থাকে না, আমাদের অবর্তমানেও ছবিটা থাকবে।আর সেই ইন্টারনাল দিকটা ভাবলেই মনে হবে মা’ও এই ছবিটির একটা অংশ”।

এইভাবেই তিনি ব্যক্ত করলেন ছবি সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা এবং সব শেষে আমাদের জানালেন – যত মজার ছবি আমাদের মনে রাখার মত হয়েছে তার কিন্তু শুধু সিচুয়েশনগুলোই কমিক, চরিত্র গুলো কমিক নয়।মাইকেলের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই, চরিত্রগুলো তাদের নিজ-নিজ জায়গায় ও জীবনে খুবই স্বাভাবিক, খুবই সিরিয়াস, তবে তাদের আশেপাশে আনুসাঙ্গিক ঘটনাগুলোই এমনভাবে ঘটবে যা দর্শকদেরকে অবশ্যই এন্টারটেন করবে।

তাহলে, এতকিছু জানার পর আপনিও এইবার তৈরি তো ছবিটা আগামী ৯ই ফেব্রুয়ারি আপনার কাছের সিনেমাহলে দেখতে?