“হল” ছেড়ো না বন্ধু, কণ্ঠ ছাড়ো জোরে…

rainbow jelly

‘এক্সিবিটর এক্সিবিটর তোমার বাড়ি যাব, এক্সিবিটর তুমি কি আর সিনেমা নিয়ে ভাবো?’ লাইনটি গতকাল রাত্রে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন সৌকার্য ঘোষাল, কিছুটা এরমই ছিল তার প্রতিক্রিয়া। গত ২৫শে মে মুক্তি পায় সৌকর্য এর ছবি প্রথম সপ্তাহে হাউসফুল শো এবং হল ফেরত দর্শকদের অসাধারণ প্রতিক্রিয়া আবারও প্রমাণ করে দিয়েছে যে ভালো সিনেমা বানানোর জন্য বাজেট বা স্টারডম কোনওটাই মুখ্য নয়, যেটা লাগে সেটা হল ভালো কনটেন্ট। কিন্তু কোথাও গিয়ে যেন বারেবারে ছন্দপতন ঘটছে এই সাধারণ কনসেপ্টের। মোট ২৭টি হলে রেনবো জেলি মুক্তি পেলেও দ্বিতীয় সপ্তাহে তা নেমে আসে ৪টি হলে। যদিও এই ঘটনা প্রথম বা নতুন কিছু নয়, এর আগেও বহুবার হল পাওয়ার দৌড়ে রীতিমত মুখ থুবড়ে পড়েছে ইনডিপেনডেন্ট সিনেমা। প্রদীপ্ত ভট্টাচার্জ্য এর ‘বাকিটা ব্যক্তিগত’ হোক কি ইন্দনীল রায় চৌধুরী এর ‘ফড়িং’ বা কিছুদিন আগেরই মানসমুকুল পালের ছবি ‘সহজপাঠের গপ্পো’, উদাহরণের সংখ্যা নেহাতই কম কিছু নয়। যদিও কথায় আছে, মানুষ ভালো জিনিসের কদর দেরীতে হলেও বোঝে এবং করে। আর তাই হয়তো সহজপাঠের গপ্পো কিছুদিনের মাথাতেই হল থেকে বেড়িয়ে গেলেও, আবারও ফিরেছিল।

কিন্তু এভাবে আর কতদিন এবং এই একই প্রশ্নের উত্তর যে কতদিন খুঁজে যেতে হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। ‘রেনবো জেলি’ যে দর্শকের শুধু পছন্দ হয়েছে তা নয়, ছবির গল্প থেকে শুরু করে তার চরিত্র ঘোঁতন, পপিনস, পরী পিসি সব কিছুই মনে ধরেছে দর্শকের। তাহলে সমস্যাটা ঠিক কোথায়? শহরের নামী দামী প্রযোজনা সংস্থা বা ডিস্ট্রিবিউটারের এ বিষয়ে কোনও ভূমিকা আছে কিনা, এসব নিয়ে জানতে চাইলে ফোনের ওপারে সৌকর্য জানান, “প্রথম সপ্তাহে মাল্টিপ্লেক্সে চারটে হাউস্ফুল শো থাকা সত্বেও রেনবো জেলিকে প্রাইম টাইম থেকে নামিয়ে দেওয়া হল। কিন্তু একটা মাল্টিপ্লেক্সে একদিনে প্রায় ২৫টা শো চলে। কোনও বড় ডিস্ট্রিবিউটারকে ঈঙ্গিত করলেও তারা ৫ থেকে ৬টা শো নেয়। আরও অনেক শো বাকি থাকে। এক্সিবিউটার চাইলে একটা ছবি রেখে দেওয়া কোনও ব্যপারই না।” তাহলে কি কোথাও গিয়ে কনটেন্টের থেকেও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে স্টারডম? জানাচ্ছেন, “আমার মনে পড়ে না লাস্ট বাংলার কোন সিনেমার জন্য সমস্ত বাংলার পত্র পত্রিকা একটাও নেগেটিভ কথা লেখেন নি, দে অনলি সেইড গুড অ্যবাউট রেনব জেলি। ছবিটা হল থেকে চলে যাওয়ার পর দর্শক যতটা রিপারকেশন দেখিয়েছে আমারও হয়তো ততটা হয়নি। ছবিটা ফিরে এলে হয়তো তাদের অন্তরের বিশ্বাস ফিরে আসবে।”

শুধু মাত্র দর্শক না, এগিয়ে এসেছেন টলি মহলের অনেকেই। গতকাল মীর সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র আক্ষেপ করে জানান যে এই ঘটনায় তিনি অবাক হননি। এটা একটা রোগের মত যা হয়তো সারার নয়। হাল ছাড়তে না জানিয়ে তিনি বলেন ইন্ডিপেনডেন্ট সিনেমা এই কাজগুলির মধ্য দিয়েই এগিয়ে চলবে। অন্যদিকে আক্ষেপের সুর তিমির বিশ্বাস এর লেখাতেও “কিছুই করতে পারছি না! চুপ করে থাকাও সম্ভব নয়! ভালো কাজ এভাবেই যন্ত্রনা পেয়ে চলেছে”।

তবে এত কিছুর পরেও দ্বিতীয় সপ্তাহ নিয়ে ভীষণ ভাবে আশাবাদী সৌকর্য। রেনবো জেলি নিয়ে তার কণ্ঠে আত্মবিশাস স্পষ্ট, “ভোরের আগের রাত খুবই অন্ধকার”। এখন আপনাদের কাছে একটাই আবেদন, বাংলা সিনেমার স্বার্থে ‘হাল’ বা ‘হল’ কোনওটাই ছাড়বেন না। ভালো ছবির পাশে থাকুন, বাংলা ছবির পাশে থাকুন।