“খুব ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে”,মত ‘নবীনা’র কর্ণধারের…

প্রিয়া ও নবীনা, কলকাতার বুকে এই দুই বিখ্যাত সিনেমাহলের রেষারেষি, কোনও নতুন খবর নয়! এবার এই রেষারেষির মুখেই পড়তে হল নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মূখার্জী পরিচালিত ছবিহামি কে। আগামীকাল অর্থাৎ ১১ই মে মুক্তি পেতে চলেছে ‘হামি’, আর মুক্তির আগের দিনেই পরিচালকদ্বয় সম্মুখীন হলেন চরম ভোগান্তির। বাংলায় মোট ৯০টি হলে হামি মুক্তি পেলেও, সেই হলের তালিকা থেকে বাদ পরেছে কলাকাতার ৭টি নামী হল – প্রিয়া, অশোকা, অজন্তা, মেনকা, মালঞ্চ, বসুশ্রী ও প্রাচী। এ প্রসঙ্গে বলাই বাহুল্য, বাংলা সিনেমায় গত কয়েক বছরে শিবু-নন্দিতা জুটির যা রেকর্ড, সাথে দর্শক যেভাবে মুখিয়ে থাকেন তাদের ছবির জন্য, সে ক্ষেত্রে এই সাতটি হলের হামি না চালানোর ঘটনা খুবই অস্বাভাবিক। অথচ এই প্রিয়া’তেই হয়েছে উইন্ডোজের বেশ কিছু সিনেমার প্রিমিয়ার!

জানা যাচ্ছে, ‘নবীনা’তে “হামি” মুক্তি পেলে শহরের সাতটি হল “হামি” চালাবে না। আর এই পুরো ঘটনার মুখ্য চরিত্র হিসাবে উঠে এসেছে প্রিয়া সিনেমার মালিক অরিজিৎ দত্তের নাম। প্রিয়াতে ইতিমধ্যেই ‘অ্যভেঞ্জারস ইনফিনিটি ওয়ার’ চলছে, আগামীকাল মুক্তি পাবে ‘রাজি’। তাই সমস্যাটা যে হিন্দি বা ইংরাজী ছবি নিয়ে নয়, বরং একমাত্র বাংলা ছবি নিয়েই, এমনটাই মনে করছেন শিবপ্রসাদ। বাকিসব হল মালিকেরা এই ঘটনার ব্যখ্যাকে সঠিক বলে মনে না করায়, এই ঘটনাকে কোনও গুরুত্ব না দিলেও, নাইট শো’তে হামি চালাতে চেয়েছিলেন এমনটা মত অরিজিৎ দত্তের। সাথে তার অভিযোগ নাইট শো’তে ছবি চালানোর প্রস্তাবে রাজি নন “হামি” এর টিম। অন্যদিকে, অরিজিৎের এই বক্তব্যকে উড়িয়ে দিয়ে, শিবপ্রসাদের সাফ মন্তব্য নাইট শো দেওয়ার ব্যপারে কোনও কথাই নাকি বলা হয়নি বরং জানানো হয়েছে কোনও শো’ই দেওয়া যাবে না। তাছাড়া, যেখানে সিনেপলিসে রাত্রির দশটার শো’তেও দেখানো হবে হামি, সেখানে প্রিয়াতে নাইট শো’তে ছবি চালানোর আবেদন প্রত্যাখ্যান করার কোনও কারণই দেখছেন না শিবপ্রসাদ।

নবীনাকে শো দেবেন কথা দেওয়ার পরে, এই সাতটি হলের কথা ভেবে সেই জায়গা থেকে পিছিয়ে আসতে নারাজ উইন্ডোজের কর্ণধার অতনু রায়চৌধুরী। আবার এদিকে “হামি”কে নাইট শো দেওয়া ছাড়া কোনও উপায় দেখছেন না অরিজিৎ কারণ ইতিমধ্যেই “দৃষ্টিকোণ” খুব ভালো ব্যবসা করছে প্রিয়াতে, তাছাড়া অ্যভেঞ্জারস এর সাথে তিনি চুক্তিবদ্ধ, আর “রাজি” এর ডিস্ট্রিবিউটারের সাথে তার সম্পর্ক বহু পুরনো। এই বক্তব্যকে ঘিরে হেসে নবীনার কর্ণধার নবীনা চৌখানিকে ফোনের ওপারে জবাব, “রাজি’র ডিস্ট্রিবিউটার আমারও রেগুলার ডিস্ট্রিবিউটার, কিন্তু আমি “রাজি”কে নুন ও নাইট শো’তে রেখে বাংলা সিনেমাকে আগে প্রেফারেন্স দিয়েছি যেটা রাজি অ্যক্সেপ্টও করেছে। আমার ক্ষেত্রে যেটা মেনে নিচ্ছে সেটা ওদের ক্ষেত্রে কেন মানবে না”।

এরকম ঘটনার মুখে আগেও পরতে হয়েছে নবীনাকে, এই প্রসঙ্গে তিনি জানাচ্ছেন, “প্রত্যেক সময়েই নবীনা নিয়ে অবজেকশন এসেছে, এটা আপনি যে কোনও প্রডিউসার বা ডিস্ট্রিবিউটারকে জিজ্ঞেস করলেই বলে দেবে। শিবুদা যেভাবে এই ব্যপারে রুখে দাঁড়িয়েছেন, আশা করি এবার লোকে এই জিনিসটা নিয়ে ভাববে, এটা সামনে আসা উচিৎ ছিল!”। কিন্তু এই ঘটনা যে একেবারেই প্রত্যাশিত নয় সে বিষয়ে তাঁর মত, “ওদের এই সিদ্ধান্ত যে কতটা ভুল সেটা সকলেই বুঝছে।খুব ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আমি যদি কাল বলি যে প্রিয়াতে শো দিলে আমি ছবি চালাবো না, তাহলে আমিও ভুল করছি”।

প্রিয়া সহ বাকি এই হলগুলি যে রেষারেষিতে মেতেছে তাতে যে আল্টিমেটলি বাংলা সিনেমারই ক্ষতি এ বিষয়ে একমত হামির পরিচালক ও প্রোডিউসার উভয়ই। এই অবস্থা চলতে থাকলে বাংলা ছবি আগামী দিনে যে ঘোর বিপদের মুখে পড়বে না, এই সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই ‘বাংলা সিনেমা দেখুন, বাংলা সিনেমার পাশে থাকুন’ – এই মন্ত্রই হোক মূল মন্ত্র। কালকে রিলিজ করছে “হামি”,  অবশ্যই দেখুন এবং জানান আপনাদের অভিজ্ঞতা…