এবার কট্টর হিন্দুধর্ম সংগঠনের হুমকিতে আক্রান্ত বাংলা সিনেমার স্বাধীনতা!

কিছুদিন আগেই ‘পদ্মাবতী’ বিতর্কে তুলকালাম হয় গোটা ভারত। শিল্পের স্বাধীনতাতে হস্তক্ষেপ করা চলবে না এই দাবিতে নানা ভাবে প্রতিবাদ করে মুম্বাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে আমাদের টলিপাড়াও। কর্নিসেনাদের পর এবার নতুন করে শিরোনামে হিন্দু জাগরণ মঞ্চ, এঁদের লক্ষ্য একটি বাংলা সিনেমা, ‘রঙবেরঙের কড়ি’, পরিচালনা করেছেন রঞ্জন ঘোষ। ওনার আগের সিনেমা ‘হৃদমাঝারে’ পেয়েছিল দর্শক এবং ক্রিটিকদের কাছে একটা বিশেষ জায়গা সেখান থেকে অনেকেরই উৎসাহ ছিল তাঁর পরবর্তী সিনেমা নিয়ে। সোহম, অরুনিমা, ঋতুপর্না, চিরঞ্জিত, ঋত্বিক অভিনীত এই সিনেমা ঘিরে শুরু হয়েছে অন্য একটা বিতর্ক!

হিন্দু জাগরণ মঞ্চের দাবি, সিনেমাতে সোহম ও অরুনিমা’র যে চরিত্র আছে তার নাম যথাক্রমে রাম ও সীতা। এই নাম দুটো সরিয়ে দিতে হবে তার কারণ সিনেমাতে এই দুই চরিত্রের ডিভোর্সের সিন আছে যেটা নাকি হিন্দু ধর্মের ইতিহাস বিকৃত করছে, নাম না সরানো হলে সিনেমাটা রিলিজ করা যাবে না, এইরকমই একটা বিবৃতি দিয়ে সিবিএফসি’র প্রসূন যোশী, স্মৃতি ইরানী’কে মেল করে ঐ হিন্দু ধর্ম সংগঠন।

এবার প্রশ্ন হচ্ছে সিনেমার কোন কিছুই এখন জনসমক্ষে আসে নি তবে লিক হল কোথা থেকে? পরিচিত কেউ কি শত্রুতা মেটাচ্ছে ? সে প্রসঙ্গে পরিচালক ঘোষ জানান,

“বোধহয় গোয়া ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল বা দুবাই ফিল্ম মার্কেটে সিনেমাটার স্ক্রিনিং হয়, সেখান থেকেই কোনভাবে ওরা জানতে পারে এবং মেল করে!”

তাহলে কি অভিযোগ সত্যি? ফোনের ওপারে পরিচালকের শান্ত জবাব, “রামায়ণ নিয়ে কোনকিছুই সিনেমাতে নেই আর ইতিহাস বিকৃতির প্রশ্নই ওঠে না! আগে তো সিনেমাটা দেখুক তারপর না হয় এসব প্রশ্ন তুলবেন! এরকম যদি হয় তবে তো শরৎচন্দ্রের ‘রামের সুমতি’ আগে ব্যান হয়ে যাওয়া উচিৎ, এগুলো সস্তার পাবলিসিটি ছাড়া কিছুই নয়।” এখনো সিবিএফসি’তে স্ক্রিনিং হয় নি সিনেমাটার এবং পরিচালকসহ পুরো টিম ভরসা রাখছেন প্রসূন যোশীদের টিমের উপর, ওনাদের বক্তব্য না শোনা অবধি কোনরকম পদক্ষেপ নেবেন না পরিচালক ওদিকে হিন্দু জাগরণ মঞ্চ ঘোষণা করে রেখেছেন তাঁরা কোর্টে যাবেন যদি সিনেমাটা রিলিজের অনুমতি দেয় সিবিএফসি বোর্ড, সেখানেও ভীষণ আত্মবিশ্বাসী পরিচালক যে কোর্টে গিয়ে কিছুই প্রমান করতে পারবে না ওরা!

‘রাম’-‘সীতা’ নামদুটো না সরালে সিনেমার মুক্তি নিয়ে চাপ তৈরি করছে এই হিন্দু ধর্ম সংগঠন, এখন দেখার বিষয় ‘পদ্মাবতী’ বিতর্কে যেভাবে বনশালি’র পাশে দাঁড়িয়েছিল গোটা টলিপাড়া এই ক্ষেত্রেও কতোটা সহযোগিতা করে ইন্ডাস্ট্রি। বাংলা সিনেমার স্বাধীনতা এখন সত্যি দাঁড়িয়ে আছে প্রশ্নের মুখে! আপনারা অবশ্যই জানান আপনাদের মতামত কারণ যেকোন সিনেমার ভবিষ্যৎ থাকে আপনাদেরই হাতে…!