ফিরে দেখা মহানায়ক!

বর্তমান বা ভবিষ্যৎ যতই এগিয়ে থাকুক উত্তম কুমারের কৃতিত্বের কাছে সর্বদাই ফিকে পড়ে যাবে আজকের দিনগুলি। তবে তাঁর কৃতিত্ব আজও জানান দেয় 'তুমি রবে নিরবে'।

বাংলা চলচ্চিত্র যদি একটি সাজানো গ্যালারি হয় তাহলে তাতে রোজদিনই জুড়ে যাচ্ছে কমবেশি কিছু ছবি। তবে সবকটাই যে সাজানো গোছানো তা ভাবা ভুল। মুঠোভর্তি নজর কাড়া সৃষ্টির সাথে দু একটা ব্যতিক্রম তেমন বাহুল্যের কিছু না। হালফিলাল ছোট-বড়ো সব ধরনেরই ছবি বাংলার কড়া নেড়েছে। একই সাথে সামিল হয়েছে নতুন প্রজন্মের শিল্পীরাও। আপাতত তাদের হাত ধরে কোনোক্রমে সুরক্ষিত বাংলা ছবির আগামী ভবিষ্যৎ। গ্যালারিতে সাজ আছে, সজ্জা আছে, রয়েছে নানান স্বাদের বোঝাপড়াও। অভাব কেবল একটি মজবুত খুটির। ১৯ শতাব্দীর ইতি টানার মাত্র কিছু সময় বাকি থাকতে এই খুটির সন্ধান অবশ্য মিলেছিলো বাংলায়। বাংলা চলচ্চিত্র যাত্রা শুরু করলেও তখনো নামডাক তেমন আসেনি।

সময়টা ১৯৪৮ বা তার আগের। ‘দৃষ্টি দান’ নামের ছবিতে ডেবিউ করলেন অরুণ কুমার চ্যাটার্জী। পরপর হাতে আরও দু-চারটে ছবি এলেও মোটের ওপর সবকটাই নিরাশ করলো বক্স অফিসে। অভিনয় থেকে অবসান নিয়ে বাকি জীবন আর পাঁচটা মানুষের মতোই কাটিয়ে ফেলার সিদ্ধান্তে উপনিত হলেন অরুণ কুমার চ্যাটার্জী। রীতিমতো চাকুরী জীবন শুরু করলেন কলকাতার পোর্টে। যার জন্ম সিনেমার জন্য সে কিভাবেই বা কাজে মন টিকিয়ে রাখে। ব্যাপারটা বুঝতে পারলেন স্ত্রী গৌরী চ্যাটার্জী। শেষমেষ স্ত্রীর কথায় আবারও অভিনয়ের ভিত ধরলেন অরুণ।

এবারে জুটি বেঁধে ফেললেন সূচিত্রা সেন’র সাথে। সৌজন্যে ‘অগ্নিপরীক্ষা’। সেদিনের অরুণ কুমার চ্যাটার্জী আজ বড়ো হরফে বাঁধা পড়েছে উত্তম কুমার নামে। বর্তমান দিনে যেমন নবাগতদের অভাব নেই তেমনই সচ্ছলতা আছে প্রযুক্তি নিয়েও। তবে ১৯ শতাব্দীতে আবির্ভূত হওয়া সেই চিরন্তন খুটি’টিকে আর ফিরে পাওয়া যায়নি। তাঁর সমকালীন শিল্পীরা অনেকেই রয়েছেন বা মারা গেছেন। আপাতত তাদের আঁকড়ে ধরেই খোলা আকাশে ডানা ঝাপটাচ্ছে বাংলা সিনেমা।

বর্তমান বা ভবিষ্যৎ যতই এগিয়ে থাকুক উত্তম কুমারের কৃতিত্বের কাছে সর্বদাই ফিকে পড়ে যাবে আজকের দিনগুলি। কারণ মৃত্যু দেহের হয় শিল্পীর না। ১৯২৬ সালের আজকের দিনেই জন্ম নেন মহানায়ক উত্তম কুমার। প্রায় ৩৭ টি বছর আগে তিনি ছেড়ে চলে গেছেন বাংলা সিনেমাকে। তবে তাঁর কৃতিত্ব আজও জানান দেয় ‘তুমি রবে নিরবে’।