টলিপাড়ার হাঁড়ির খবর নিয়ে পরিবেশন করতে তৈরি মৈনাক!

মৈনাক ভৌমিক। শুধু এই নামটাই এখনকার বাঙালি সিনেমাদর্শকদের কাছে বাড়তি কৌতূহল যোগাতে যথেষ্ট।

মৈনাক ভৌমিক। শুধু এই নামটাই এখনকার বাঙালি সিনেমাদর্শকদের কাছে বাড়তি কৌতূহল যোগাতে যথেষ্ট। তাঁর প্রতিটি সিনেমা বিষয়বৈচিত্র‍্যে, মেজাজে, টোন-এ অন্যগুলোর থেকে আলাদা। আর এই ভ্যারিয়েশনের মধ্যে দিয়েই বাংলার সিনেমাজগতে এই অল্প বয়সেই একটা আলাদা জায়গা করে নিতে পেরেছেন তিনি।

কিন্তু এতদিন ধরে সম্পর্কের টানাপোড়েন, জীবনযাত্রা, প্রেম-বিরহ ভালোবাসা পর্দায় ফুটিয়ে তোলার পর এই প্রথম বোধ হয় সরাসরি একটা আদ্যোপান্ত স্যাটায়ারধর্মী ছবি করে ফেলেছেন মৈনাক! শিগগিরই মুক্তি পেতে চলা ‘চলচ্চিত্র সার্কাস’ একেবারে নাম থেকেই বুঝিয়ে দিচ্ছে, ঠিক কোন জায়গাটাকে ধরতে চায় তার বিষয়বস্তু।

ইন্ডাস্ট্রিতে নয় নয় করে বেশ কয়েকটা বছর কাটিয়ে ফেলেছেন মৈনাক। তাই ইন্ডাস্ট্রির চালচলন, হালহকিকত তাঁর নখদর্পণে থাকাই স্বাভাবিক। আর সেখান থেকেই প্রতিটি অসামঞ্জস্যকে, প্রতিটি অসঙ্গতিকে কৌতুকের রসে ডুবিয়ে, কাহিনীর সুতোয় গেঁথে পেশ করতে চলেছেন তিনি। সেখানে আছে অনভিজ্ঞ পরিচালক, মেগালোম্যানিয়াক নায়ক, কনফিউজড নায়িকা, লোভী প্রোডিউসার… এক কথায় বেশ কিছু ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্টিরিওটাইপ। গ্ল্যামার জগতের পি এন পি সি, ব্যাকস্ট্যাবিংও উঠে এসেছে টুকরো টুকরো মজার মাধ্যমে। ট্রেলার থেকেই স্পষ্ট, মৈনাক একহাত নিয়েছেন “ফর্মুলা ছবি” এবং তথাকথিত “অন্য ধারার ছবি” সবাইকেই।

শক্তিশালী অভিনেতারা এই ছবির সম্পদ। সেটা ট্রেলারের ঝলকেই বেশ বোঝা যাচ্ছে। ঋত্বিক-পাওলি-বিশ্বনাথ-অরিন্দম-রুদ্রনীল-পায়েল-তনুশ্রী-কনীনিকা-নীল… দারুণ এই এনসেম্বল কাস্টের সাথে আছে মৈনাকের সিনেমার স্ট্রংপয়েন্ট – ঝকঝকে গান আর বুদ্ধিযুক্ত সংলাপ।

কিন্তু গান, অভিনেতা ছাড়াও দর্শকরা কিন্তু অন্য আরেকটা অদম্য কৌতূহল নিয়ে যাবেন চলচ্চিত্র সার্কাস দেখতে – টালিগঞ্জের হাঁড়ির খবর জানার কৌতূহল যে কমবেশি সকলেরই! আর এখানেই মৈনাকের আউট-অফ-দ্য বক্স ভাবনার বাজিমাত। অবশ্য, ছবিটা সত্যিই একটা সুন্দর বুদ্ধিদীপ্ত ছবি হয়ে উঠছে কি না, কিম্বা আসলে অনেকটাই গিমিক কি না, জানতে হলে কিন্তু চোখ রাখতে হবে সেই চলচ্চিত্র সার্কাস… থুড়ি, প্রেক্ষাগৃহে!