সিনেমা বানাচ্ছেন! বড় নাম আছে তো?

লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশ্যানে সারাবছরই মেতে থাকে বলিউড থেকে টলিউড সহ গোটা দুনিয়ার সিনেপ্রেমীরা। কোনও সিনেমা হিট হয়। কোনোটা বা ফ্লপ। কোনোটা আবার সুপারহিট। কিছু সিনেমা থাকে যেগুলি শেষ হওয়ার আগেই সিনেমা হল থেকে বেড়িয়ে আসার উপক্রম হয়। কিছু আবার বক্স অফিসে সাফল্য না পেলেও জায়গা করে নেয় দর্শকের মনের গভীরে। এরকম নানান সমীকরণের মায়াজালে সিনেমার সাফল্য আবদ্ধ হলেও সিনেমা বানানোর তাগিদের কোন খামতি থাকেনা বছরভর। প্রযুক্তির কল্যাণে হাতে ধরা মুঠোফোনটিও এখন সিনেমার স্ক্রিন হয়ে উঠেছে। আর সেই দৌলতেই সৃজিত মুখার্জি থেকে ওপাড়ার ঘনাদা সবাই এখন সিনেমার কেন্দ্রবিন্দুতে।

এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে একটা সিনেমা বানানো কি এতই সহজ?

সিনেমা বানাতে গেলে প্রয়োজনীয় উপকরণগুলি আসলে কি কি? একটা ক্যামেরা, ঘরের কোণায় কিছু লাইট, কয়েকজন অভিনেতা-অভিনেত্রী আর জনা কয়েক কলা-কুশলীতেই কি একটা সিনেমা তৈরি হয়ে যায়? ব্যাপারটা কিন্তু কোনমতেই আসলে ততটা জলবৎ তরলং নয়!

ভালো সিনেমা বানাতে বাজেট যেমন অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় না গল্পই কথা বলে, তেমনি ভালো সিনেমা বানাতে গেলে বাজেটও আবার কথা বলে। বাজেটের ক্ষেত্রে প্রযোজকের সম্মতি আদায় করতে বিস্তর কাঠখড় পোড়াতেও হয় বলে শিরোনামে এসেছে অনেক সময়। সিনেমার প্রযোজনা এখন আর এককভাবে হয় না। এক বা একাধিক প্রযোজনা সংস্থা একত্রে প্রযোজনার দায়িত্বে থাকে, সঙ্গে থাকে নানারকম বিজ্ঞাপনী সংস্থা।

প্রযোজকের কথায় চেনা মুখ, সুন্দর লোকেশন, আইটেম ড্যান্সে ভরপুর করতে গিয়ে অনেকসময়ই কম্প্রোমাইস করতে বাধ্য হন পরিচালকরা। আবার বাজেটের প্রসঙ্গ আনতে গিয়ে স্টারকাস্ট কারা আছে এমন প্রশ্নেরও সম্মুখীন হতে হয় বিজ্ঞাপনী এজেন্সির তরফ থেকে। এজন্য চলার আগেই মুখ থুবড়ে পড়তে হয় অনেক স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাকেই। তবে সব দোষ কি শুধু প্রযোজনা সংস্থারই বলা যায়? আসলে ব্যাপারটা অনেকাংশেই নির্ভর করে দর্শকের উপর কারণ দর্শকের জন্যই সিনেমা, সিনেমার জন্য দর্শক নয়।

গল্প থেকে দর্শকের অধিক দৃষ্টি আকর্ষণ করেন স্টারকাস্টরাই, চেনা মুখের দর্শনে চাহিদা কমে আসে ভালো গল্পের। বিগত কয়েক বছরে জাতীয় পুরষ্কারপ্রাপ্ত ছবি ‘ছোটদের ছবি’, ‘সহজ পাঠের গপ্পো’ ছাড়া তথাকথিত চেনা মুখের ভীড়েই আটকে বাংলা সিনেমার দর্শককুল। তাই ভালো গল্পের চাহিদা দর্শকের কাছে না বাড়লে চেনা মুখ খোঁজার ট্যাবু ভেঙে ব্যাপ্তি হবে না বাংলা সিনেমার। প্রচারের যুগে প্রিয় তারকাদের মুখ প্রচারের বড় মাধ্যম হলেও শেষমেশ গল্পই কিন্তু কথা বলে। স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতারা উপযুক্ত বাজেটের অভাবে তাদের শিল্পকে প্রচারের আলোয় আনতে ব্যর্থ হলেও অনেকসময় জীবনের জন্য বা সমাজের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা তুলে ধরেন তাদের গল্পে। কিন্তু সেই গল্প বেশীর ভাগ সময়েই থেকে যায় দেওয়ালের কোন পোস্টার হয়ে। তাই ভালো গল্পের চাহিদা না চেনা মুখ, প্রশ্নটা কিন্তু আপনার কাছে থেকেই যায়!