“স্যান্ড আর্টিস্ট কৌশিক” এই নামেই চেনে গোটা বিশ্ব! আর আপনি?

প্রত্যেকটা মানুষেরই নিজের চিন্তা-ভাবনা প্রকাশ করার বিভিন্ন রকম পদ্ধতি থাকে। আর সেই মনের ভাবনাকে প্রকাশ করতে গিয়েই কোথায় গিয়ে যেন মানুষের ক্রিয়েটিভিটা প্রকাশ পায়। হোক না সেটা নাচ, গান, আবৃত্তি, সিনেমা বা ধরুণ স্যান্ড আর্ট। এই ‘স্যান্ড আর্ট’ এর সাথে কলকাতার মানুষের পরিচিতি কিন্তু খুব বেশি নয়, বা পরিচয় থাকলেও তা খুব বেশি দিনের নয়। শুধুমাত্র বালির উপর কয়েকটা আঙুলের চলন, যা থেকে জন্ম নেয় অসাধারণ এক আর্ট, বর্তমানে যা পরিচিত ‘স্যান্ড অ্যনিমেশন’ নামে। ফর্মুলা ওয়ানের রেস হোক কি টি-টুয়েন্টি ওয়ার্ল্ড কাপ সব জায়গাতেই ডাক পড়ে তাঁর! কিছুদিন আগেই ‘কবীর’ ছবির হাত ধরে বাংলা সিনেমায় স্যান্ড অনিমেশনের পদার্পণ হয়। আর সেই স্যান্ড আর্টিস্ট কৌশিক বোস, যিনি স্যান্ড কৌশিক বা বি. কৌশিক নামেই বেশি জনপ্রিয় তাকে ধরা হল ফোনের ওপারে। নিজের জার্নি থেকে শুরু করে বাংলায় স্যান্ড আর্ট ও আর্টিস্টদের বর্তমান পরিস্থিতি সবকিছুই উঠে এল কথা প্রসঙ্গে –

এই আর্ট নিয়ে কাজ করার উৎসাহ কখন পেলেন বা এটাকে প্রফেশন করার কথা কীভাবে মাথায় এল? উত্তরে তিনি জানাচ্ছেন, ‘ছোটবেলায় শিলং এ থাকতাম, রাজনৈতিক কারণে ওখান থেকে চলে আসতে হয়। তারপর কিছুদিন রিফিউজি ক্যাম্পে ছিলাম। সেখানে ক্যাম্পের জানলায় শিশির পড়তো, তখন বিভিন্ন গল্প জানলায় ছবির মতো আঁকতাম। ওটাই আমার নিজস্বতা মনে হতো, কিন্তু কাউকে বোঝাতে পারতাম না। তারপর বড় হয়ে পড়াশোনা করে জব-ওয়ার্ক করতাম। কিন্তু একটা সময়ের পর একই কাজ করতে করতে ক্লান্ত লাগত। তখন অন্যকিছু করার কথা ভাবার সময়েই এই আর্টের কথা মাথায় আসে। তারপর কাজ করতে করতে পরিচিতি পাই’।

Sand Artist Kaushik Bose

কবীর ছবির মাধ্যমে বাংলা সিনেমায় প্রথম এই আর্ট ফর্ম ইন্টিগ্রেট হয়, দর্শকের খুব ভালো লেগেছিল বিষয়টা, সেই এক্সপিরিয়েন্সটা কেমন ছিল? ‘অনেকদিন ধরেই বাইরে কাজ করছি। ইভেন্ট লাইনে আমার বেশ চাহিদা আছে। বাংলায় কাজ করার ইচ্ছা ছিল অনেক দিনের। এখানকার লোক আমাকে চিনুক এই ক্ষিদেটা ছিল। বাংলায় স্যান্ড আর্ট বলতেই লোকে ওড়িষ্যার কথা ভাবে। এখানে নতুন কোনও আর্টকে লোকে আলাদা ভাবে গুরুত্ব দেয় না। অনেক স্টেজ বা টি.ভি. শো করেছি কিন্তু, আমার কাজের ক্রেডিট সেভাবে দেয়নি কখনও। কিন্তু দেব আমার কাজে নতুনত্ব পেয়ে, এটাকে গুরুত্ব দেয়’।

কবীরের পর বাংলায় কেমন রেসপন্স পাচ্ছেন? “পরিচিতি বেড়েছে এখানে, কিন্তু অর্থ বা কাজের ব্যস্ততা আগে যেখান থেকে আসতো সেখান থেকেই আসে, নতুন করে কিছু হয়নি এখানে”।

কী মনে হয় এখানে এই কাজের রেভিনিউ কম? “এটা একটু কস্টলি। যাদের আর্থিক ক্ষমতা আছে তাদের বাবা-মা কে নিয়ে অনেক সময় সমস্যা হয়। প্যরেন্টিং ভালো হলে সমস্ত ব্যপারটাই অনেক চেঞ্জ হয়ে যাবে। বাবা মা যদি বাড়িতে কালচারটা বজায় রাখেন, তাহলে বাচ্চার মধ্যে আর্ট নিয়ে ইন্টারেস্ট থাকে। এরকমও হয় বাইরে থেকে দুজন এসে অনেক টাকা দিয়ে শিখে যায়। বাংলায় স্যান্ড আর্টটা দাঁড় করানোর জন্য যাদের দরকার তাদের আগ্রহ এখনও অবধি পাইনি এক্সেপ্ট দেব”।

আরও পড়ুন : এক জোড়া জুটি নিয়ে এবার হাজির হবে সুরিন্দর ফিল্মস!

তাহলে বাংলায় স্যান্ড আর্ট নিয়ে অ্যওয়ারনেস তৈরী করার কোনও প্ল্যান আছে কি? “নিঃশব্দে করছি সেই কাজ। বাউলদের নিয়ে কাজ করছি। তাছাড়া যাদের সত্যিকারের এই আর্ট শেখার ইচ্ছা তাদেরই শেখাবো। এখনই কোনও স্কুল খোলার কথা ভাবছি না”।

বাংলায় এখন কি কি কাজ চলছে জানতে চাইলে তিনি জানান, “রবীন্দ্রনাথের উপর কিছু কাজ চলছে। আমার লক্ষ্য মোটিভেশনাল কাজ করা, যা সমাজকে পরিবর্তন করবে। যদি ভালো কিছু লোকের সংস্পর্শ পাই তাহলে ভালো করে কাজ করতে পারব”। আবারও কোনও সিনেমায় কাজ দেখা যেতে পারে কি? “সিনেমা নিয়ে কিছু প্ল্যান করছি। পৃথিবীতে আগে কখনও হয়নি এরম কোনও সিনেমা। তার জন্য একটু সময় লাগবে, এটা আগে হয় নি এখানে”…

Sand Artist Kaushik Bose