জোকারের গল্প !

খনকার প্রজন্মের কাছে জোকার হল অন্যতম প্রিয় ভিলেন চরিত্র। ডার্ক নাইটের দৌলতে সেটা হয়েছে আরো বেশি। জানেন কি জোকারের সৃষ্টি কিভাবে হয়েছিল? জানা যাক সেটা। ১৯২৮ সালে মুক্তি পায় ভিক্টর হুগোর উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত একই নামের সিনেমা ‘দ্যা ম্যান হু লাফস্’, যার কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘গুইনপ্লেইন’- এর উপর ভিত্তি করেই আঁকা হয় জোকারকে। এর পেছনে অবদান রয়েছে বব কেন, বিল ফিঙ্গার এবং জেরি রবিনসন তিনজনেরই। তবে বব, জেরি রবিনসনের কৃতিত্ব শিকার করতে নারাজ ছিলেন; অনদিকে রবিনসনও নিজের অবদান বেশি বলে দাবি করে বেড়াতেন। তাই ‘জোকার’ চরিত্র নির্মাণের পিছনে এই দুজনের মধ্যে কার অবদান আসলে বেশি, এ বিষয়টি কিছুটা বিতর্কিত। কিন্তু কাহিনী লেখার পেছনে ফিঙ্গারের অবদানের কথা আবার স্বীকার করতেন দুজনেই। ১৯৪০ এ জোকার ছিল একটি ভাঁড় চরিত্র। কিছুদিন পর সেটাকে পাঠকদের অনুরোধে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর জোকারকে আরো নিষ্ঠুর প্রকৃতির করা হয়। বই-সিনেমা সবখানেই জোকারকে তুলে ধরা হয় ‘স্যাডিস্টিক সেন্স অফ হিউমার’ বিশিষ্ট এক মানসিক বিকারগ্রস্ত ব্যক্তি হিসেবে। তার প্রধান কাজ হচ্ছে সবসময় ব্যাটম্যানের পেছনে লেগে থাকা। তবে ব্যাটম্যানের চিরশত্রুর পরিচয় ছাড়াও সে ডি.সি. ইউনিভার্সের ভয়ংকর ভিলেনদের মধ্যে একজন। সৃষ্টির আজ এত বছর পরেও তার অরিজিন সম্পর্কে কেউ কিছু জানে না। বেশ কিছু কমিকসে তার অতীত কিছু ঘটনা বললেও ডিসি কমিকস স্পষ্টভাবে কোথাও তার অরিজিন তুলে ধরেনি। বিখ্যাত ব্রিটিশ লেখক আল্যান মুর তাঁর ‘দ্য কিলিং জোক’ কমিক বইয়ে জোকারের একটি অতীত জীবন তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন। জোকারের উৎপত্তির অনেকগুলো গল্পের মধ্যে সেটি অন্যতম। পরে ১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া টিম বার্টনের ‘ব্যাটম্যান’ মুভিতে দ্য কিলিং জোকের মতো করেই একটি অরিজিন দেখানো হয়েছিল, তবে সেটা সকলের মনঃপুত হয়নি।